স্বাধীনতা যুদ্ধে মকবুল আহমাদ কোনো ক্ষতিকর ভূমিকায় ছিলেন না : জয়নাল হাজারী

146

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মরহুম মকবুল আহমাদ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ক্ষতিকর ভূমিকায় ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী।

তিনি মকবুল আহমাদের প্রশংসা ও তার মৃ’ত্যু’তে শোক প্রকাশ করেছেন।

গত ১৫ এপ্রিল তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ কথা বলেন। যা পরে হাজারিকা প্রতিদিন নিউজ বুলেটিন-ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

ফেসবুক লাইভে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘মকবুল আহমাদ আমাদের ফেনী অঞ্চলের ভদ্রলোক, ফেনীর কৃতি সন্তান ছিলেন। তিনি এক সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রধান (আমির) ছিলেন। মকবুল সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। তার জানাজায়ও তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তিনি ভ্দ্রলোক ছিলেন। মনে হয় জীবনে কারো সাথে কোনো দুর্ব্যবহার করেননি। পরহেজগার মানুষ ছিলেন। সৎ মানুষ ছিলেন। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা যেভাবেই নেন না কেন, আমি এই মানুষটাকে সৎ হিসেবেই বিবেচনা করি। এমনকি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও তিনি কোনো ক্ষতিকর ভূমিকায় ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও ছিল না।’

‘তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও কোনো মুক্তিযোদ্ধার বিরোধিতা করেননি। রাজাকারদের নেতৃত্ব দেননি। এরকমটাই শোনা গেছে,’ যোগ করেন জয়নাল হাজারী।

এ সময় তিনি মকবুর আহমাদের সাথে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের কিছু স্মৃতি স্মরণ করেন। ওই নির্বাচনে মকবুল আহমাদও জয়নাল হাজারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ওই নির্বাচনের সময়কার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ৩টার সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হলো যে আমরা নির্বাচন ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি ভিপি জয়নালকে ভোট দেবে। তখন আমি এবং মকবুল সাহেব পাইলট হাইস্কুলের গেটে দাঁড়ানো।

মকবুল সাহেব বললেন কেনো? আমাদের যে কয়টা ভোট আছে আমাদের ভোট আমরা নেবো। ওমুকরে দেবো তমুকরে দেবো এসব কেনো? এটা হওয়ার দরকার নেই। আমরা আমাদের ভোট আমাদেরকেই দেবো।’

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘মকবুল আহমাদ বললেন, ভিপি জয়নালকে কেনো? জয়নাল হাজারী কী দোষ করলো? ভোট কাউকে দেয়ার দরকার নেই। আমাদের ভোট আমরাই চাই। আর যদি ভোট কাউকে দেয়ার প্রশ্ন ওঠে যার যাকে মনে চায় তাকেই দেবে।’

তিনি বলেন, ‘মকবুল সাহেবের এই সিদ্ধান্ত যদি না হতো সমস্ত জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা যদি ভিপি জয়নালকে ভোট দিতো তাহলে তো আমার বিপদও হতে পারতো। যদিও তখন আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাত্তার সাহেব।’

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘যাই হোক। এ লোকটা (মকবুল আহমাদ) ভালো ছিলেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন। তাকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’ সুত্রঃ নয়া দিগন্ত