৫ লাখ টাকার সুদ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কাঁদছেন ব্যবসায়ী…

81

আপেল মাহমুদ একজন মাছ চাষি। বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামে। এক বছর আগে ব্যবসার প্রয়োজনে পাশের শালগ্রাম গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী বিপ্লবের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা সুদে নেন। প্রতি মাসে বিপ্লবকে প্রতি লাখে ৩০ হাজার টাকা সুদ দেন আপেল। সে হিসাবে ৫ লাখে মাসে দেড় লাখ টাকা সুদ দেন তিনি।

এদিকে মাছের ব্যবসায় সফলতা আসেনি আপেলের। মাছের ব্যবসায় তাকে লোকসান গুণতে হয়েছে। অপর দিকে দাদন ব্যবসায়ী বিপ্লব টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। বাধ্য হয়ে এক বছরের মাথায় ৫ বিঘা ফসলি জমি বিক্রি করে সুদে আসলে ১৫ লাখ টাকা দাদন ব্যবসায়ীকে দিতে হয়েছে তার।

চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করে পথে বসে কাঁদছেন আপেল মাহমুদ। শুধু আপেল মাহমুদই নন, তার মতো উপজেলার দুই শতাধিক সাধারণ মানুষ দাদন ব্যবসায়ীদের কারণে আজ পথে বসে কাঁদছেন।

এ অবস্থায় দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে পরিত্রাণ পেতে মহাদেবপুরে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড মাছ চত্বরে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম ময়েনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন মহাদেবপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াসাদ হায়দার টগর, মহাদেবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ধলু, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ রানা, নাগরিক সমাজের যুগ্ম সম্পাদক সাকলাইন মাহমুদ রকি, যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ ও পারুল রানী সহ কয়েকজন ভুক্তভোগী।

মানববন্ধনে নওগাঁ-নজিপুর সড়কের মাছ চত্বরে রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিগগিরই দাদন ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন, ফলের ব্যবসার জন্য উপজেলার বগের মোড়ে ‘কৃষি প্রগতি উন্নয়ন’ সমিতি থেকে ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জমা দিয়ে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিই। প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে তিন মাস কিস্তি দেয়ার পর ওই সমিতি উধাও হয়ে যায়।

সমিতি উধাও হওয়ার আট মাস পর আমার নামে ৫ লাখ টাকা চেকের মামলা দেয়া হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই সমিতির মালিক তানভীর ফেরদৌস ও আতিক আমাকে টাকা ধার দিয়েছেন। মামলার পর থেকে আমি বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি।

মহাদেবপুর সদরের আরেক ভুক্তভোগী মিন্টু কুমার বলেন, ‘কৃষি প্রগতি উন্নয়ন’ সমিতি থেকে ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জমা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিই। প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। এভাবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করার পর সমিতি উধাও। পরে আমার নামে ১১ লাখ টাকার চেকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

এছাড়া ফজলে রাব্বী, আশরাফুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম সহ অনেক ভুক্তভোগী মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা বলেন, সুদের টাকা দিতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারলেও আসল টাকা থেকেই যায়। দাদন ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা বিভিন্ন ভাবে হ য় রা নির শিকার হচ্ছি। আমরা এখান থেকে পরিত্রাণ চাই।