৯৫ বছর বয়সী অসুস্থ মাকে প্রতিদিন দুধ-ভাত খাওয়ান ছেলে স্বপন

619

এভাবেই প্রতিদিন ৯৫ বছর বয়সী মা’কে দুধ-ভাত খাওয়ান স্বপন- স্কুল থেকে ফিরে এমন কোনো দিন যায়নি যেদিন কিনা পরম যত্নে নিজ হাতে মাকে দুধ ভাত আর কলা খাওয়ান নি ফরিদপুরের চর টেপাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী তৈয়বুর রহমান স্বপন। তার মায়ের প্রিয় খাবার কলা দিয়ে দুধ ভাত। খাওয়ানো ছাড়াও তিনি তার অশীতিপর মাকে নিয়মিত গোসল করান ও সময়মতো ওষুধ সেবন করান।

যে দশ সাহাবি জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন

দুনিয়া আখিরাতের শষ্য ক্ষেত্র। আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান করার নিমিত্তে সত্যদ্বীনসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি এসেছিলেন অন্ধকার যুগের অমানিশা দূর করে সমগ্র মানবজাতিকে আলোর পথ দেখাতে।

তখন যাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের নামও পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা রয়েছে। যে দশজন সাহাবির বিষয়ে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তাদের আশরায়ে মুবাশশারা বলা হয়। দুনিয়াতে যে দশজন সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন-

১. হজরত আবু বকর (রা.)। তার আসল নাম আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আমর। তার উপাধি আতীক, সিদ্দীক। তার মায়ের নাম উম্মুল খায়র। পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তার হাতে হজরত উসমান বিন আফফান, হজরত যুবাইর, হজরত তালহা, হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ প্রমুখ বড় বড় সাহাবি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

তিনি হজরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সাথী। ইসলামের প্রথম খলিফা। ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

২. হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) বিন নুফাইল বিন আবদুল উযযা। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, খলিফাতুল মুসলিমিনের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম আমিরুল মুমিনিন খেতাবে ভূষিত হন। তার খেলাফতকাল ছিল দশ বছর ছয় মাস চার দিন। আল্লাহতায়ালা তার দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন।

৩. হজরত উসমান (রা.) বিন আফফান বিন আবিল আস। ইসলামের তৃতীয় খলিফা। তার খেলাফতকাল এগারো বছর এগার মাস কয়েক দিন।

৪. হজরত আলী (রা.) বিন আবু তালিব বিন আবদুল মুত্তালিব। সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তবুক ছাড়া সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাতা।

৫. হজরত তালহা (রা.) বিন উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন উমর। উহুদ যু”দ্ধে হজরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে অত্যন্ত মজবুতভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। চব্বিশ স্থানে আ’ঘা’ত পেয়েছিলেন। তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রেখেছিলেন তলহাতুল খায়র। তিনি জামাল যু”দ্ধে শা’হা’দ’ত’ব’র’ণ করেন।

৬. হজরত যুবাইর (রা.) বিন আওয়াম বিন খুয়াইলিদ। সব যু”দ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাস্তায় ত’র’বা’রি চালিয়েছিলেন। তার আকৃতিতে ফেরেশতারা বদর যু”দ্ধে অবতরণ করেছিলেন। তিনি জামাল যু”দ্ধে শা’হা’দ’ত’ব’র’ণ করেন।

৭. হজরত আবদুর রহমান (রা.) বিন আউফ বিন আবদুল হারিছ। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। সব যু”দ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

৮. হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাস্তায় তী’র নিক্ষেপ করেন। উহুদ যু”দ্ধে তাকে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তোমার ওপর আমার মা-বাবা কো’র’বা’ন হোক, তী’র নিক্ষেপ করো। তিনি সব যু”দ্ধে শরিক হয়েছেন।

৯. হজরত সাঈদ বিন যায়েদ ইবনে উমর বিন নুফাইল। বদর যু”দ্ধ ছাড়া অন্য সব যু”দ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১০. হজরত আবু উবাইদা আমের বিন আবদুল্লাহ বিন জাররা। সব যু”দ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উহুদ যু”দ্ধে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোয়ালে বিঁ’ধে যাওয়া লৌ’হ’ব’র্ম দাঁত দিয়ে বের করেছিলেন। তখন তার সামনের দুই দাঁত পড়ে গিয়েছিল।