শেষ বলের আগে মুশফিকের কথা মনে পড়েছিল: স্টোকস

176

শেষ বলের আগে মুশফিকের কথা- বিশ্বকাপের ফাইনালে চরম নাটকীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে হারিয়ে শিরোপা জিতে ইংল্যান্ড। সদ্য সমাপ্ত এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু আসর চলাকালে এ স্থান দখল করে নেয় ভারত। তবে শিরোপা জয়ে সেই মুকুট ফিরে পেল ইংলিশরা।

বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আইসিসি। তাতে ১২৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে নয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তাদের সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে ভারত। ১২২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তারা। সম্প্রতি শাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক বেন স্টোকস। তিনি বলেন ইনিংসের শেষ বলের ঠিক আগে মুশফিকুর রহিমের কথা মনে পড়েছিল তার।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ৩ বলে ২ রান দরকার ছিল। বড় শট খেলতে গিয়ে সেবার মিড উইকেট অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ওই বাজে শটের কারণে প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচ হেরে বসে বাংলাদেশ। আর ম্যাচটি জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে ভারত।

এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালেও অনেকটা মুশফিকের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েন স্টোকস। ইংলিশদের বিশ্বকাপ ‘নায়ক’ বলেন, শেষ বলের ঠিক আগে, আমার মাথায় ছিল শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচটি (২০১৬ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে)। মুশফিকের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন স্টোকস এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে, ছক্কা মেরে নায়ক হওয়ার চেয়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া বেশি জরুরি।

স্টোকস বলেন, ‘ছক্কা মেরে নায়ক হওয়ার চেষ্টা করো না। এক রান নেওয়ার চেষ্টা করো এবং ম্যাচটা সুপার ওভারে নিয়ে যাও। এটাই ছিল আমার ভাবনা। ওই সময় আবেগ ছিল অনেক বেশি।’ স্টোকসের পরিকল্পনা অনেকটাই কাজে লেগে গিয়েছিল। তার ব্যাটেই সুপার ম্যাচটা সুপার ওভারে নিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

যদিও দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ৫০ ওভার শেষ হওয়ার আগে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন। এ জন্য অবশ্য নিজের ওপর কিছুটা বিরক্ত স্টোকস। আমি নিজের ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছিলাম। ওই সময় আমার মাথা ঠিক রাখা এবং দলের জন্য কাজটা শেষ করে আসা জরুরি ছিল,’ যোগ করেন স্টোকস।

সুপার ওভারেও ব্যাট হাতে নামেন স্টোকস। সঙ্গী হন জস বাটলার। ক্লান্ত-শ্রান্ত অলরাউন্ডার স্টোকস সেখানেও একটা বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বড় অবদান রাখেন। যদিও সুপার ওভারে সমান রান করে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে বাউন্ডারির হিসাবে বিশ্বকাপটা ইংল্যান্ডের ঘরেই যায়। আর জয়ের নায়ক হয়ে ‘জাতীয় বীর’ হয়ে যান স্টোকস।

সুত্র-বি ডি ২৪ লাইভ।

বিশ্বকাপের আগের দিন খু’ ন হন আর্চারের ভাই

বিশ্বকাপে দারুন করছে ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চার। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ১২তম আসরে এই ইলিংস বোলারে বোলিং তোপে কোণঠাসা ছিলো বিশ্বের সব বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা। তার সুইংয়ে ও গতির কাছে পরাস্তা হয়েছে নামি-দামি ব্যাটসম্যানরা। এমনকি ফাইনালেও সুপার ওভারেও ইংল্যান্ডে হাতে সেই মুল্যবান ১ ওভার বল করেন আর্চার।

তবে বিশ্বকাপে ইংলিশ এই পেসার খেলতে এসেছিলে ভাইয়ের মৃ’ ত্যু’র শোক নিয়ে। বিশ্বকাপের ১২তম আসর শুরু হওয়ার একদিন আগেই দু র্বৃ ত্তদের হাতে গু’ লি’ বি’দ্ধ হয়ে মা’ রা যান জোফরা আর্চারের ভাই (কাজিন) আশান্তিও ব্ল্যাকম্যান। অন্য দশজন ভাইয়ের চেয়ে ব্ল্যাকম্যান ছিলেন গতি তারাকা আর্চারের খুব কাছের।

এই দুই জন প্রায় এক সাথেই বেড়ে উঠেছেন এবং অনেক ক্রিকেটও খেলেছেন। ভাই ও প্রিয় বন্ধুর এমন মৃ’ ত্যু কিছুতেই মানতে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু নিজের শোকটা কখনোই প্রকাশ করেননি আর্চার। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ২০ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়ে দলের বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি।

সম্প্রতি আর্চারের বাবা ফ্র্যাঙ্ক দ্যা টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আশান্তিওর মৃ’ ত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছিলেন আর্চার, তারা দুইজন সমবয়সী ছিল। মা’ রা যাওয়ার আগের দিনও দুইজনের কথা হয়েছে। এমন কাছের মানুষের মৃ’ ত্যু আর্চারকে খুব কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সে এই কষ্ট চেপে রেখেই এগিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের সময় এটা তাকে করতেই হতো।