সাগরে ভাসতে থাকা ভারতের রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধার করলো বাংলাদেশি নাবিকেরা

179

সাগরে ভাসতে থাকা ভারতের রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধার- সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিরা খু ন হলেও বঙ্গোপসাগরে সাত দিন ধরে ভাসতে থাকা পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ দাসকে উদ্ধার করে বাংলাদেশি নাবিকরা মহানুভবতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সম্প্রতি এ ধরণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশি জাহাজটি ওই ব্যক্তির পিছনেই ছিল। প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে তাকে ফের পাওয়া যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৷ বাংলা জানা থাকায় তার সঙ্গে কথা বলতে সুবিধা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ দাস জানিয়েছেন, হলদিয়ার অদূরে বাংলাদেশ ভারত সমুদ্র সীমান্তের কাছে তিনি মাছ ধরছিলেন ৷

হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়লে ফিশিং বোট উলটে যায়। বোটের ভেতর ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন ছিটকে পড়েন। বাকি ৫ জন ছিল তাদের খবর অজানা। ৩ জন একসাথে ভেসে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ২ জন তলিয়ে গিয়েছেন। বেঁচে যান শুধু রবীন্দ্রনাথ।

এদিকে সীমান্তে যখন দুই বাংলাদেশিকে হ.. ত্যা করলো বিএসএফ ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশি নাবিকদের এমন মানবতাবাদী আচরণ বিএসএফ কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলবে বলে মনে করেন কুটনীতিবিদরা।

সুত্র-বি ডি ২৪ লাইভ।

উদ্ধাররের পর যা বললেন সেই ভারতীয় জেলে

পাঁচ দিন বঙ্গোপসাগরে ভাসার পর উদ্ধারকৃত ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাসকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কোস্ট গার্ড কার্যালয়ে মেডিকেল চেকাপ শেষে সিএমপির পতেঙ্গা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, ভারতীয় জেলে রবীন্দ্র নাথ দাসকে ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে কেএসআরএম কতৃপক্ষ। তবে সে বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা, মানবিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে কেএসআরএম এর কর্মকর্তাদের কাছে।

কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের জাহাজ এমভি জাওয়াদ গত ১০ জুলাই বেলা পৌনে একটার দিকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া অংশ থেকে ভারতীয় জেলেকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ভারতীয় রবীন্দ্রনাথ দাস জানান, গত ৫ জুলাই সীমান্তবর্তী এলাকা ভারতের কেদুয়া থেকে কাঠের নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে বের হন মোট ১৫ জন জেলে। পরের দিন অর্থাৎ শনিবার উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় তাদের নৌকা উল্টে ডুবে যায়। এরপর তারা ১৫ জন একটা বাঁশ আঁকড়ে ধরে ২/৩ দিন এক সাথেই ছিলেন। পরে একজন একজন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে তলিয়ে যেতে আরম্ভ করে। সর্বশেষ তিনি ও তার ভাতিজা স্বপন দাশ (২২) জীবিত ছিলেন।

তিনি জানান, আমার গায়ের লাইফ জ্যাকেট খুলে দিয়েও ভাতিজাকে রক্ষা করতে পারলাম না। এমভি জাওয়াদ আমাকে উদ্ধার করার ঘন্টা তিনেক আগে বড় একটি ঢেউয়ের সাথে ভাতিজা ভেসে যায়।

বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধতার কথা জানিয়ে রবীন্দ্র নাথ বলেন, এদেশের মানুষ আমার জন্য যা করেছে তা আমি কখনোই ভুলবো না। বাংলাদেশের কোস্টগার্ডরা যদি একটু খুঁজে দেখে তাহলে বাকিদেরও খোঁজ মিলতে পারে।

এদিকে, রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধার করা খুব সহজ ছিল না জানিয়ে জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এস এম নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা গত ১০ জুলাই তাকে উদ্ধার করি। সকাল ১১টায় তাকে আমরা দেখেছিলাম। তাকে যখন আমরা উদ্ধার করি তখন ১২টা ৪৫ মিনিট। মানবিকতার জায়গা থেকে আমরা সব সামর্থ দিয়ে চেষ্টা করেছি তাকে উদ্ধার করতে। তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।