কম্পিউটারের চেয়েও অনেক সুন্দর প্রকৃতির হাতের লেখা !

1733

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী প্রকৃতি মাল্লা। বয়স মাত্র ১৪ বছর। তাকে এখন গোটা পৃথিবী চিনে গিয়েছে। সৌজন্যে সোশ্যাল মিডিয়া। প্রকৃতিকে সবাই চিনে গিয়েছেন তারা সুন্দর হাতের লেখার জন্য। তবে আপনি তার হতের লেখা দেখলে বুঝতে পারবেন না সেটা হাতের লেখা না কম্পিউটারের কোনও ফন্ট। এতটাই নিখুঁত প্রকৃতি মাল্লার হাতের লেখা।

হাতের লেখা নিয়ে কত কথাই ছেলেবেলায় শুনতে হয়েছে আমাদের। কত উপদেশ পরামর্শ। ব্যাপারটা স্বাভাবিক। সুন্দর হস্তাক্ষর পড়তে কার না ভালো লাগে! চোখেরও আরাম। কিন্তু কতটা সুন্দর করা যায় হাতের লেখা? রাজা-রাজরাদের আমলে লেখার জন্য আলাদা লোক থাকত। তাঁদের বলা হত লিপিকার। কবি বা পুরাণকার বলে যেতেন, আর লিপিকাররা তা লিখে রাখতেন সুন্দর হস্তাক্ষরে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে খোঁজ করলে আজও সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখা চিঠিপত্র, দলিল দস্তাবেজ মিলবে। হাতের লেখা না কম্পিউটারের কোন ফন্ট? বিশ্বের শ্রেষ্ঠ হস্তাক্ষর এই কিশোরীর কিন্তু সেই সব কিছ ছাপিয়ে গেল এক ১৪ বছরের এক কিশোরীর হাতের লেখা।

লিপিকারদেরও বলে বলে ১০ গোল দিতে পারে তার হস্তাক্ষর। তার নাম প্রকৃতি মাল্ল্য। বয়স মাত্র ১৪ বছর। নেপালের সৈনিক ওয়াসিয়া মহাবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সে। তার অসাধারণ হাতের লেখা দেখে কাত সারা বিশ্ব। ‘প্রকৃতির হাতের লেখা’ বলে না দিলে ছাপা হরফ বলে ভুল হতে বাধ্য।

কয়েকদিন আগে প্রকৃতির এক পাতা হাতের লেখার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছিলেন জনৈক ব্যক্তি। হাতের লেখা না কম্পিউটারের কোন ফন্ট? বিশ্বের শ্রেষ্ঠ হস্তাক্ষর এই কিশোরীর কয়েক ঘণ্টার তা ভা’ই’রা’ল। গোটা দুনিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই পোষ্টে। লাইক, শেয়ারের বন্যা বয়ে যায়।

রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে আসেন প্রকৃতি। হস্তাক্ষর বিশারদেরাও প্রকৃতির হাতের লেখা দেখে অবাক। প্রতিটি অক্ষরের গড়ন এবং মাপ প্রায় নিখুঁত। দুটি শব্দের মাঝের ফাঁকও সমান। নেপাল সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে প্রকৃতির এই হাতের লেখাকে। বলা হচ্ছে, নেপালের সেরা হস্তাক্ষর।

হাতের লেখা না কম্পিউটারের কোন ফন্ট? বিশ্বের শ্রেষ্ঠ হস্তাক্ষর এই কিশোরীর, দেশের গৌরব বৃদ্ধির জন্য নেপাল স”শ”স্ত্র বাহিনী পুরস্কৃত করেছে তাকে।

সব মিলিয়ে, অসাধারণ হাতের লেখার জন্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নয়া তারকা প্রকৃতি মাল্ল্য। প্রকৃতির হাতের লেখা তাকে এতটাই জনপ্রীয় করে তুলেছে যে, এখন হাতের লেখার চর্চাকারীরা তার হাতের লেখা থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।

প্রেমের টানে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে ফুটপাতে রাজকন্যা!

রীতিমতো রাজকন্যাই ছিলেন বলা যায়। মালয়েশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং দেশটির বিজনেস টাইকুন ক্যা পেঙ’র মেয়ে বলে কথা। কিন্তু সেই রাজকন্যা হঠাৎ করেই যেন রাজপ্রাসাদ ছেড়ে চলে এলেন ফুটপাতে! স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যে নেমে আসার মতো। এর একমাত্র কারণ ভালোবাসা।

হ্যাঁ, পেঙের একমাত্র মেয়ে অ্যাঞ্জেলিন ফ্রান্সিস খু জন্মের পর থেকেই বিলাসবহুল জীবন ভোগ করেছেন। কিন্তু সেই বিষয়-সম্পত্তি আর বিলাসিতাকে এক নিমেষে ছেড়ে হাত ধরলেন অতি সাধারণ এক যুবকের। সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের ওয়েলস শহরে।

মালয়েশিয়ার জন্ম হলেও ২০০১ সালে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন খু। ২০০৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করার সময়ই জেদিদিহ ফ্রান্সিস নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় তার। ফ্রান্সিসের জন্ম ক্যারিবীয় অঞ্চলে। পেমব্রোক কলেজের ডেটা বিষয়ক গবেষক তিনি। আস্তে আস্তে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। ফ্রান্সিসকে ভালোবেসে ফেলেন খুব।

কিন্তু কোটিপতি বাবা যে এই সম্পর্ক মানবেন না তা বেশ ভালো করেই টের পাচ্ছিলেন খু। তা সত্ত্বেও তাদের সম্পর্কের কথা বাবাকে জানান তিনি। মেয়ের ওপর ভীষণ চটে যান খুর বাবা। সোজাসাপ্টা না করে দেন বিয়েতে। খুর সামনে দুটি রাস্তা খোলা ছিল। এক, ফ্রান্সিসকে ভুলে যাওয়া আর দুই, বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে বিয়ে করা।

কিন্তু বাবার বিরুদ্ধে যাওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না। কারণ সে ক্ষেত্রে বিসর্জন দিতে হতো তার এতদিনের অভ্যাসকে। বিসর্জন দিতে হতো তার বিলাসবহুল জীবন। খু তাই করলেন। ফ্রান্সিসের ভালোবাসার সঙ্গে যে আর কোনো সম্পদের তুলনা করা যায় না, সেটা বুঝিয়ে দিলেন। প্রাসাদ, সম্পত্তি সমস্ত ছেড়ে হাত ধরে নিলেন ফ্রান্সিসের।সম্প্রতি তারা বিয়ে করেছেন। বন্ধুবান্ধবসহ মোট ৩০ জনকে নিয়ে পেমব্রোক কলেজ ক্যাম্পাসেই এই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।