৫ হাজার টাকায় সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন মা

137

সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন- দরিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত এক মা তার সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা শিশুকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিজের নবজাতক কন্যা সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অপরের কোলে তুলে দিয়ে বিদায় নেন মা সেলিনা বেগম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার গর্ভাবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা ছয় সন্তানের জননী সেলিনা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে গতকাল রোববার পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন রাতে হাসপাতালে তিনি একটি কন্য সন্তান প্রসব করেন।

এ সময় সেলিনা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয় হাসপাতালে তার পাশের বেডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর পরিবারের। চরম দরিদ্রতার মধ্যে বাস করা সেলিনা বেগম তার ছয় কন্যা সন্তান নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন পার করার মধ্যে নবজাতক সন্তান নিয়ে তার সমস্যার কথা তুলে ধরেন ওই পরিবাবের কাছে।

ওই পরিবারের এক মেয়ে নিঃসন্তান থাকায় তারা পাঁচ হাজার টাকার বিনিময় রেখে দেন সেলিনা বেগমের নবজাতক সন্তানকে। সন্তানকে তাদের কাছে দিয়ে টাকা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান সেলিনা বেগম।

নবজাতক কিনে নেয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, সেলিনা বেগমের অসহায় অবস্থার কথা শুনে নিঃসন্তান মেয়ের জন্য তারা বাচ্চাটি রেখে দেন।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. ফারুক আলম জানান, হাসপাতালে বাচ্চা ফেলে গেছে এক মা- এমন খবর পেয়ে আমি পুলিশ ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। বাচ্চাটিকে তাদের দায়িত্বে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, বাচ্চা বিক্রি হওয়ার অভিযোগ শুনে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে বাচ্চাটিকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

চার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর….

এক হাজার এজেন্টের চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছেন বিকাশের সাতক্ষীরা জেলা ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন। সোমবার সকাল থেকে জেলার এজেন্টরা তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ফোন ও অফিস বন্ধ। বাড়িতেও ঝুলছে তালা।

এদিকে, এজেন্টদের বিক্ষোভের মুখে বিকাশ সাতক্ষীরা অফিসের ম্যানেজারসহ তিনজনকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে এসে বিকাশ এজেন্টরা অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা চাহিদা মতো টাকা পাই না। আমাদের জমা থেকে তিন লাখ টাকা চাইলে দেয়া হয় এক লাখ। এভাবে বেশ কিছুদিন যাবত তাদের ব্যবসাও বাধার মুখে পড়তে থাকে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়ে আসছে।

এজেন্টদের অভিযোগ, বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর আমাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হুন্ডির কাজে ব্যবহার করেছেন। বিকাশ কর্মকর্তারা তাদের টাকা হাতে পেলেও ছাড়ছেন খুব কম টাকা। এতে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

সোমবার সকাল থেকে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক হোসেন ও তার অফিসের লোকজন অফিস থেকে উধাও। আজ সকালে ডিস্ট্রিবিউটর ফারুক তাদের ফোন করে জানান, যার যা টাকা দরকার সকাল দশটার আগেই আমার নম্বরে পাঠাতে হবে। বিষয়টি জরুরি।

এজেন্টরা বলেন, আমরা সকালেই টাকা ঢুকানোর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি ফারুক প্রতারণা করেছে। সে তার লোকজন নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি।

সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে ইব্রাহীম, বিশ্বজিত ও মো. মাসুম বিল্লাহকে পাওয়া গেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে।’