পবিত্র কাবা শরিফ দেখেই হাজিরা যে দোয়া পড়বেন…

2860

পবিত্র হাজিরা কাবা শরিফ দেখেই- হজ ও ওমরা পালনে পবিত্র কাবা শরিফ যাচ্ছেন মুসলিম উম্মাহ। ইহরাম বাধার পর দ্বিতীয় কাজই হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। সে কারণে প্রত্যেক হজ ও ওমরাহ পালনকারীকে মসজিদে হারামের ভেতরে পবিত্র কাবা শরিফে যেতে হয়।

এ পবিত্র স্থানে যেতে রয়েছে কিছু নিয়ম ও দোয়া। পবিত্র কাবা শরিফে প্রবশের নিয়ম ও দোয়াগুলো হাজিদের জন্য জেনে নেয়া জরুরি। আর তাহলো-

প্রথমেই মসজিদে হারামে প্রবেশে করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে বাবুস সালাম তথা উঁচু স্থান দিয়ে প্রবেশ করাই উত্তম। মসজিদে হারামে প্রবেশ করার সময় ডান দিয়ে প্রবেশ করা এবং এ দোয়া পড়া-

উচ্চারণ : আউজু বিল্লাহিল আজিম, ওয়া বি-ওয়াঝহিহিল কারিম, ওয়া বি-সুলত্বানিহিল কাদিমি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া সাল্লিম, আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

অর্থ : আমি মহান ও তার চেহারা ও চিরন্তন কর্তৃত্বের আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতাড়িত শয়তান থেকে। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষন কর। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দাও।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

এ দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে আবু দাউদ ও মিশকাতে এসেছে, এ দোয়া পাঠ করলে শয়তান বলে- ‘লোকটি সারা দিনের জন্য আমার থেকে নিরাপদ হয়ে গেল। এ দোয়াটি মসজিদে হারাম, মসজিদে নববিসহ যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময় পড়া যায়।

মসজিদে হারামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা সেই কাঙ্ক্ষিত ঘর কাবা শরিফ। যে ছুঁয়ে দেখতে ও তাওয়াফ করতে মুমিন মুসলমান থাকে আবেগ ও সম্মানে আ ত্ম হা রা।

পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত উঁচু করে বলবে- ‘আল্লাহু আকবার’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’হাত আকাশের দিকে ওঠিয়ে এভাবে দোয়া করতেন-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তা’জিমান ওয়া তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া যিদ মান শাররাফাহু ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আওয়ি’ তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তাজিমান ওয়া বিররান আল্লাহুম্মা আংতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম হাইয়্যিনা রাব্বানা বিসসালাম।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি এ ঘরের মর্যাদা ও মহিমা এবং সম্মান ও সমীহ বৃদ্ধি করে দাও। যারা হজ করে, ওমরা করে এবং এই ঘরকে তাযিম ও সম্মান করে তাদেরও ইজ্জত, সম্মান ও মর্যাদা ও ছাওয়াব বাড়িয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই তো ‘সালাম’; শান্তি তো তোমারই পক্ষ হতে বর্ষিত। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সুখ ও শান্তিতে জীবিত রাখুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজ ওমরা ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় এবং কাবা শরিফ দেখে এ দোয়াগুলো পড়ার মাধ্যমে যাবতীয় কল্যাণ লাভ ও শয়তানের ক্ষতি থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন…

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় অনেক দোয়া পড়তেন। রাত শেষে সকালে উঠেই তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তাওহিদের ঘোষণা দিতেন। পরকালের স্মরণ করতেন। সন্ধ্যায়ও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

এটিই ছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুনিয়ার মিশন সফলের অন্যতম মূলমন্ত্র। এ প্রশংসা বাক্য বা দোয়া থেকেই তিনি দ্বীনের কাজের অনুপ্রেরণা লাভ করতেন, যা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য সুমহান শিক্ষা।

এ শিক্ষা বাস্তবায়নে মুসলিম উম্মাহর উচিত সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পঠিত আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সকালে উঠতেন, তখন বলতেন-

উচ্চারণ : ‘আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ, ওয়াল হামদু কুল্লুহু লিল্লাহি লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’

অর্থ : ‘আমাদের সকাল হয়েছে, শুধু আমাদের নয়, দুনিয়ার সবারই সকাল হয়েছে। আর সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তার সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। পুনরুত্থিত হয়ে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।’

আর যখন সন্ধ্যা হতো তখন তিনি বলতেন-

উচ্চারণ : ‘আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহ, ওয়াল হামদু কুল্লুহু লিল্লাহি লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া ইলাইহিল মাসির।’

অর্থ : ‘আমাদের সন্ধ্যা হয়েছে, শুধু আমাদের নয়, দুনিয়ার সবারই সন্ধ্যা হয়েছে। আর সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তার সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে।’ (আদাবুল মুফরাদ)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন সকালে ওঠে আল্লাহর প্রশংসা ও তাওহিদের ঘোষণায় দিনের কাজ শুরু করতেন। ঠিক তেমনি সন্ধ্যায়ও আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও আখেরাতের স্মরণে দিন শেষে রাতের বিশ্রাম ও ইবাদতে লিপ্ত হতেন।

মুসলিম উম্মাহ তথা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য এটা এক মহান শিক্ষা। সকাল ও সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের এ পদ্ধতি দুনিয়ার সব অপরাধ থেকে বিরত রাখতে সর্বাধিক ভূমিকা পালন করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার জীবনের প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো আল্লাহর প্রশংসা, তাওহিদের ঘোষণা ও পরকালের স্মরণের এ পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন, আমিন।