সিডনির সমুদ্রসৈকতে এত মানুষ ন’গ্ন হয়ে ছবি তুলল কেন

2220

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচ সমুদ্রসৈকতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ন’গ্ন হয়ে ছবি তুলেছে।

তারা স্কিন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি শিল্পকর্মের জন্য গত শনিবার ভোরের আলোয় এভাবে পোজ দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

স্পেন্সার টিউনিক নামের একজন মার্কিন চিত্রগ্রাহক এই ফটোশুটের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করতেই তিনি এই প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।

ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এটি তাঁর সর্বশেষ প্রকল্প বলেও জানিয়েছেন স্পেন্সার।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো সমুদ্রসৈকতে জনসাধারণকে ন’গ্ন হয়ে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকার আইনও পরিবর্তন করেছে। 

এদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভোর ৪টায় একটি ছোট কমলা রঙের ক্রেনের ওপর দাঁড়িয়ে ফটোশুট শুরু করেছিলেন স্পেন্সার টিউনিক। তখন অংশগ্রহণকারীরা আলো-

আঁধারি পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছিল এবং সমুদ্র থেকে ভেসে আসা ভোরের নির্মল বাতাস ফুসফুসে ভরে নিচ্ছিল। 

কেউ কেউ উষ্ণতার জন্য তাদের শরীরে চাদর জড়িয়ে রেখেছিল। কেউ কেউ সূর্যোদয়ের ছবি তুলছিল। কিছু পরে তারা শরীরের জামা-কাপড় খুলে ফেলে এবং হাত ধরাধরি করে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যায়।

সাড়ে ৫টার দিকে সমুদ্রসৈকত ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। তখন টিউনিক সবাইকে পূর্বনির্ধারিত ভঙ্গিতে পোজ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘যারা জামাকাপড় পরে আছো, তারা ফ্রেম থেকে বেরিয়ে যাও। দয়া করে হাসাহাসি করবে না। পরস্পরের হাত ধরে এক লাইনে দাঁড়াও।’

ব্যতিক্রমী এই ফটোশুটে অংশ নেওয়া ক্ল্যাডেরা নামের এক ব্যক্তি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘আমি আগে কখনো এভাবে ন’গ্ন হয়ে ছবি তুলিনি। একটি নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আমি রাত ৩টায় সমুদ্রসৈকতে এসেছি।’

স্পেন্সার টিউনিকের এই ফটোশুট শেষ হয় সকাল ৭টায়। এর পরেও অনেকে ন’গ্ন হয়ে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছে। কেউ কেউ সৈকতে তোয়ালে বিছিয়ে শুয়ে ছিল। 

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এর আগে ২০১০ সালে একবার টিউনিক সিডনি অপেরা হাউসের সিঁড়িতে হাজার হাজার ন’গ্ন মানুষের ছবি তুলেছিলেন।

ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ডের তথ্যমতে, বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ত্বকের ক্যানসারে ভুগছে। স্পেন্সার টিউনিকের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে ত্বকের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন করবে।