ডায়াবেটিস যেভাবে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেয়

1430

ডায়াবেটিস যেভাবে নষ্ট করে দৃষ্টিশক্তি- সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশে যেভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ক্রমশ বেড়ে চলছে, তাতে র’ক্তে সুগারের বৃদ্ধি নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই র’ক্তে চিনিই নষ্ট করছে চোখের দৃষ্টিশক্তি। অনেকে অবশ্য টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে ১৭–১৮ বছর দিব্যি কাটিয়ে দেন।

জিনের কারণেই তাঁদের চোখ, কিডনি মোটামুটি ঠিকঠাক থাকে। বাকিদের ক্ষেত্রে মোটামুটি বছর পাঁচেক পর চোখের নার্ভ বা রেটিনা খারাপ হয়ে দৃষ্টিশক্তি খা’রা’প হতে শুরু করে, যাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।

সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে রোগ ঠেকিয়ে রাখা যায় বহু দিন। রোগের জটিলতাও কম থাকে। গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন বা এইচবিএ১সি ৭ এর নীচে রাখতে পারলে খুব ভালো। সাত-আটের মধ্যে থাকলেও বিপদ আছে। ৮-৯ হলে তো চোখের অবস্থা তাড়া’তাড়ি জটিল হয়।

৯ এর বেশি হলে তো কথাই নেই, সঙ্গে হাইপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল–ট্রাইগ্লিসারাইড থাকলে বিপদ বাড়ে। ডায়াবেটিক আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রেটিনোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ওবেসিটি থাকলেও বিরাট ঝামেলা।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-

টাইপ ১- ডায়াবেটিস হওয়ার ৫ বছর পর থেকে প্রতি বছর চোখের রেটিনা, কি’ড’নি ও নার্ভ পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

টাইপ ২- হলে শুরু থেকেই প্রতি বছর পরীক্ষা করতে হবে। রেটিনায় গোলমাল হলে সাধারণত লেজার দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কখনও কিছু ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এতে রোগ খুব ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল ও মেদবাহুল্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এ নিয়ে আর চিন্তার তেমন কিছু থাকে না। তাই নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি, ওষুধ পথ্য ও নিয়মিত পরীক্ষায় নিজেকে সুস্থ রাখুন।

একটানা চেয়ারে বসে কাজ করে পিঠে ব্যথা? ঘরোয়া উপায়ে সেরে উঠুন

ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় ইঁদুর-দৌড়। ঘরের কাজ শেষ করে অফিসে দৌড়। সেখানে গিয়েও কাজ আর কাজ। কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসেই কাটাতে হয় অনেককে।

পিঠ সোজা করে বা ঝুঁকেই সময় কেটে যায় দীর্ঘক্ষণ। বাড়ি ফিরে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও গুড়ে বালি! পিঠের যন্ত্রণায় ঘুমও হয় না। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের কাছে যান অনেকে।

যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে প্রেসক্রিপশন মিলিয়ে পেইন কিলারও খান কেউ কেউ। কিন্তু ওষুধের রেশ কাটামাত্র আবার যে সেই। কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে কিছু ঘরোয়া কৌ শ ল।

পিঠে ব্যথা কমাতে চাইলে রাতে ঘুমানোর সময় কিছু নিয়ম আপনাকে মানতে হবে। প্রথমত খেয়াল রাখতে হবে ছয় থেকে সাত ঘণ্টার কম ঘুম যাতে না হয়।

তাই স্মার্টফোন দূরে সরিয়ে প্রতি রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুমের সময় পারলে চিত হয়ে শোওয়ার অভ্যাস করুন। পাশ ফিরে ঘুমাতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে দু’টি পায়ের মাঝে বালিশ ব্যবহার করুন।

আপনি কি ঘুম থেকে উঠেই কোনো রকমে তৈরি হয়ে অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন? এ ধরনের অভ্যাস থাকলে আপনার পিঠের ব্যথা কমা খুবই কঠিন। সুস্থ থাকতে চাইলে ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠুন। শরীরচর্চায় মন দিন। নিয়মিত স্ট্রেচিংয়ে দেখবেন আপনার ব্য থা অনেকটা কমে গেছে।

ব্যায়াম করে অফিসে পৌঁছালেন ঠিকই। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অফিসে গিয়েও কিছু নিয়ম আপনাকে মেনে চলতেই হবে। কাজের চাপ যতই থাকুক মাঝে মাঝে অফিসের ভিতরে হাঁটুন। পারলে সিঁড়ি দিয়ে বারবার ওঠানামা করুন। চেয়ারে বসার সময় যতটা সম্ভব সোজা হয়ে থাকার চেষ্টা করুন।

সারা’দিনের ক্লান্তির পর বাড়ি ফিরে আর বিশেষ কিছুই করতে মন না চাইলেও সুস্থ হয়ে উঠতে একটু কষ্ট করে পিঠে রাতে বরফের সেঁক দিন। ১০-১৫ মিনিটের আইস প্যাক ব্যবহার আপনার যন্ত্রণায় আরাম দেবে। পারলে দিনে দুই-তিনবারও আইস প্যাক ব্যবহার করুন।

পিঠে ব্যথার সমস্যা থাকলে জুতা কেনার আগে দু’বার ভাবুন। হিল তোলা জুতা ভুলেও ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে ফ্ল্যাট জুতা পরেই হাঁটা-চলা করার অভ্যাস করুন।