জবানবন্দিতে মা ও ৩ সন্তানকে হ’ত্যা’র বী’ভৎ’স যে বর্ণনা দিয়েছে ঘা’ত’ক পারভেজ

1256

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ফোন চু’রি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় ইন্দোনেশীয় নারী ও তাঁর তিন সন্তানকে গ’লা কে’টে হ’ত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ঘা’ত’ক পারভেজ (১৭)।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পারভেজকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পু’লি’শ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পু’লি’শ।

পিবিআই’র পরিদর্শক হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার বিকেলে পারভেজ গাজীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজি’স্ট্রেট আ’দা’লতের বিচারক শরীফুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি দিয়েছেন। তাকে সিনিয়র জুডিয়াল ম্য’জিস্ট্রে’ট শরিফুল ইসলাম-এর আ’দা’লতে হাজির করলে বিচারক তাকে কা’রাগা’রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে কা’রাগা’রে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পিবিআই’র গাজীপুর জেলা ইউনিটের ইনচার্জ অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার নাসির আহমেদ শিকদার জানান, শ্রীপুরের আবদার গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী ও তিন সন্তান খু’ন হওয়ার ঘটনায় গাজীপুর পিবিআই ছায়া ত’দ’ন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য সূত্রের ভিত্তিতে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) হ’ত্যাকা’ণ্ডের সাথে জ’ড়িত স’ন্দে’হে ঘটনাস্থল সংলগ্ন বসবাসকারী পারভেজকে (১৭) গ্রে’প্তা’র করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ পারভেজ জানায়, ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২ সময় কাজলের স্ত্রী ও বড় মেয়ের টাচ মোবাইল চু’রির উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী বাবুলের বাড়ির পিছন দিক দিয়ে কাজলের বাড়ির দেয়ালে বের হয়ে থাকা ইট বেয়ে ছাদে ওঠে সে।

নিজের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে ছাদে কাপড় শুকানোর রশি কেটে ছাদের গ্রিলের সাথে বেঁধে রশি বেয়ে দোতলার বাথরুমের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাসার ভেতরে ঢোকে। ওয়াশিং মেশিনের উপর পা দিয়ে নিচে নেমে নুরা ও হাওয়ারিনের রুমে প্রবেশ করে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে।

নুরার তখন কানে হেডফোন ছিল ও ছোট বোন হাওয়ারিন ঘুমিয়ে ছিল। আনুমানিক এক ঘণ্টা পর সবাই ঘুমিয়ে গেলে নিচ তলায় নেমে রান্না ঘর থেকে ধা’রালো ব’টি নিয়ে আসে। দোতলায় উঠে মোবাইল নেয়ার জন্য নুরার মায়ের কক্ষের দরজার লক খোলোর চেষ্টা করার সময় শব্দ পেয়ে নুরার মা জেগে ওঠে।

বাথরুম ও আশপাশে কেউ আছে কি না খোঁজ করেন তিনি। নুরার মা (কাজলের স্ত্রী) ফাতিমা তাকে দেখে চিনে ফেলে এবং চিৎকার দেয়। তখন সে ব’টি দিয়ে কাজলের স্ত্রীকে মাথাসহ শ’রী’রের বিভিন্ন স্থানে এ’লোপা’থারি কো’পায়। ফাতেমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

শব্দ পেয়ে নুরা ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকেও বটি দিয়ে মা’থাসহ শ’রী’রের বিভিন্নস্থানে কু’পিয়ে গু’রুত’র জ’খ’ম করে পারভেজ। পরে নুরার ছোট ভাই ফাদিল জেগে উঠলে তার মাথায় কো’প মা’রে। ফাদিল পড়ে গেলে প্রথমে তাকে জ’বাই করে। সেসময় হাওয়ারিন ঘুম থেকে জেগে উঠে চিৎকার দিলে তাকেও কো’পায় পারভেজ।

এরপর সে নুরাকে ধ র্ষণ করে। নুরার মাকে ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁ’ধে পরে অ’র্ধমৃ’ত হাওয়রিনকেও ধ র্ষণ করে। পরে সবাইকে গ’লা কে’টে হ’ত্যা করে।

সেসময় পারভেজ নুরার মা’র গলা’র একটি স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, কান ফুল এবং হাওয়ারিনের কানের দুল খুলে নেয়। পরে আলমারি খুলে দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি, একটি লাল ছোট ডাইরি, নুরার মায়ের রুম হতে দুটি বড় টাচ মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

পরে সে হাত মুখ ধুয়ে পিছনের গেইট খুলে নিজ বাড়ি চলে যায়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার নিজের ঘরে রাখা পায়জামার পকেট থেকে ওই স্বর্ণালংকার এবং আলনায় অন্যান্য কাপড়ের ভিতর রাখা একটি র’ক্ত মাখা গেঞ্জি ও দুটি টাচ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ, গত ২৪ এপ্রিল রাতে শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজলের বসত ঘরের দোতলায় কাজলের স্ত্রী স্মৃতি ফাতেমা (৩৮), তার বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নুরা (১৬), ছোট মেয়ে হাওয়ারিন (১৩) ও প্র’তিব’ন্ধী ছেলে ফাদিলকে (৮) কু’পিয়ে ও গ’লা কে’টে হ’ত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই আরো জানায়, গ্রে’প্তা’র পারভেজ ২০১৮ সালে তার পার্শ্ববর্তী আপন চাচার ভাড়াটিয়ার মেয়ে নিলীমাকে (৭) ধ র্ষণ করে গ’লাটি’পে হ’ত্যা করে।

এ মর্মে শ্রীপুর থা’নায় তাকে এজাহারে নাম উল্লেখ পূর্বক আ’সা’মি দিয়ে মা’ম’লা করা হয়। ত’দ’ন্ত শেষে উক্ত মা’ম’লায় দোষীপত্র দাখিল করা হয়। নয় মাস জে’ল হা’জত বাসের পরে সে কিছু দিন আগে জা’মিনে মুক্তি পায়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল, গাজীপুর পিবিআই পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান আরো জানান, ঘটনার রাতে পারভেজ ওই বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। পারভেজ কিছুদিন আগে নুরাকে উত্ত্য’ক্ত করার জন্য রাত্রিবেলা কাজলের বাড়ি প্রবেশ করে।