২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ কাতার প্রবাসী বাংলাদেশির আকস্মিক মৃ”ত্যু

105

৩ প্রবাসী বাংলাদেশির আকস্মিক মৃ”ত্যু- কাতারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন প্রবাসী বাংলাদেশির আকস্মিক মৃ”ত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। ধারণা করা হচ্ছে, বিগত দুই মাস যাবত করোনাভা’ইরা’সের কারণে কর্মহীন হয়ে অর্থ সংক’টের পাশাপাশি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে এ সব আকস্মিক মৃ”ত্যু হচ্ছে প্রবাসীদের।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টায় ক্যান্সারে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে ইমান হোসেন (২৮) নামে এক প্রবাসীর মৃ”ত্যু হয়েছে। দেশটির হামাদ হাসপাতালে মৃ”ত্যু’বরণ করেন তিনি। তার দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার কালিডাঙা গ্রামে।

অপর দিকে মৌলভীবাজার বড়লেখা দক্ষিণভাগ কামিলপুরের বাসিন্দা তুতিউর রহমান (৫০) নামে এক প্রবাসী ডায়াবেটিস ও দূরারোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে কাতারের স্থানীয় সময় সোমবার নিজরুমে মা’রা গেছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সময় রোববার বিল্লাল হোসেন (৩০) নামে আরেক প্রবাসী হৃদরোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে নিজরুমে মৃ”ত্যু’বরণ করেছেন। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা।

তিন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃ”ত্যুতে চলমান মহা’মারি করোনা সংক’টে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা শোক জানিয়েছেন। সেই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতায় চলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আকন।

করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হলেন ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ, পুলিশ ফাঁড়ি লকডাউন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া করোনা’ভাই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাচ্চু মিয়া নিজেই। তার অধীনে আট পুলিশ সদস্য ও দুজন আনসার কর্মরত ছিলেন।

এ দিকে, দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হওয়ায় সোমবার রাতে ফাঁড়িটি লকডাউন করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে কর্মরত সব পুলিশ সদস্যকে আইশোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তিনি তার রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সকল মানুষ যেন সুস্থ থাকে সবাইকে দোয়া করতে বলেছেন।

পুলিশ ক্যাম্পের একটি সূত্র জানান, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া সার্বক্ষণিক হাসপাতালে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। কখনো তিনি ছুটিতে কোথাও যাননি। এই করোনার প্রাক্কালে হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য তার ফোর্স নিয়ে সব সময় তিনি সজাগ ছিলেন।

হাসপাতালের কোন স্থান থেকে কোন সংবাদ পেলেই দ্রুত সেখানে ছুটে গেছেন। পুরাতন ভবন বলেন কিংবা নতুন ভবন বলেন আর বার্ন ইউনিটে বলেন সব জায়গায় ছোটাছুটি করেছেন। তার দায়িত্ব থেকে কখনো পিছুপা হননি তিনি। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা উনি ডিউটি করতেন।

এক পর্যায়ে ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোনে জানান, হাসপাতলে আনাচে-কানাচে আমি সব সময় ছুটে গিয়েছি। হয়তোবা সে সব জায়গা থেকেও এই ভাই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে থাকতে পারি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আমাকে রাতে রাজারবাগ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।