শেষ সম্বল হিসেবে ভিটে বাড়িটাও মসজিদ তৈরিতে দান করলেন ভিক্ষুক দম্পতি

3088

এই ভিক্ষুক দম্পতির বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোপাল রায় গ্রামে। তারা হলেন বৃদ্ধ খইমুদ্দিন (৮০) ও হামিজোন বেগম (৬৫)।

আজ ১৭ ডিসেম্বর, সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এক নির্জন কুঁড়ে ঘরে তাদের বসবাস। প্রতিদিনের ভিক্ষার চালেই জ্বলে তাদের চুলা।

একদিন ভিক্ষা না করলে তাদের মুখে খাবার জোটে না। অনেক সময় অনাহারেই দিন কাটে তাদের। তারপরও জীবন বাঁচাতে ভিক্ষা করতে হয় ওই দম্পতিকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এক নির্জন কুড়ে ঘরে তাদের বসবাস। প্রতিদিনের ভিক্ষার চালে চলে তাদের সংসার। একদিন ভিক্ষা না করলে খাবার জোটে না। অনেক সময় অর্ধাহারে অনাহারে দিন কেটে যায়। ওই ভিক্ষুর দম্প্রতি নিঃসন্তান। সম্পদ বলতে বাড়ি ভিটার ৪ শতাংশ জমি।

এই শেষ সম্বল টুকু তিন বছর আগে স্থানীয় গ্রামের নিত্য ডিঘি জামে মসজিদে দান করে দিয়েছেন। তাদের এমন দান সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বৃদ্ধ খইমৃদ্দিন প্যারালাইস রোগী। স্ত্রী হামিজোন বেগম তাকে নিয়ে প্রতিদিন গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করেন।

হামিজোন বেগম বলেন, ভিটে বাড়িটুকু মসজিদের নামে দান করে আমরা দুই জনেই খুশি। আমাদের কোন সন্তান নেই তাই মসজিদে জমি দান করেছি।

প্রতিবেশি আছমা বেগম (৪০) বলেন, তারা অসহায় গরীব মানুষ। যেন দেখার কেউ নাই। সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেটুকু চাউল পান তাই রান্না করে খান।

ওই এলাকার তৈয়ব আলী (৪০) জানান, ওই বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের দাফন কাফনের ব্যবস্থা জামাতবাসি করবেন। তাদের এমন দান সমাজের বিত্তশালীদের চোখ খুলে দিয়েছে।

নিত্য ডিঘি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল সোবাহান (৭০) জানান, বৃদ্ধ খইমুদ্দিন ও হামিজোন বেগম তিন বছর আগে বাড়িভিটের জমি মসজিদের নামে দলিল করে দিয়েছেন।

মুমূর্ষু মায়ের পাশে থাকার জন্য খেলা ফেলে দেশে ফিরেছেন মোসাদ্দেক

মায়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল দলের সঙ্গে নাগপুর থেকে ইন্দোর আসতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ফিরে গেছেন টেস্ট দলে থাকা এই ক্রিকেটার। তবে জাতীয় দলের নির্বাচক মিনহাজুুল আবেদিন নান্নু জানিয়েছেন তার এই যাওয়া সাময়িক।

তিনি মায়ের অপারেশন শেষ হতেই দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। তিনি বলেন, ‘ওর (মোসাদ্দেক) মা অসুস্থ। তার কিডনিতে পাথর হয়েছে। অপারেশন লাগবে। আশা করি দ্রুতই কাজ শেষ করে দলের সঙ্গে যোগ দিবে সে।’ তবে তার এই যাওয়া বলছে হয়তো প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন না।

আর বড় কোনো সমস্যা হলে হয়তো ভারতে তার টেস্ট খেলা নাও হতে পারে বলে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারেননি এই তরুণ ক্রিকেটার। তাকে নিয়ে তাতেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে টিম ম্যানেজম্যান্ট ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যে তার পাশে আছেন তা স্পষ্ট। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলেই ছিলেন না মোসাদ্দেক।

মোসাদ্দেকের মা অসুস্থ। মুমূর্ষু মায়ের পাশে থাকার জন্যই দেশে ফিরেছেন টেস্ট স্কোয়াডে থাকা মোসাদ্দেক। মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে এবং মায়ের একটি ছবি দিয়ে মোসাদ্দেক ফেসবুকে লিখেন,

“আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন আমি কেন ভারত থেকে ফিরে এসেছি। আমার মায়ের যকৃত ঠিকঠাক কাজ করছে না। সেরে ওঠার জন্য জরুরী ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হবে। অনুগ্রহ করে আপনাদের প্রার্থনায় আমার মাকে রাখবেন। ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ দল আমার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার শুভাকাঙ্খিদের জন্য রইল ভালোবাসা।”