হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কথা বললেন না

67

হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা- সাংবাদিকদের যে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছিল, তা অনুসারে কথা ছিল সকাল ১০টায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ডের উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কিন্তু পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত ডেঙ্গু বিষয়ক ‘সাইন্টিফিক সেমিনারে’ বক্তব্য রাখতে দেখা গেলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। এরপর হাসপাতালের ৫ তলায় ৮৫ শয্যাবিশিষ্ট ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন করলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি মন্ত্রী।

বরং দ্রুততার সঙ্গে ৫ রুমের ওয়ার্ডটি ঘুরে দেখে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন তিনি। আজ (১ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সকালের এ ঘটনায় সাংবাদিকরা কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রীর অনুষ্ঠানের যে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো সেমিনারের বিষয় উল্লেখ না থাকায় তারা এতে যোগ দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক বলেন, দেশে ডেঙ্গু প্রকোপের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মালয়েশিয়া যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই বাধ্য হয়ে ফিরে এসেছেন। যে কারণে এখানে বক্তব্য রাখেননি বা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হননি।

চিকিৎসকদের সঙ্গে ডেঙ্গু বিষয়ক যে সেমিনারটি হয়, সেখানে মন্ত্রীর উপস্থিতির কথা থাকলেও তা সবাইকে জানানোর ক্ষেত্রে রাখঢাক দেখা যায়। কিন্তু কেন এমন রাখঢাক ছিল, তা বোঝা যায়নি। সুত্র-বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী রোববার ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সততার কমতি নেই। তবে, অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে।

একারণে, ডেঙ্গু নিরাময়ে কলকাতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সেখানকার ডেপুটি মেয়র কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা শিগগিরই বাংলাদেশে আসবেন। এসময় যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর নতুন ওষুধ আনা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ে যিনি কাজ করেছেন, তার নাম অনিক ঘোষ। আমি তাকে ফোন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, আমাকে তাড়াতাড়ি আমন্ত্রণপত্র পাঠান। আমি আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। আগামী রোববার অনিক ঘোষ বাংলাদেশে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কোনো বাণিজ্য করবেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যে মূল্যতালিকা দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী ফি নেবেন। সব রোগীকে মশারির ভেতর রাখবেন। যে এলাকায় ডেঙ্গু হয়েছে অথবা ডেঙ্গু রোগী থাকেন, খবর দিলে আমরা সেখানে স্প্রে করে দেবো।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার সততার কমতি নেই। কিন্তু, অভিজ্ঞতার কমতি আছে। আমি মনে করি, ডেঙ্গু রোগের জন্য অবশ্যই ৩৬৫ দিনই গবেষণা করতে হবে। এটা সিজনাল না, যে কোনো সময় আসতে পারে। তাই, এটি নিয়ে জাতীয় ভাবে একটি গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা দরকার।

তিনি বলেন, আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। শুধু মশা মারলে হবে না, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটি একটি টেকনিক্যাল ব্যাপার। আমাদের এখন তিনটি কাজ আছে। এগুলো হলো- স্বল্প সময়ের কাজ, মধ্যম সময়ের কাজ ও দীর্ঘ সময়ের কাজ।

মেয়র বলেন, খারাপ ওষুধ নিয়ে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটা নিয়ে বলতে চাই, আমার সিটি করপোরেশনে যে চালানটি এসেছিল, পরীক্ষার পরে দেখেছি, ওষুধগুলো কার্যকর নয়। এরপর ওষুধের ওই কোম্পানিকে আমরা কালোতালিকাভুক্ত করেছি। ওই চালানটিও বাতিল করা হয়েছে। খারাপ ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। পরবর্তী চালানের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত সোমবার সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে দেখা যায়, ওষুধ আমদানিতে কিছু কিছু জটিলতা ছিল। যেমন, সারাবিশ্বে অনেক উন্নত ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু, ২০১৫ সাল থেকে সেগুলো আমদানি বন্ধ ছিল। তবে, যত সমস্যা ছিল, সেগুলোর সমাধান হয়ে গেছে। এখন রেজিস্ট্রেশন করা যে কেউ সে ওষুধ আনতে পারবে।

প্রত্যেক রোগীকে মশারির ভেতর রাখতে হবে উল্লেখ করে মেয়র আতিকুল বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে ১৪ হাজার মশারি বিভিন্ন হাসপাতালে দিয়েছি। আমাদের কাছে এখনো ১৬ হাজার মশারি রয়েছে। সেগুলোও বিতরণ করা হবে।