বাবরি মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার ঘোষণা কুয়েতের বিখ্যাত আইনজীবির

1721

সম্পূর্ণ কল্পনার স্রোতে ভেসে মসজিদের স্থানেই রামের জন্মের ধোয়া তুলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ।

সেই ধ্বংসস্তুপের উপর এই শেষ পেরেক পুঁতে দেয় হিন্দু ধর্মের একাংশের বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়।

কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে উঠবে রামমন্দির। আগামী 5 ই আগস্ট হবে বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস এবং ভীত পুজো।

উপস্থিত থাকবেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার বাবরী মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের শরণাপন্ন হতে চলেছেন কাতারের কুয়েতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী।

বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস হওয়ার ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ও সম্প্রতি এ বিষয়ে তাদের ক্ষেদ ব্যক্ত করেছে।

এবার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়েতের বিশ্ব বিখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান মুজবিল আল শুরেকা।

মিস্টার সুরকা তিনি তার সর্বশেষ টুইটে। একটি চিঠি শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড কে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছেন।

চলতি হজের জন্য নতুন খতিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন খতিব হলেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া (Sheikh Abdullah bin Sulaiman Al Manea)। তিনি ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) মসজিদে নামিরা থেকে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে বারোটার পর হজের খুতবা দেবেন।

এদিন হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে পড়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া হলেন সবচেয়ে বেশি বয়স্ক হজের খতিব। আরাফাতের ময়দানে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেওয়া হয়।

আরবি ভাষায় দেওয়া হজের খুতবায় থাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য নানা দিক-নির্দেশনা। এ বছর পবিত্র হজের আরবি খুতবা বাংলাসহ আরও নয়টি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। এ লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই নয় ভাষা হলো- ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি। ২০১৯ সালের হজে ৫ ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিল।

৯২ বছর বয়সী শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া আইনজ্ঞ হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধ। তিনি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সদস্য। এর আগে তিনি মক্কা আল মোকাররামা কোর্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শায়খ আবদুল্লাহ মানিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন ব্যাংকের শরীয়া কমিটিতে আছেন। এছাড়া তিনি জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে জড়িত। শরীয়া আইন নিয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েছেন। তিনি একজন লেখক। শারিয়া শাসন ব্যবস্থা ও ইসলামিক অর্থনীতি বিষয়ে তার উল্লেখযোগ্য রচনা রয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে টানা ৩৫ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আশ শায়খ। ২০১৬ সালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেন।

এর পর থেকে প্রতি বছর একজন করে নতুন খতিব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে হজের খুতবা দেন মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস। সুললিত কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের দরুণ বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় ড. সুদাইসকে হজের খতিব হিসেবে স্থায়ী মনে করা হলেও ২০১৭ সালে ঘোষণা হয় শায়খ ড. সাআদ আশ শাসরি এবার হজের খুতবা দেবেন।

ইসলামি আইনে অভিজ্ঞ ও সুপণ্ডিত ড. আশ শাসরিকে ভাবা হচ্ছিল তিনিই হয়তো স্থায়ীভাবে হজের খুতবা দেওয়ার দায়িত্বটি পালন করবেন। কিন্তু না, ২০১৮ সালে হজে খুতবা দেওয়ার জন্য নতুন আরেকজন খতিব নির্বাচন করা হলো। তিনি হলেন, শায়খ ডা. হুসাইন বিন আবদুল আজিজ আশ শায়েখ। পর পর তিন বছর নতুন খতিব নিয়োগের পর ধরে নেওয়া হচ্ছে, সৌদি সরকার এ পদে হয়তো স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দেবে না।

২০১৯ সালে শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে শায়খকে হজের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ও মুফতি বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের পরিচালক। এবার হজের দিন মসজিদে নামিরা মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। তিনি মসজিদের হারামের নিয়মিত মুয়াজ্জিন।