ইসলামবিদ্ধেষের অভিযোগে নজিরবিহীন বয়কটের শিকার ৭১ টিভি

2420

বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ইস্যুতে অযথা ও প্রসঙ্গহীনভাবে ইসলামকে টেনে এনে কটাক্ষ করা, বিভিন্ন ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের সহযোগিতা ও মিডিয়া ব্যবহার করে ইসলামফোবিয়া ছড়ানোসহ বেশ কিছু অভিযোগে পাবলিক সেন্টিমেন্টের রোষাণলে পড়েছে স্যাটেলাইট চ্যানেল ৭১ টিভি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বোত্র ডাক উঠেছে ৭১ টিভি বয়কটের। বিষয়টিতে ব্যাপকহারে সাড়াও দিচ্ছে নেটিজানরা। বিশেষ করে ইসলাম ও মুসলমানের সাথে সম্পৃক্তরা প্রবলভাবে চ্যানেলটিকে বয়কট করা শুরু করেছে। #boycottekattortv নামে হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করছেন অনেকে।

বয়কটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজ আনলাইক/আনফলো করা, ইউটিউব চ্যানেল আনসাবস্ক্রাইব করাসহ প্রতিবাদী বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন। চোখে আঙুল দিয়ে কেউ কেউ দেখিয়ে দিচ্ছেন একাত্তর টিভির ইসলামবিদ্ধেষী কর্মকান্ডও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামী অঙ্গনে পরিচিত প্রায় সবাই-ই বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন এবং একাত্তর টিভি বয়কটের ডাক দিয়েছেন। বয়কটের ডাক দিয়ে অনেকেই বিষয়টি চেকও করছেন যে, তার বন্ধু তালিকায় কেউ একাত্তর টিভি লাইক দিয়ে রেখেছে কি না। দেওয়া থাকলে তাকে ইনবক্সে বা ফের পোস্ট দিয়েও জানান দিয়ে রাখছেন।

আলোচিত বক্তা, মালয়েশিয়ান প্রবাসী মিজানুর রহমান আজহারী এ বিষয়ে লিখেছেন –

সংকটে, সংবাদে, সংযোগে— সর্বত্রই যাদের ইসলাম বিদ্বেষ তাদের বয়কট করা সময়ের দাবী।

তাই, একাত্তর টিভিকে বয়কট করুন।

আমি করেছি, আপনারাও করুন।

জনপ্রিয় লেখক ও বক্তা মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ ৭১ টিভি বয়কটের আহবান জানিয়ে প্রোফাইল পিকচারে অভারলি সেভ করে দিয়েছেন। যেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন – ইসলামবিদ্ধেষী মনোভাবের কারণে স্যাটেলাইট চ্যানেল ৭১ টিভিকে বয়কট করুন। #boycottekattortv

ফেসবুকে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় টিভি আলোচক শায়খ আহমদুল্লাহ লিখেছেন –

৭১টিভিকে গণমাধ্যম না বলে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যম বললেই যথার্থ হবে।

ওয়াজ মাহফিল হলো এ দেশের সবচেয়ে বিস্তৃত পাবলিক প্রোগ্রাম। কোনো কোনো বক্তা মাহফিলে বেফাঁস এবং ভুলভাল কথা বলেন-এটা যেমন সত্য, বেশিরভাগ মাহফিলগুলোতে ভালো ভালো কথা বলা হয় সেটা তার চেয়েও সত্য।

৭১টিভি খুঁজে খুঁজে আপত্তিকর কথাগুলোকে যেভাবে হাইলাইট করে প্রচার করে, মাহফিলের হাজারো ভালো কথার একটিকেও কি কখনো প্রচার করেছে? গণমাধ্যম মানে কি শুধু ময়লা-আবর্জনা ঘাঁটার যন্ত্র?

কোনো কোনো মুর্খ বক্তা ওয়াজ মাহফিলে নারীকে নিয়ে বেফাঁস ও মুর্খতাসূলভ উক্তি করে এটা অসত্য নয়, তাই বলে সে সব বক্তব্যের কারণে ধর্ষকরা নারী ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়- একটি টিভি চ্যানেল এতো নির্জলা মিথ্যাচার ও কুৎসিত মন্তব্য করতে একটুও বাধলো না!

ওয়াজ মাহফিল থেকে ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়েছে-এমন জবানবন্দি আজ পর্যন্ত কোনো ধর্ষক থেকে পাওয়া গেছে? ধর্ষক কখনো ওয়াজ মাহফিলে যাক বা না যাক- ৭১টিভির মতো চ্যানেলগুলো অবশ্যই দেখে। এসব চ্যানেল যেভাবে নারীকে সারাক্ষণ পণ্য ও ভোগ্য বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করে তা থেকে ধর্ষক উৎপাদন হওয়ার কথা, নাকি ফেরেশতা? #৭১টিভিকে_বয়কট_করুন।

জনপ্রিয় লেখক আরিফ আজাদ লিখেছেন –

৭১ টিভি যে একটা আঁতেল টিভি চ্যানেল, এইটা যারা বুঝেন না তাদের দুইটা ঘটনা স্মরণ করাই।

মাস-কয়েক আগে কুয়েটের ছাত্ররা তাদের শিক্ষাবর্ষের শেষ দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পাগড়ি আর জুব্বা গায়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে ফটোসেশান করলে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়। সেবার ৭১ টিভির এক মহিলা সাংবাদিক, গায়ে শার্ট আর জিন্স পরে ওই ছেলেগুলোকে প্রশ্ন করেছিলো যে— ‘আপনারা বাঙালি পোশাক ছেড়ে আরবের পোশাক পরিধান করত গেলেন কেনো?’

মহিলা নিজে গায়ে দিয়েছে শার্ট আর জিন্স। তা যে পশ্চিমা সংস্কৃতি হতে আমদানিকৃত, এবং বাঙালি সংস্কৃতির সাথে তার যে বিন্দুবিসর্গও সংযোগ নেই— তা একেবারেই সুনিশ্চিত। নিজের গায়ে পশ্চিমা আবরণ জড়িয়ে, মহিলা অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কেনো তারা বাঙালি পোশাক না পরে আরবের পোশাক পরেছেন!

মানে হলো— আপনি পৃথিবীর যে-কোন দেশ, যে-কোন সংস্কৃতির পোশাক গায়ে তুলেন তাতে ৭১ টিভির কোন সমস্যা নেই, কিন্তু আপনি কোনোভাবেই আরবের পোশাক গায়ে তুলতে পারবেন না। তাহলেই বাঙালির ইজ্জত চলে যায়!

করোনা ভাইরাসের সময়ে ৭১ টিভি একটা টকশো তে করোনাক্রান্ত মানুষগুলোর মৃতদেহ দাফন না করে পুঁড়িয়ে ফেলবার দাবি তুলেছিলো। এতে নাকি ভাইরাস ছড়াবার আশঙ্কা কমে যায়। যেখানে WHO থেকে শুরু করে তাবৎ চিকিৎসাবিদ্যার সবাই একমত যে— মারা যাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পর মৃতদেহ থেকে আর ভাইরাস ছড়ায় না, সেখানে ৭১ টিভি আস্ত লাশকেই পুঁড়িয়ে ফেলবার মতলবে ব্যস্ত! এখানেও তাদের সুক্ষ্ম ইসলাম-বিদ্বেষ লুকায়িত।

৭১ টিভি তো বটেই, কোন টিভি চ্যানেল কিংবা পত্রিকার ফেইসবুক পেইজ আর ইউটিউব চ্যানেলে আমি কোনোভাবে সংযুক্ত নেই। ৭১ টিভির এহেন কর্মকান্ডের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ওটা জনমতকে আমিও সমর্থন করছি। ধর্ম-অন্তপ্রাণ মানুষ মাত্রেরই উচিত বিরুদ্ধবাদীদের এড়িয়ে চলা। সেটা তাদের পত্রিকা না কিনে হতে পারে, পেইজ আন-লাইক করে হতে পারে, হতে পারে তাদের ইউটিউব চ্যানেল আন-সাবস্ক্রাইব করে।

একাত্তর টিভি বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন রেখে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সাইমুম সাদী লিখেছেন –

কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই। উত্তর দিবেন প্লিজ।

করোনায় মৃত্যু বরণকারী ব্যাক্তিকে জানাজা ও কবর না দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কোন টিভিতে?

আলেম ওলামা ও মাদ্রাসায় প্রায়ই জংগি কানেকশন আছে বলে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করতে চায় কোন টিভি?

কোন টিভির ডেট ওভার ফালতু উপস্থাপিকা করোনা থেকে বাচার জন্য মুসলমানদের সম্মিলিত দোয়া অনুষ্ঠানকে কটাক্ষ করে লোকাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ধমক দিয়ে ছিল টিভি অনুষ্ঠানে?

একটা সময় কোন টিভিতে চার পাচ জন আধা নাস্তিককে বসিয়ে মাত্র একজন আলেমকে টকশো তে এনে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করা হত,সেটা কোনটা?

পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী চেতনা বিরোধী অধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেফাজতের বক্তব্য সরকার মেনে নেয়ায় লেজে আগুন লেগেছিল কোন টিভির?

এবং কোন টেলিভিশনে ওয়াজ মাহফিলকে ধর্ষণের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়?

তাদের মূল টার্গেট থাকে সারাক্ষণ ইসলামকে হেয় করার সেই টেলিভিশন কোনটা? এই টিভিকে অত;পর কুত্তা টিভি বলতে সমস্যাটা কোথায়?

একটু কইয়া যান, মুসলমানদের দেশে বসে মুসলমান বিরোধী প্রচারণা চালায় সেই কুত্তা টিভি কোনটা?

একই সাথে তিনি পরবর্তিতে তার ফেসবুক বন্ধুদের ৭১ টিভি আনলাইক করার দ্বিতীয় আহবানে লিখেছেন –

মুহতারাম ফেসবুকিয়ানে কেরাম! যারা জনগনকে একাত্তর টিভি বয়কট করার আহবান জানিয়ে নিজেরা ওই টিভির পেইজে বেখেয়ালে লাইক অব্যাহত রেখেছেন কিংবা সাবস্ক্রাইব করে রেখেছেন তারা কিন্তু দ্বিমুখী চরিত্র প্রদর্শন করছেন।

আমার বন্ধু তালিকায় যারা এমন দ্বিমুখি ভুমিকায় আছেন যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনাদের তালিকা প্রকাশ করতে পারি। কী করব জানান প্লিজ!

এছাড়াও ফেসবুকে হাজার হাজার পোস্ট হয়েছে ৭১ টিভি বয়কটের আহবান জানিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষেপেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কর্তৃক নুরুল হকের নামে ধর্ষণে সহায়তা ও তার দুজন সহযোগীর নামে ধর্ষণের মামলা বিষয়ে ৭১ টিভি তাকে একটি টক-শোতে ডাকলে তিনি সে আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ৭১ টিভি বর্জনের আহবান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন –

Ekattor এর fb পেজ আনলাইক এবং ইউটিউব চ্যানেল Unsubscribe done. আজ থেকে ৭১ টিভি দেখবো না। আপনি?

যে পোস্টের কমেন্টে তাকে সহমত জানিয়ে প্রায় আট হাজার কমেন্ট হয়েছে এবং তারা ৭১ টিভি বয়কটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অপরদিকে সংখ্যায় খুব অল্প সংখ্যক সমর্থকরা একাত্তর টিভির পক্ষেও দাড়িয়েছে। বামধারার পরিচিত টিভি আলোচক আরিফ জেবতিক তার আইডিতে লিখেছেন –

ব্লগ জগতে আমরা এটিম বলে একটা ভার্চুয়াল টিমে ছিলাম। তো, ছাগুরা যদি কখনো আমাদেরকে গালাগালি কম করা শুরু করত অথবা কোনো লেখার প্রশংসা করা শুরু করত, তখনই আমরা চিন্তায় পড়ে যেতাম। ওমা, তাইলে বোধহয় আমরা যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারছি না।

বিরুদ্ধ পক্ষের বিরোধিতা আপনার গুরুত্বপূর্ণ ক্রেডেনশিয়াল। আপনি যাদের বিরুদ্ধে লড়েন, তাঁরা যদি আপনার উপস্থিতিতে বিরক্ত না হয়, ক্ষুব্ধ না হয়-তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি যথেষ্ট ইমপ্যাক্ট ফেলছেন না, আপনার গুরুত্ব নেই- আপনি ধইঞ্চা।