রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিলেন মেম্বার, ২০ গ্রামের মানুষ অবরুদ্ধ !

88

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের একটি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় দুটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে দুটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন ভাওড়া ইউনিয়নের ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য হুমায়ুন মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার হোসেন। রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় ওই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা গত ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ আছেন।

পাশাপাশি রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার ও আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে না পারায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলাচলের জন্য হাড়িয়া খেয়াঘাট থেকে উয়ার্শী ইউনিয়নের বাঙলা পর্যন্ত একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার মানুষ ছাড়াও ধামরাই ও দেলদুয়ার উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। হাড়িয়া খেয়াঘাটের আনুমানিক ২০০ গজ দূরে ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়ার বাড়ি। বাড়ির সামনে দিয়ে নদী থাকায় চলাচলের সুবিধার্থে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাদের বাড়ির ভেতর দিয়ে ওই রাস্তাটি নির্মাণ করেন।

রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় রউফ ও রশিদ তাদের বাড়ির সামনে ও পশ্চিম পাশ দিয়ে নিজেদের জমি ভরাট করে চলাচলের জন্য ১২ ফুট পাশের একটি রাস্তা তৈরি করেন। সেই সঙ্গে বাড়ির ভেতর দিয়ে যাওয়া পুরাতন রাস্তার প্রায় ৬০ ফুট বন্ধ করে দেন। পরে হাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামের লোকজন নতুন রাস্তা দিয়ে হাড়িয়া বাজার, হাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতেন।

এক মাস আগে হাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার ও তার ভাই ফজলু, মজিবর এবং শাজাহান নতুন রাস্তার উত্তর পাশে ও রশিদের বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন।

এতে হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার, উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের উয়ার্শী, সাফর্তা, নওগাঁও, নাগরপাড়া, ধামরাই উপজেলার বাংগলা, দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটীসহ ২০টি গ্রামের লোকজনের ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশের বেড়াটি ভেঙে দেন।

গত শনিবার (৩১ আগস্ট) আব্দুর রউফ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার সীমানায় ইউপি সদস্য হুমায়ুন মিয়ার নির্দেশে এবং পশ্চিম পাশে সেকান্দার গংরা বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদের পরিবার পুনরায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গত ১০ দিন ধরে গ্রামের ৪৫টি পরিবারসহ আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘটনাটি জানার পর গত বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ঘোষ, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান ও শনিবার টাঙ্গাইলের ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তবে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে না পারায় হাড়িয়া গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হাড়িয়া গ্রামের রাজিব হোসেন, দলিল উদ্দিন, নুরু মিয়া, আনোয়ার হোসেন জানান, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামের ৪৫টি পরিবার দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের অনেক পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে হাড়িয়া বাজার ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা বিজিবি সদস্য সজিব হোসেন ও মামুন মিয়া জানান, হাড়িয়া গ্রামে তাদের এক আত্মীয় মারা গেছেন। তার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য এসেছেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা আটকা পড়েন।

ভুক্তভোগী পরিবারের আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, রাস্তাটির প্রায় ৬০ ফুট আমাদের বাড়ির ভেতরে রয়েছে। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে হয়। রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল ও সিএনজিসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। বাড়ির পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের জমির ওপর মাটি ভরাট করে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছি। ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করছিল।

এক মাস আগে হঠাৎ সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশের বেড়া দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেড়াটি ভেঙে দেন। কিন্তু শনিবার পুনরায় সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার ও বর্তমান ইউপি সদস্য হুমায়ুন বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি আমরা। এছাড়া গ্রামটির ৪৫টি পরিবারের সদস্যরা বেকায়দায় পড়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার হোসেন বলেন, রউফ ও রশিদ তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া পুরাতন রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছি আমরা।

ভাওড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন মিয়া জানান, তিনি রাস্তা বন্ধ করেননি। গ্রামের লোকজন রাস্তা বন্ধ করেছেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বিগত ইউপি চেয়ারম্যানরা রাস্তা বানিয়েছেন। হঠাৎ কেউ রাস্তা বন্ধ করতে পারেন না। পুরাতন রাস্তাটি মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, এক মাস আগে বাঁশের বেড়াটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। পুনরায় বাঁশের বেড়া দেয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যাই। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।