পানি পান করেও ওজন কমাতে পারেন, জেনে নিন পদ্ধতি

1429

ওজন কমাতে পারেন পানি পান- কে না চায় একটু সুস্থ থাকি। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সু-স্বাস্থ্য। আর সু-স্বাস্থ্যের জন্য দরকার একটি সুস্থ শরীর।

শরীর সুস্থ রাখতে আপনাকে থাকতে হবে পরিপাটি এবং নিয়ম নির্ভর। আজ আমরা পানি পান করেও কিভাবে শরীরের ওজন কমাতে পারি সেই বিষয়টি দেখবো।

শরীরের ওজনের ওপর পানি পান করার ইতিবাচক প্রভাব আছে এ নিয়ে হয়েছে অসংখ্য গবেষণা। আর সবগুলো গবেষণাই বলে- পানি পান করলে ওজন কমে। কারণ পানি পানে বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়। ফলে ক্যালরি খরচের পরিমাণ বাড়ে ও ক্ষুধাও কমে।

প্রতিদিন আমাদের ৮-১০ গ্লাস পানি পানের ফলে অন্যান্য খাদ্য গ্রহণের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কমে যায়। ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় পানের প্রতি ঝোঁক কমে আসে। খাবার গ্রহণের এক বা দেড় ঘণ্টা আগে যদি ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করা হয়, তবে তা ওজন কমাতে খুবই সহায়ক।

কিন্তু এমনও মানুষ আছেন, যাঁদের পানি পান করতে ভালো লাগে না এবং শুধু এ জন্য তাঁদের শরীরের প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি থেকেই যায়।

দৈনিক পানি পানের মাত্রা মাত্র এক কাপ বাড়ালে ওজন কমতে পারে ০.১৩ কেজি। অন্য পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করতে পারলে ওজন কমতে পারে ০.৫ কেজি। কুসুম গরম পানি পানের রয়েছে নিজস্ব গুণাগুণ।

তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানিই বেশি কার্যকর। কারণ ঠাণ্ডা পানি দেহের তাপমাত্রায় আনতে শরীরকে ক্যালরি খরচ করতে হবে। কোনো কিছু খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করলে ক্যালরি গ্রহণ কমবে।

আসলে, পানি পান করলে বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়ে মৃদু মাত্রায়। আর খাওয়ার এক থেকে আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করলে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা কমে। তবে প্রচুর পানি পান করলেই যে দ্রুত ওজন কমে যাবে তা নয়।

এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা দূরে থাকবে। তবে অতিরিক্ত পানি পানের খারাপ দিকও আছে।

প্রতিদিন আপনার শরীরে কতটুকু পানির প্রয়োজন ?

যে কোনো মানুষের কাছ থেকে ওজন কমানোর রহস্য জানতে চান, প্রথমেই আপনাকে শুনতে হবে পানি পান করার কথা। পানি আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে ফেলে, ওজন হ্রাসে সহায়তা করে, আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং আপনার পাচক সিস্টেমটি অ.. ক্ষ.. ত রাখে। এছাড়াও পানি পানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে-

ওজন কমাতে সহায়তা করে-

বিশেষজ্ঞরা শরীরের মেদ কমাতে দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আট থেকে দশ গ্লাস পানি পানের অভ্যাস অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সহায়তা করে। আট থেকে দশ গ্লাস পানি পানের ফলে অন্যান্য খাদ্য গ্রহণের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কমে যায়।

ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় পানের প্রতিও ঝোঁক কমে আসে। খাবার গ্রহণের দেড়-দুই ঘণ্টা আগে যদি ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করা হয় তবে তা ওজন কমাতে খুবই সহায়ক।

হজমে সহায়ক-

স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া বহাল রাখার জন্য দরকার পানি। রাতে ঘুমানোর কারনে দীর্ঘ সময় আমাদের দেহে পানি প্রবেশ করে না। ফলে হজম প্রক্রিয়ার সচলতা কমে যায়। তাই সকালে উঠে এক গ্লাস পানির মাধ্যমে প্রতিদিন আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সচল করে নিতে পারেন।

হৃদরোগের জন্য-

পানি রক্তের ঘনত্ব আটকায়, যা হৃদরোগে আক্রমণ, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য নানা সমস্যার সমাধান। হার্ট ফাংশন স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য দিনে যথেষ্ট পরিমানে পানি পান করা দরকার।

ডায়বেটিস রোগীদের জন্য নিরামক-

ডায়বেটিস রোগীর ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হতে পারে। যার ফলে রক্তচাপ উঠা নামা করতে পারে। তাই তাদের দিনে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।