শরীরে মশা বসবে না যে ক্রিম মাখলে !

176

শরীরে মশা বসবে না যে ক্রিম- রাজধানীতে মহামারি রুপ নিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে।

ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। আপনাকে মশা না কামড়ালে আপনার ডেঙ্গু হবে না। সুতরাং সোজা কথা মশা মুক্ত থাকতে হবে, মশা মুক্ত রাখতে হবে। ইতিমধ্যে দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডেঙ্গুর এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে সেটিকে পুরোপুরি মহামারী বলা না হলেও এর দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। যে কোনো রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করতে হবে। কারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে রোগ প্রতিরোধ ভালো।

এমন মুহূর্তে ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস বহনকারী মশা তাড়ানোর ওষুধ বানানোর নিয়ম জানিয়েছেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক রবিশঙ্কর মৈত্রী। গত ১৯ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মশা তাড়ানোর এই ওষুধ তৈরি পদ্ধতির কথা জানান তিনি।

আসুন জেনে নেই কীভাবে ঘরেই তৈরি করবেন মশা তাড়ানোর ক্রিম।

মশা তাড়ানোর ক্রিম যেভাবে তৈরি করবেন-

ছোট্ট একটি কৌটা বা কাচের বয়াম নিন। একটি মোমবাতি থেকে দুইশ গ্রাম মোম গুঁড়ো করে নিয়ে কৌটায় রাখুন। এবার ৩০ মিলি নিম তেল এবং ৩০ মিলি গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। সঙ্গে ৫০ মিলি পানিও পাত্রে ঢেলে দিন। একটি গামলায় ১ লিটার পানি ১০ মিনিট ধরে গরম করুন।

গরম পানিতে নিম তেল, মোম ও পানিভর্তি পাত্রটি বসিয়ে রাখুন। লক্ষ্য করুন, পাত্রের মধ্যে মোম গলছে কি-না। যদি না গলে তাহলে গামলার পানি আরও একবার গরম করুন। গরম পানির গামলা থেকে সাবধানে নিম, তেল, গ্লিসারিন, মোম আরও পানি মেশানো পাত্রটি তুলে এনে টেবিলে রাখুন।

৫-৭ মিনিট পর পাত্রের মধ্যে লেবুর রস ৫ ফোঁটা এবং যে কোন পারফিউম বা সুগন্ধি ৫ ফোঁটা ঢেলে দিন। এবার ছোট্ট একটি চামচ দিয়ে পাত্রের মিশ্রণটি ৫-৭ মিনিট নাড়তে থাকুন। তৈরি হয়ে যাবে মশা তাড়ানোর ক্রিম। এই ক্রিমের গন্ধ একটু খরাপ হলেও ক্রিম হাতে পায়ে মেখে নিন। মশা আপনার কাছেও ঘেষবে না।

এই ক্রিম ফ্রিজে অথবা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় রাখতে হবে। তৈরির দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এ ক্রিম ব্যবহার করা যাবে।

ডেঙ্গু রোগীকে কী খাওয়াবেন ?

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ভাইরাসজনিত এ রোগের কারণে শঙ্কা বাড়ছে মানুষের মনে। তবে শুরু থেকে সচেতন থাকলে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

অনেকের ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ে ভালো ধারণা নেই। কাজেই সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এডিস ইজিপটি নামের মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করে। এ মশা ভাইরাসবাহী কাউকে কামড়ানোর পর অন্য আরেকজনকে কামড়ালে সেই মানুষটি আক্রান্ত হয়।

এডিস মশা স্থির পানিতে, যেমন- পরিত্যক্ত টায়ার, পানির বোতল, কনটেইনার, ফুলের টব, এয়ারকুলারের পানি ইত্যাদির মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে।

ডেঙ্গু জ্বরে রোগীরা কিছুই খেতে চায় না বা পারে না। শিশু ও বয়স্কদের এ সমস্যা বেশি হয় এবং রোগী ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পরে ও নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়। জ্বর হলে শরীরে ক্যালরির চাহিদা বাড়ে, ফলে বিপাক বেড়ে যায় ও রোগীর পুষ্টির দরকার হয়। রুচি কমে গেলে এমন খাবার বেছে নিন, যা অল্প খেলেও বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।

ডেঙ্গু রোগীকে কী খাওয়াবেন?

১. প্রচুর তরল পান করতে হয়, দিনে কমপক্ষে আড়াই লিটার।

২. পানির পাশাপাশি লবণ ও খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ তরল যেমন ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবু-লবণের শবরত, ফলের রস পান করা উচিত।

৩. এসব খাবার রক্তচাপ হ্রাসের ঝুঁকি কমবে।

৪. অতি মিষ্টি পানীয় খেলে বমির উদ্রেক হতে পারে। তাই বাজারের কোমল পানীয় বা আইসক্রিম সহজে পিপাসা মেটায় না।

৫. অরুচি বা বমি ডাবের জন্য তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত শর্করা যেমন- ভাত, জাউভাত, ওটমিল ইত্যাদি রাখুন। প্রোটিন যেমন- দুধ, দই, মাছ বা মুরগির মাংস, স্যুপ রাখুন। অনেক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর কিছু খেলেই বমি আসে।

তারা হালকা শুকনো খাবার খাবেন। যেমন- বিস্কুট, মুড়ি ইত্যাদি। আদা-চা, গ্রিন-টি বা শুকনো আদা বমি ভাব কমায়। এ সময় ফল বেশি করে খেতে হবে।

হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক, মডার্ন হারবাল গ্রুপ, ঢাকা।