স্বাধীনতা দিবসে মালয়েশিয়ার ১০ মেরদেকা শিশুর জন্ম…

30

স্বাধীনতা দিবসে মালয়েশিয়ার ১০ মেরদেকা- মালয়েশিয়ায় ১০ মেরদেকা শিশুর জন্ম হয়েছে। গতকাল শনিবার মালয়েশিয়ার ৬২ তম স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠান নিয়ে সবাই যখন ব্যস্ত ঠিক তখনই ইপু রাজ্যের রাজা পারমাইসুরী বাইনুন হাসপাতালে আট মেয়ে এবং দুটি ছেলে জন্মগ্রহণ করেছে।

জন্ম নেয়া শিশুদের দেয়া হয়েছে মারদেকা বেবিস। এনজি নামের একটি স্কুল ক্যান্টিন অপারেটর বলেছিলেন যে, বিশেষ দিনে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে পেরে তিনি খুব আনন্দিত। “আমি শুক্রবার রাত ১০ টায় প্রসবের ব্যথা অনুভব করি এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পরে আমার ছোট্ট রাজকন্যার জন্ম হয়।

আমরা তার নাম কুইন্সি পং রেখেছি। অল্প বয়সী মা নূর শাজরেন আরিফিন বলেছেন, যে জাতীয় দিবসে তার প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়ার পরে তিনি স্বস্তি এবং খুশি ছিলেন। তার মেয়ে নূর সায়স্য হেলেনা মোহাম্মদ শাহফ্রি, ৩.৩ কেজি ওজনের, সকাল ১১.২৫ মিনিটে জন্মগ্রহণ করে।

চিকিৎসকরা বলেছিলন আমার নির্ধারিত তারিখটি সেপ্টেম্বর হবে, তবে আমার ধারণা আমার এই শিশুটি এই বিশেষ দিনে বিশ্ব দেখার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। আমার স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রার্থনা করে আসছিলেন যে জাতীয় দিবসে শিশুর জন্ম হবে এবং তাদের প্রার্থনার উত্তর দেয়া হয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।

চিন হুই পেং ক্যামেরন হাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন, চিন জানিয়েছেন, তার ৩.০৬ কেজি বাচ্চা মেয়েটির ৩ অক্টোবরে হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোরে আমার পিঠে ভীষণ ব্যথা হতে শুরু করে এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে ক্যামেরন হাইল্যান্ডস থেকে এখানে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

আমার তৃতীয় সন্তানের একটি স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে। আমি সত্যিই জাতীয় দিবসে তার জন্ম আশা করিনি। তবুও আমি খুব খুশি এবং গর্বিত। গৃহবধূ এম ভিতিয়াহ সকাল সাড়ে ৮ টা ৪৫ মিনিটে তার পঞ্চম বাচ্চা ৩.৬৫ কেজি ওজনের প্রসব করেছেন।

তিনি বলছিলেন “আমার প্রসব বেদনা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাকে কুয়াল কংসার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছে। ভিতিয়াহ বলেছিলেন, জাতীয় দিবসে আমার বাচ্চা মেয়েকে প্রসবের আগে আমি দু’দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, ভিটিয়া বলেছিলেন, তিনি আরও খুশি হন যে তার মেয়ে প্রতি বছর একটি বিশেষ দিনে জন্মদিন উদযাপন করবে।

এদিকে, হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ওমর তরমিজি আহমদ শাইবি জানিয়েছেন, বোর্ডটি নবজাতকের মায়েদের জন্য একটি মাইলফলক দিন। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের পাশাপাশি গোটা জাতি নবজাতকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সুত্র-যুগান্তর।

এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের আটক রাখা হতে পারে বন্দি শিবিরে

আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় রাজ্যটিতে ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে তাদের ঠাঁই হবে শরণার্থী শিবিরে। নাগরিকপঞ্জি থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা মূলত অতি দরিদ্র এবং বেশিরভাগই মুসলমান। যদিও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, বাঙালি অনেক হিন্দুর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

সে ক্ষেত্রেও দেখা যাবে গরিব লোকজনই আসলে বাদ পড়েছে। আইনি সাহায্য নিতে গড়ে প্রত্যেক ব্যক্তির খরচ পড়বে ৪০ হাজার ভারতীয় রুপির মতো। যদি ওই মামলা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত যায়, তবে খরচ আরও বাড়বে। দরিদ্র এ মানুষগুলো আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরার এবং মামলা লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে পাবে সেটাও বড় প্রশ্ন।

আসামের লেখিকা সঙ্গীতা বড়ুয়া পিশারতি বিবিসিকে বলেন, যাদের নাম তালিকায় নেই তারা এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। তার অন্যতম প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করছেন। ফলে তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে এটা ভেবেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে যারা বিদেশি বলে ঘোষিত হবেন তাদের নিয়ে কী করবে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এর আগে বেশ জোর দিয়েই ‘অবৈধ মুসলমান অভিবাসীদের’ বাংলাদেশে বিতাড়নের কথা বলেছিল। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই তাদের গ্রহণ করবে না।

নাগরিকপঞ্জিতে বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বের করে দেয়া হতে পারে বলে যে আলোচনা তা নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে। বিদেশি ঘোষিত হওয়া লোকজনকে যদি বিতাড়ন করা নাও হয় বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হতে পারে।

এছাড়া তারা নিজেদের সম্পত্তির দখল পাবে কিনা বা একজন নাগরিক যেসব সামাজিক সুবিধা পান সেগুলো পাবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। হতে পারে বন্দিশিবির থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের মৌলিক কিছু সুযোগ-সুবিধাসহ কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু তারা আর ভোট দিতে পারবেন না।