যে কারনে পরিবারে মেজ সন্তানরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সফল !

6207

মেজ সন্তানরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান- যে কোনো পরিবারের মেজ সন্তানকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বাবা-মা কাকে বেশি স্নেহ করেন, তার উত্তর হবে বড় নয়তো ছোট জনকে।

আর এর কারণ হলো পরিবারের মেজ সন্তানরা নিজেদেরকে অবহেলিত এবং একা মনে করেন। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের একটি অ্যানালাইসিস গ্রুপ এবং ইউনিভার্সিটি অব সিডনির সাম্প্রতিক একটি গবেষণা জানিয়েছে ভিন্ন কথা।

৫০০০ মানুষের উপর জরিপ চালিয়ে পাওয়া তথ্য মতে, মেজ সন্তানরা ব্যক্তিগত এবং কর্ম জীবনে বেশি সফলতা লাভ করেন।

মেজ সন্তানদের বেশি বুদ্ধিমান এবং সফল হওয়ার পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণও আছে। বড় সন্তান অনেক বেশি মনোযোগ পায় বাবা-মায়ের। আর ছোট সন্তান পায় সহানুভূতি। এর মাঝে টিকে থাকতে হয় মেজ সন্তানের। তাই ছোট বেলা থেকেই তারা বেশি ধৈর্যশীল, সহনশীল ও ডিপ্লোম্যাটিক হয়।

টিমে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়টি মেজ সন্তান অন্যদের চাইতে বেশ ভালো পারে। বড় সন্তানটি যখন জন্ম নেয়, তখন সব কিছুই তার একার থাকে। কিন্তু মেজ সন্তানের ছোট বেলা থেকেই সব ভাগাভাগি করে নিতে হয়। এরপর ছোট সন্তানের জন্মের পরে তার সঙ্গেও নিজের সবকিছু শেয়ার করতে হয়। মিলেমিশে থাকার গুনটা তাই মেজ সন্তানের মাঝেই বেশি থাকে যা পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে সফলতা নিয়ে আসে।

ইগো’র সমস্যা মেজ সন্তানের মাঝে কম থাকে। পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ার কারণে খুব বেশি মনোযোগ পাননা তারা।

আর তাই অহেতুক ইগো বা অভিমান করার সমস্যাগুলো কাটিয়ে নিতে পারেন মেজ সন্তানরা। অল্পেই সন্তুষ্ট হওয়ার মানসিকতার কারণে ব্যক্তিগত জীবনেও মেজ সন্তানরা সফল।

বন্ধু হিসেবেও মেজ সন্তানরা দারুণ। পরিবারে মনোযোগ না পেয়ে বাইরের জগতের প্রতি বেশি আকর্ষণ থাকে তাদের। সাধারণত তারা বাইরে খুবই বন্ধুবৎসল হয়। ঘরের বাইরেই আনন্দ খুঁজে নিতে পারে তারা। ফলে তাদের অনেক ভালো বন্ধু থাকে এবং নিজেরাও বন্ধু হিসেবে খুবই ভালো হয়।

এছাড়া মেজ সন্তান অনেক বেশি স্বাধীনচেতা, একটু একগুঁয়ে স্বভাবের হয়। এমনকি অনেক সময় দেখা গেছে পরিবারে সবাই কোন সিদ্ধান্তে মত দিল মাঝখানে মেজ সন্তানকে দেখা গেল সে দ্বিমত পোষণ করে বসে আছে। শুধু তাই নয় মেজ সন্তান একটু বেশি জেদি হয়। পৃথিবীর কারো সাধ্য নাই তাকে বুঝার সে নিজে যা বুঝে সেটাই ঠিক।

১। আত্মনির্ভরশীল মানুষ হয়ে গড়ে উঠে মেজ সন্তান: বাবা মাকে অনেক সময় দেখা গেছে পরিবারের বড় আর ছোট ছেলেকে বেশি সময় দেয়। মাঝখানে দেখা গেল মেজ সন্তান তা থেকে বঞ্চিত হয় ফলে মেজরা ধীরে ধীরে আত্ননির্ভরশীল হয়ে উঠে।

২। সম্পর্কের মূল্য খুব ভাল বুঝতে পারে মেজ সন্তান: বড় এবং ছোটদের সাথে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তাদের সাথে কীভাবে চললে সম্পর্ক অনেক বেশি ভালো থাকে তা মেজোরাই ভালো বুঝে থাকেন। কারণ তিনি তার বড় ভাই-বোনের কোনো ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকলে নিজের ছোটোজনের সাথে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা বুঝে যান।

এবং তিনি নিজের বড় কারো সাথে যেভাবে ব্যবহার করবেন সেটাই তিনি তার ছোটজনের কাছ থেকে ফিরে পাবেন ভেবে তাও নিজে থেকেই শিখে নেন। কিন্তু পরিবারের অন্য ছেলে মেয়েরা তা ভাবেনা।

৩। সকলকেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করত জানে মেজ সন্তান: কার সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এটি মেজরা বেশি বুঝে। কিভাবে বাইরের দুনিয়ায় নিজেকে খাপ খাওয়াইতে হবে তা মেঝদের চেয়ে অন্য সন্তানরা খুব কমই বুঝে।

৪।মেজোরাই সৃজনশীল হয়ে থাকেন বেশি:মেজো সন্তানরা সাধারণত অনেক বেশি সৃজনশীল হয়ে থাকে। তাদের চিন্তাভাবনা অন্য সকলের থেকে একটু আলাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে।

দেখা যায় বড় বা ছোটো ভাই বোন স্বাভাবিক নিয়মে জীবন যাপন করে বেশ বড় স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কাজ করছেন কিন্তু মেজোজন নিজের সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের নিয়মে চলছেন।

৫। মেজরা অনেক মিশুক হয়: পরিবারের মেজদের দেখা গেছে অনেক বেশি মিশুক। বড় ও ছোটো ভাইবোনের সাথে কীভাবে মিশতে হবে তা সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই শিখে নেন মেঝ সন্তান । আর সে কারণেই ছোটোবড় সকলের সাথেই বেশ ভালো করে মিশতে পারার একটি গুণ তৈরি হয়ে যায়, যা পরিবারের বড় ও ছোটো সন্তানের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায় না। একারণে দেখা গেছে আত্মীয়স্বজন থেকে সকলেই মেজো সন্তানটিকে বেশ পছন্দ করে ফেলেন।