ইফতারে ফল খেলে কি অ্যাসিডিটি হয় ? জেনে নিন..

1392

সারাদিন রোজার শেষে ইফতারের আয়োজনে নানারকম ফল রাখেন অনেকেই। খালি পেটে সেসব ফল খাওয়া ঠিক না ভুল তা নিয়েও সন্দিহান থাকেন অনেকে।

অনেকের ধারণা খালি পেটে ফল খেলেই অ্যাসিডের প্রকোপ বাড়ে। ডায়েটিশিয়ানরা মনে করেন, ফল থেকে পূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়ার জন্য তা নির্দিষ্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে তবেই খাওয়া উচিত। জেনে নিন সেগুলো কী-

ফল খাওয়ার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোজায় সারাদিন শরীর পানিহীন অবস্থায় থাকে, তাই সবার প্রথমে তাকে আর্দ্রতার জোগান দিন।

এরপর যদি একটি ফল খান, তা হলে আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম নড়ে-চড়ে বসে, তার কার্যকলাপ সুষ্ঠুভাবে শুরু হয়। ফলে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা, শরীরে তার শোষণ হয় তাড়াতাড়ি। ফলে আপনার ক্লান্তি কেটে যাবে ঝটপট, তরতাজা অনুভব করবেন।

আপেল, কমলা বা পেঁপে, কলার মতো ফল ইফতারে দিব্যি খাওয়া যায়। আর না, আতঙ্কিত হবেন না, এর ফলে আপনার অ্যাসিডিটি হওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকবে না।

ইফতারে একটি আপেল বা কলা খেতে পারেন, তাতে প্রয়োজনীয় এনার্জির জোগান পাবে শরীর, খাওয়া যায় বাদাম-কিশমিশ-খেজুরের মতো শুকনো ফলও। ইফতারে ফল বা ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ সে সময়ে শরীর তার পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।

অনেকে বলেন, পেট ভরে খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে বা পরে ফল খাওয়া উচিত। তা না হলে অন্যান্য খাবারের হজম প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সময় লাগে। তাতে একদিকে যেমন পেট বেশি ভার হয়ে থাকে, তেমনই অন্যদিকে আবার কারও কারও পেট ফাঁপার সমস্যাও হতে পারে।

তাই ভারী খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফল না খেয়ে একটু আগে বা পরে খেয়ে দেখুন কেমন লাগে। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন নিয়মগুলি খাটছে, তা নিজেই বুঝতে পারবেন।

যাদের ফল খেলে অ্যাসিডিটি হয়, তারা দই, লবণ বা চিনি মিশিয়ে ফল খাবেন না। ফল খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে পানি খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেও ভালো হয়।

খালি পায়ে হাঁটলে কী হয় ?

মাটিতে পা রাখলেই একটু ঠান্ডায় শরীর শিহরিত হয়ে উঠে। নরম ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার অনুভূতিটাও অন্যরকম।

জনশ্রুতি আছে, খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য শুভকর। অনেকেই আবার ভয় পান পায়ে সংক্রমণ বা কোনো ধারাল জিনিসে পা কেটে যাওয়ার। তবে খালি পায়ে হাঁটার বেশ কিছু উপকারিতাও রয়েছে।

গবেষকদের মতে, ৩০ মিনিট খালি পায়ে হাঁটার বহু ইতিবাচক প্রভাব পড়ে শরীরে। যেমন, প্রদাহের উপসম, স্ট্রেস কমার মতো উপকার মেলে। পায়ের আকৃতি সঠিক হয়। কাজের স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

পায়ের তলার চামড়া শক্ত হয়। ওয়ার্কআউটের সময় পায়ে আঘাত লাগার সম্ভাবনা কমে। মাটিতে হাঁটলে পায়ের সংক্রমণ কমে।

এছাড়াও আপনার শরীরের ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণ হয়। খালি পায়ে হাঁটলে হাঁটু, পশ্চাদদেশের মুভমেন্ট সঠিক হয়। পায়ের জোর বাড়ে। তবে অনেক রোগের ক্ষেত্রে খালি পায়ে হাঁটা উচিত নয়।

কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না, বুঝবেন যেভাবে

কিডনি এমন একটি অঙ্গ, যেটি অবিরত কাজ করতে থাকে। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। অধিকাংশ কিডনি রোগের বেলায় কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। রোগ খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেলে লক্ষণ বোঝা যায়।

কিডনির সমস্যার কিছু লক্ষণ-

১। ফোলা-ফোলা ভাব: কিডনির সমস্যার অন্যতম লক্ষণ প্রস্রাব ও ঘাম কম হওয়া। ফলে সেই জল শরীরের গাঁটে গাঁটে জমে। অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও জল জমতে পারে। যে কারণে মুখচোখ ও শরীর ফোলাফোলা লাগে।

২। মূত্রের সমস্যা: কিডনি বিকল হলে প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়। প্রস্রাবের সময় চাপও বোধ হয়। যদি অনেকক্ষণ ছাড়া ছাড়া প্রসাব হয় এবং প্রসাবের রং গাঢ় হয় বা যদি অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রসাব হতে থাকে বা খুব ঘন ঘন ফ্যাকাশে রঙের প্রস্রাব হয়, ধরে নেওয়া যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না। রাতে ঘুমের সময় বারবার প্রস্রাব করতে ওঠাও, কিডনির সমস্যার লক্ষণ।

৩। ক্লান্তি চেপে বসবে: সুস্থ কিডনি থেকে EPO (এরিথ্রোপোয়েটিন) হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন অক্সিজেন বহন করতে আরবিসি বা লোহিত রক্তকণিকাকে সাহায্য করে।

কিডনি ফেলিওরে এই হরমোন নিঃসরণ কমে যাওয়ায় আরবিসিতে তার প্রভাব পড়ে। অল্প পরিশ্রমই ক্লান্ত করে দেয়। মস্তিষ্ক ও পেশিকেও প্রভাবিত করে। রক্তাল্পতারও একই লক্ষণ।

৪। ত্বকে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ: শরীরে যখন অতিমাত্রায় টক্সিন জমে, অথচ কিডনি কাজ করতে পারে না, ত্বকে তখন ফুসকুড়ি বেরোয়। অন্যান্য চর্মরোগও দেখা যায়।

৫। মাথা ঘোরা ও মনোনিবেশ করতে সমস্যা: শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দুটো কারণে হতে পারে। অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা নয়তো কিডনি ফেলিওর। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের জোগান কমে যাওয়ার কারণেই একাগ্রতা কমে যায়। স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যে মাথাও ঘুরবে।

৬। পিঠে ব্যথা: পিঠের উপরের অংশে যন্ত্রণার সঙ্গে কিডনির সম্পর্ক রয়েছে। কিডনি কাজ না-করলে, পিঠে যন্ত্রণা হতে পারে। আবার কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে।

৭। শ্বাসকষ্ট: কিডনির সমস্যার একটা কমন লক্ষণ। আরবিসি কমে যাওয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এর ফলে শরীরে, বিশেষত ফুসফুসে টক্সিন জমতে থাকে।

৮। ধাতব স্বাদ: শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকার কারণে খাবারের স্বাদে পরিবর্তন আসে। খাবারে রুচি লাগে না। জিভে ধাতব স্বাদ লাগে। মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোয়।

সুতরাং সারাদিনে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জাতীয় খাবার ও জল বেশি করে খেতে হবে। প্রসাব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন।