স্কুলছাত্রী সেমন্তির আ ত্ম হ ত্যা : ২ কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা…

72

২ কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা- বগুড়ায় মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে আত্ম হ য় বাধ্য করার অভিযোগে দুই কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রীর বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন সোমবার ( ২৭ আগস্ট) বগুড়া নারী ও শিশু নি র্যা তন দমন ট্রাইবুন্যাল-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবির আহমেদ (২০) ও একই এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে শাহারিয়ার অন্তু (২১)। আবির আহমেদ বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং শাহরিয়ার অন্তু একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী সেমন্তির ন গ্ন ছবি তোলার পর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাকে আত্ম হ ত্যায় বাধ্য করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বগুড়া নারী ও শিশু নি র্যা তন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম ফজলুল হক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

বগুড়ার স্কুলছাত্রী সেমন্তির বাবা হাসানুল মাশরেক একই অভিযোগে গত ২১ আগস্ট উল্লেখিত দুই আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সেই আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে বগুড়া ওয়াইএমসিএ স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তি নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করে।

সোমবার বগুড়ায় নারী ও শিশু নি র্যা তন দমন ট্রাইব্যুনালে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, স্কুলছাত্রী সেমন্তির সঙ্গে কলেজ ছাত্র আবির আহমেদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আবিরের পরামর্শে সেমন্তি তার মোবাইল ফোনে কিছু ন গ্ন ছবি তোলে। এরপর ওই ছবি গুলো সেমন্তির মোবাইল ফোন থেকে আবির তার নিজের মোবাইল ফোনে নিয়ে নেয়।

তারপর ওই ছবি গুলোর একটি অপর আসামি শাহারিয়ার অন্তুর মোবাইল ফোনে পাঠায় আবির। এরপর আবির ও অন্তু সেমন্তিকে ফোন করে ওই ছবি গুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে সেমন্তি গত ১৮ জুন দিবাগত ভোররাতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করে।

এ মামলার বাদী হাসানুল মাশরেক রুমন মামলায় অভিযোগ করেন, তার মেয়ের আ ত্ম হ ত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে আসামি আবির তাকে দুইবার ফোন দেয় এবং বলে ‘আপনার মেয়ে আজ রাতে সুইসাইড করতে পারে।’

এরপর আমি আমার মেয়েকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন সে আবির নামে ওই ছেলেটির সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে জানায়, আবিরের মোবাইল ফোনে তার ন গ্ন ছবি রয়েছে। ওই ছবি গুলো আবির ও তার পরিচিত অন্তু ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। তখন আমি আমার মেয়েকে বিষয়টি নিয়ে আ ত ঙ্ক গ্র স্ত না হওয়ার পরামর্শ দেই। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরেই সে আত্ম হ ত্যা করে।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অপমৃ ত্যু মামলা রুজু করে। পরবর্তীতে মামলা করতে গেলে গত ১৪ আগস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়া হয়।

বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নরেশ মুখার্জি জানান, স্কুলছাত্রী সেমন্তির আত্ম হ ত্যায় প্ররোচণা সংক্রান্ত মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত বগুড়া পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ছাত্রীকে যৌ ন হ য় রা নির অভিযোগে শিক্ষক আটক !

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌ ন হ য় রা নির অভিযোগে শিক্ষক আব্দুল হাকিমকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে স্কুল থেকে আটক করে পুলিশ।

ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, রোববার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের ওই শিক্ষক দেয়ালে ঠেসে ধরে আমার মেয়ের কপালে চুমু খায়। মেয়ে বাড়ি এসে আমাদের বিষয়টি জানায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি। প্রধান শিক্ষক সোমবার সকালে স্কুলে যেতে বলেন। আমি স্কুলে না গিয়ে থানায় অভিযোগ করি।

এ বিষয়ে নাটোর থানা পুলিশের ওসি কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষক আব্দুল হাকিমকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজনীন আখতারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।