১৮ বছর পর নিজের মা-বাবাকে বিয়ে দিলেন মিলন !

127

নিজের মা-বাবাকে বিয়ে- ‘ভালোবাসা কারে কয়’, ‘ভালোবাসা মানে না কোনো বাধা’-এ রকম কতই না প্রবাদ রয়েছে। এরকম কত ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু এতো কিছুকে হার মানিয়েছে ঝিনাইদহের মালা ও মিলনের গল্প।

প্রেম করে বিয়ে, তারপর স্ত্রীর গর্ভে সন্তান। কিন্তু পরে সেই স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার। এরপর ডিএনএ টেস্টে মেলে সন্তানের পরিচয়। এভাবে প্রায় দেড় যুগ পর (ছয় হাজার ৫৭০ দিন) স্বামী ইসলামের স্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ঝিনাইদহের মালা। সন্তানের মর্যাদা পেলেন মিলন। দেড় যুগ আইনি লড়াইয়ের পর তারা এ স্বীকৃতি পান।

প্রথমে প্রেম করে বিয়ে। এরপর গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দ্বিতীয় দফায় বিয়ে হয়েছে তাদের। এতে উপস্থিত ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছেলে মিলন। ১৮ বছর পর নিজের মা-বাবাকে বিয়ে দিলেন নিজের সন্তান।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়: ঝিনাইদহের লক্ষীপুর গ্রামের মেয়ে মালার সাথে একই গ্রামের ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক হয়। লোকচক্ষুর অন্তরালে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করতে থাকেন। এরপর স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বিয়ে করেন।

পরবর্তীতে মালা গর্ভবতী হন। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারী মালার গর্ভে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। যার নাম রাখা হয় মিলন। তখন মালার পরিবার ও স্থানীয়রা বিয়ের জন্য বললে ইসলাম মালার সাথে তার বিয়ে ও মিলনের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।

এরপর মালার পিতা ইসলামের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণে র মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলায় বিচারিক আদালত ইসলামকে যাবজ্জীন কারাদণ্ড দেন। সাজার এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে হাইকোর্টে সাজার রায় বহাল রাখেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ইসলাম আবেদন করলে আপিল বিভাগও সাজার রায় বহাল রাখেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন যাবজ্জীন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসলাম।

এই রিভিউ শুনানিতে যাবজ্জীন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসলামের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।

এরপর ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগকে বলেন, মালা ইসলামেরই স্ত্রী। আর মিলন যে ইসলামের সন্তান সেটা হাইকোর্টের আদেশর পর ডিএনএ রিপোর্টে প্রমাণিত। এরই মধ্যে কারাগারে ইসলাম ও মালার বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। তাই মালা ও মিলনকে ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ইসলামকে কারামুক্তি দেওয়া হোক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ যাবজ্জীন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসলামকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।

আজকের আদেশের বিষয়ে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন: মালা ও মিলনকে স্বীকৃতির পরই আপিল বিভাগ ইসলামকে জামিন দিয়েছেন। দ্রুতই ইসলাম কারামুক্তি পাবেন বলে আশা করি। আর দেড় যুগ পর একজন স্ত্রীকে স্বামীর ও সন্তানকে তার বাবার স্বীকৃতি নিশ্চিত করিয়ে দিতে পেরে নিজের ভাল লাগছে। এটি একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।