সীমান্তে আবারও ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ !

62

আবারও ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ- আবারও সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরিতে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে পাক সেনারা গুলি চালিয়েছে।

ভারতের তরফ থেকে এমন অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে, বিনা উস্কানিতে নিয়ন্ত্রণ রেখায় গোলাগুলি শুরু করে পাক সেনাবাহিনী।

কিছুক্ষণ পরই পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। গোলাগুলিতে দু’পক্ষের তরফ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতি বা হ তা হ তে র বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে দু’পক্ষ নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনির রাজৌরি সেক্টরে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে হঠাৎ করেই হামলা চালায় পাক সেনারা। ভারতের সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। পাল্টা জবাব দিতে ভারতীয় জওয়ানরাও হামলা শুরু করে। পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিতে আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।

দু’পক্ষের মধ্যে এখনও গোলাগুলি চলছে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান এমন সব অ স্ত্র ব্যবহার করছে যা সাধারণত যু দ্ধে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের কাছাকাছি বসতি এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তবে চুপ করে নেই ভারতও। সুত্র- দৈনিক ইনকিলাব।

পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভারতকে ফ্রান্সের চাপ

ফরাসী রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এসময় তিনি জি-৭ সম্মেলনের আগে জলবায়ু এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে তিনি এ বৈঠকে অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্কট নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের জন্যও চাপ দিয়েছেন। (খবর ডনের) গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ম্যাক্রোঁ নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন।

ম্যাক্রন বলেছেন যে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের দিকে এগোতে আহবান জানিয়েছেন। এছাড়া সংঘাত এড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি। গত ৫ আগস্ট মোদী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনকে হ্রাস করে এই অঞ্চলে কয়েক হাজার সেনা প্রেরণ করেছিলেন।

মোদী তার বিবৃতিতে কাশ্মীরের বিষয়ে কোনও উল্লেখ করেননি। এর আগে মঙ্গলবার, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ফ্রান্স এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।

ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান-ইয়ভেস লে ড্রিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের পরে কুরেশি এ কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফরাসী মন্ত্রীকে বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি ও সুরক্ষার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি চলছে”,যা ভারত গৃহীত পদক্ষেপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি ভারতের অধিকৃত কাশ্মীরের “কারফিউ তুলতে এবং জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগকে লাঘব করতে ভারতের উপর চাপ দেওয়ার জন্য ফ্রান্সকে” অনুরোধ করেছিলেন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে ফ্রান্স “পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং উভয় পক্ষকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।”

ফরাসী মন্ত্রী বলেন, “যাতে এখানে আর কোন সংঘাতের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য” প্রয়োজনীয়তার উপর নজর রেখেছি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও মঙ্গলবার কাশ্মীরের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোনে বলেছিলেন যে, বিষয়টি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমাধান করার জন্য।