৫ ধরনের পুরুষকে কখনো বিয়ে করা উচিত নয়, মেয়েরা জেনে রাখুন

4721

বিয়ে এমন এক বন্ধন যা মানুষকে আজীবন একই বাঁধনে আবদ্ধ করে। আর বিয়ের মত এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবশ্যই বুঝে শুনেই পা দেয়া উচিত। নতুবা ভবিষ্যৎ ভালো নাও হতে পারে।

বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রী, দুপক্ষেরই সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই অনেক মেয়েই বিয়ের আগে ভাবে তার স্বামী কেমন হবে। কোন ধরনের পুরুষ স্বামী হিসেবে ভালো হবে এবং কারা হবে মন্দ তা বুঝে ওঠা সত্যিই খুবই কঠিন।

বিবাহের ক্ষেত্রে এই ৫ ধরণের পুরুষকে কখনোই বিয়ে করা উচিত নয়। এদের বিয়ে করলেই সাংসারিক জীবনে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকবে। ঝামেলা কখনোও পিছু ছাড়বে না। ফলে সুখের জীবন হয়ে ওঠবে দুর্বিষহ।

১. নারীরা খারাপ পুরুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। এই বিষয়টির সাথে বিজ্ঞানও একমত। বহু গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীর বেশিরভাগ নারীই খারাপ পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরায় তাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে।

এই সব ছেলেদের একটি আলাদা গুণ থাকে, কেউ বা কথা বলার জাদুতে, আবার কেউ অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে একটি মেয়ের মন খুব সহজেই জয় করে ফেলে যেটা করতে একটি ভদ্র ছেলের অনেক দিন সময় লেগে যায়।

ফলে সহজেই নারীরা একটি খারাপ ছেলের ওপর তীব্র আকর্ষণ অনুভব করে। অনেকেই আবার আশা করে থাকে যে হয়তো সে পরে ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এরূপ আশা নিয়ে কখনোই বিয়ে করা উচিত নয়।

কারণ এরা কখনোই ভালো হবে না। কথাতেই আছে মানুষের স্বভাব কোনদিনই বদলায় না। তেমনই এদের স্বভাবও কোনদিন বদলাবে না, উল্টে এর জন্য আপনাকেই সারা জীবন কষ্ট পেতে হবে।

২. অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক পুরুষদের সাথে বিবাহ করা একদমই ঠিক না। এতে বিবাহিত জীবন সুখের হয় না। কারণ এরা সবসময়ই নিজের গুনগান করতে থাকে, নিজের প্রশংসায় নিজেই পঞ্চমুখ হয়ে থাকে। নিজের রূপ-গুণ থেকে শুরু করে সবকিছুরই গুণগান সবসময় শুনতে থাকবেন এইধরনের পুরুষের মুখে।

এরা নিজেদের নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে নিজেরা ছাড়াও পৃথিবীতে আরো সকলে রয়েছে সেটা ভুলে যায়। এমন মানুষের সাথে বেশীক্ষণ কথা বলাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন পুরুষকে যদি বিয়ে করা হয় তাহলে হয়তো তারা কখনোই আপনার দিকে নজর দেবে না। যার ফলে বিবাহিত জীবনে কোনদিনই সুখ আসবে না।

৩. অতিরিক্ত মা ঘেঁষা ছেলেরা মানুষ হিসেবে ভালো হলেও স্বামী হিসেবে মোটেই সুবিধার নয় যদি না তার ন্যায় অন্যায় জ্ঞান প্রবল থাকে। কারণ মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, মমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে সে স্ত্রীর প্রতি কর্তব্য পালন করতে পারে না। অন্যায় হতে দেখলেও মেনে নেয় মাথা নিচু করে।

এদের সকল কাজেই তাদের মায়েরা যেনো জড়িয়ে থাকে। তাই এরা কখনোই স্ত্রীকে সাপোর্ট করতে পারেনা। মা কোন অন্যায় করলেও সেটাকে মুখ বুজে মেনে নেয়, যেটা বৈবাহিক জীবনের পক্ষে একদমই ভালো নয়। তাই চেষ্টা করুন বিবাহের ক্ষেত্রে এইরকম পুরুষকে এড়িয়ে যেতে।

৪. আমি অনেক কিছু জানি, আমি তোমার থেকে বেশি জানি এই ধরনের ভাব ধরা পুরুষদের থেকে একশ হাত দূরে থাকুন। কারণ এই ধরনের পুরুষেরা নিজেদের মতামতকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।এরূপ পুরুষেরা নিজেদের জ্ঞানী বলে মনে করে।

এরা সব কাজেই নিজেদের মতামতকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। কখনো স্ত্রীর মতামত নেয়ার প্রয়োজনও অনুভব করে না। এমন পুরুষেরা স্বামী হিসেবে একদমই ভালো হয় না।

তাই চেষ্টা করুন এমন পুরুষদের সঙ্গ এড়িয়ে যেতে।

৫. এমনও অনেক পুরুষ মানুষ দেখা যায় যারা সকলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

সে মা হোক বা স্ত্রী বা বাড়ির অন্য কোন সদস্য। এমন পুরুষদের সাথে মাটির মানুষের মতো নারীরা যারা আধুনিক জীবনের সাথে অতটা অভ্যস্ত নয়, কেবলমাত্র তারাই মানিয়ে নিতে পারবে।

প্রতিটি কাজে বাঁধা এবং নিজের আওতাধীন রাখতে চাওয়াই এইধরনের পুরুষের মূল লক্ষ্য যা আধুনিক এবং প্রগতিশীলা নারীরা একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। সুতরাং সতর্ক থাকুন, বিয়ের আগে ভেবে নিন, বুঝে নিন তারপর বিয়ে করুন।

এই ৫ ধরণের পুরুষকে একটু এড়িয়ে চলুন তাহলেই আপনার সাংসারিক জীবন হবে সুখের। তাতে আর কোন অশান্তিরও সৃষ্টি হবে না।

এছাড়া এমন পুরুষকে কখনোই বিয়ে করা উচিত নয়

মিথ্যাবাদী

সব মানুষই কখনো না কখনো মিথ্যা কথা বলেন। তবে এমন কোনো মিথ্যা বলা উচিত নয় যাতে কাউকে গুরুতর বিপদে পড়তে হয়।

ঠিক একইভাবে অনেক নারী বা পুরুষ আছেন যারা একজনের সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীন অন্যজনের সঙ্গেও প্রেমে জড়ান। এক্ষেত্রে তারা মিথ্যার আশ্রয় নেন।

গবেষকদের মতে, প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদীরা এত বেশি মিথ্যা বলেন যে, অন্যরা সেসব কথা সত্যি ভেবে ভুল করেন। তাই সম্পর্ক চলাকালীনই যদি টের পান আপনার সঙ্গী মিথ্যা বলছেন, তাহলে তার কাছ থেকে দূরে থাকুন।

কপট বা ভণ্ড

অনেকেই ভণ্ড ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এমন ব্যক্তিরা সামনে একরকম আর ভেতরে ভেতরে অসৎ থাকেন।

তাদের কাজই থাকে নিজেকে সরলভাবে উপস্থান করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। পরবর্তীতে তাদের অনিষ্ট করা। অনেক নারী ও পুরুষের মধ্যেই এমন স্বার্থ বিরাজমান।

তাই ভণ্ড মানুষের ফাঁদে কখনও পড়বেন না। আর এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করাও উচিত নয়। কারণ সাময়িক সময়ের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে সারাজীবন কষ্ট পাবেন না।

তাই খুব সতর্ক থাকুন। যাকে বিয়ে করবেন বলে ভাবছেন তার সম্পর্কে খবর নিন। যদি তাকে ভণ্ড বলে মনে হয় তাহলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন।

মানুষের সঙ্গে খেলা করেন

এমন অনেকেই আছেন যারা অন্যের ভালোবাসাকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এমন ব্যক্তিরা যদি কারও কাছ থেকে অতীতে আঘাত পান তাহলে তারা তা ছেড়ে দেন না। বরং কীভাবে ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া যায় সে চেষ্টা করেন।

এমনকি তারা কখনও ভুল করলেও তা স্বীকার করেন না। এরা নিজের ভুল ও দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। তাই আপনার সঙ্গীর মনোভাব যদি এমন প্রকৃতির হয় তাহলে অবশ্যই সে সম্পর্ক থেকে ঘুরে দাড়ান।