রসুন প্রাকৃতিক শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক!

167

রসুন শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক- রসুনের জুরি মেলা ভার। বহু শারীরিক সমস্যার সমাধান হয় রসুনের সাহায্যে। খালি পেটে রসুন খাওয়া হলে এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে। সকালে ব্রেকফাস্টের আগে রসুন খেলে এটি আরও কার্যকরীভাবে কাজ করে। ভোজন রসিক বাঙালিরা রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য মাছ-মাংস সহ বেশিরভাগ রান্নায়ই রসুনের ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসায় তথা স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন ব্যবহারের প্রচলন আজ থেকে নয়।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে রসুন ব্যবহার হচ্ছে অন্তত ১৫০০ বছর আগে থেকেই। রসুনের সম্পর্কে আবার অনেকের ধারণা এমন যে, এটি খেলে শরীর গরম হয়ে যেতে পারে, যা আমাদের জন্য খারাপ। তাই রসুন খাওয়া কতটা উপকারী, দিনে কতটুকু রসুন খাওয়া উচিত তা জানা দরকার।

প্রথমেই বলতে হয় হৃদযন্ত্র ও র’ক্তচাপের কথা। দেখা যাচ্ছে রক্তচলাচল স্বাভাবিক রেখে, হৃদযন্ত্রের গতিবিধি ঠিক রাখে। বিপাকহার ঠিক রাখা, কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণেও রসুনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে রসুনের জুড়ি নেই। কাজেই নিয়মিত রসুন খাওয়া মানে রোগ জী’বা’ণুকে দূরে রাখা। কোলেস্টেরল ছাড়াও এটি নিয়ন্ত্রণে রাখে র’ক্তে সুগারের মাত্রা। এতে রয়েছে হাই সালফারও। তবে বেশি রান্না করলে রসুনে থাকা অ্যালিসিন নষ্ট হয়ে যায়।

শরীরের টক্সিন বের করতেও সাহায্য করে রসুন। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস আর দুইকোয়া রসুন কুচি গুলে খেলে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় ক্ষতিকর টক্সিন। আমাদের শরীরের র’ক্ত পরিষ্কার রাখার কাজে সাহায্য করে রসুন। তাই মুখে বা ত্বকে নানা র্যাশ, চুলকানি প্রায়শই যদি ব্লাড ইমপিয়োরিটির কারণে হয়, তাহলে প্রতিদিন রসুন খেতে পারেন। রোজ দুইকোয়া রসুনই এর জন্য যথেষ্ট। সকালে এই কাঁচা রসুনের সঙ্গে খেতে হবে প্রচুর পানি।

রসুন খেতে হলে দিনে দুই-তিন কোয়ার বেশি না খাওয়াই ভালো। এর চেয়ে বেশি রসুন খেতে হলে চিকিৎসক এবং ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। যেকোনো সার্জারি বা অপারেশনের আগে অনেক সময়ে চিকিৎসকেরা রসুন খেতে নিষেধ করেন। ফলে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে রসুন খাওয়া হলে এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে। সকালে নাস্তার পূর্বে রসুন খেলে এটি আরও কার্যকরীভাবে কাজ করে। তখন রসুন খাওয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়া গুলো উন্মুক্ত হয় এবং রসুনের ক্ষমতার কাছে তারা নতিস্বীকার করে। তখন শরীরের ক্ষ’তি’কর ব্যাকটেরিয়া সমূহ আর রক্ষা পায় না।

রসুন শরীর গরম রেখে ঠান্ডা লাগার ধাত কমায়। তবে হাঁপানির সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ সে ক্ষত্রে নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন সবচেয়ে ভালো নিয়মিত কাঁচা রসুন খাওয়া। স্যালাডে বা দইয়ে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। সকালেই খেতে হবে এর কোনও মানে নেই, দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য দু কোয়া রসুনই যথেষ্ট।

রসুন খেলে তা কাঁচা কিংবা অল্প ভেজে নিয়ে খাওয়াই ভাল। রান্নার মশলায় বেটে দেওয়া রসুনে খাবারের স্বাদ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু তাতে পুষ্টিগুণ তেমন থাকে না বললেই চলে।

বাদামি নাকি সাদা রুটি কোনটি খাবেন…?

সারা দিনের সতেজতার জন্য দিনের শুরুর খাবারটি গুরুত্বপূর্ণ। সকালের খাদ্যতালিকায় কেউ খান বাদামি ব্রেড, কেউ সাদা ব্রেড। আসলে কোনটি খাওয়া ভালো। পুষ্টিবিদদের একটা বড় অংশ বলেন, হোয়াইট ব্রেডে আঁশের পরিমাণ কম, এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি।

হোয়াইট ব্রেড তৈরিতে সাধারণত ময়দার সঙ্গে চিনি বা চর্বি যেমন ডালডাও ব্যবহৃত হয়। গ্লাইসেমিক সূচকের দিক দিয়ে হোয়াইট ব্রেড আর সহজ শর্করার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্য রোগীদের জন্য নিয়মিত না খাওয়া ভালো।

ব্রেড যদি খেতে হয়, তাহলে ব্রাউন ব্রেড খাওয়া উচিত। হোয়াইট ব্রেডের চেয়ে ব্রাউন ব্রেড বেশি পুষ্টিকর। ব্রাউন ব্রেড শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হোয়াইট ব্রেডের তুলনায় ব্রাউন ব্রেডে অনেক কম ক্যালরি থাকে। তাই ব্রাউন ব্রেড খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে না।

ব্রাউন ব্রেড খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ব্রাউন ব্রেড হজম করতে যেমন কষ্ট হয় না, তেমনি এতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার করণে এটি খেলে নানা ধরনের পেটের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে। হোল গ্রেন দিয়ে তৈরি হওয়ার করণে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে ব্রাউন ব্রেড। প্রতিদিন ব্রাউন ব্রেড খেলে প্রায় ৪০ শতাংশ ওজন হ্রাস পায়। ব্রাউন ব্রেড র’ক্তচাপ কমায়। দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে।

সমস্ত ভাল গুণ কি কেবল ব্রাউন ব্রেডেরই! কোনও গুণই কি তবে নেই হোয়াইট ব্রেডের। এই কথা ভেবে যারা এতক্ষণে ভুরু কুঁচকে ফেলেছেন তাদের জানানো ভাল, হোয়াইট ব্রেড পাকস্থলীর জন্য উপকারী। হোয়াইট ব্রেড পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবাইয়োম সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি।

এগুলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। মাইক্রোবাইয়োমের ঘাটতি মানুষকে ভা’ইরাস, ইনফেকশন ও অ্যালার্জির শিকারে পরিণত করতে পারে। আর হোয়াইট ব্রেড শরীরে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোব্যাসিলাসের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ব্রাউন ব্রেডে ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা সঠিক পরিমাণে থাকে। এটি স্বাস্থ্যসম্মত ও খুব পুষ্টিকর। খেতে সুস্বাদু হলেও রিফাইন বা পরিশোধিত হোয়াইট ব্রেডের পুষ্টিগুণ কম। পরিশোধনের ফলে দেহের জন্য উপকারী কিছু ভিটামিন ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়। আঁশের পরিমাণ কম, এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি। ব্রাউন ব্রেড অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

লিগনান নামক এক ধরনের উপাদান থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধ করে। অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী। কারণ, এটি র’ক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী। প্রচুর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ব্রাউন ব্রেড ওজন কমাতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে। বাদামি যে কোনও খাবারই অন্যান্য সাদা খাবারের তুলনায় অনেক বেশি উপকারী।

অনেকের শরীরে হোয়াইট ব্রেড বেশি তাড়াতাড়ি পরিপাক হয়, কারও শরীরে ব্রাউন ব্রেড পরিপাক হয় সহজে। তাই যদি হোয়াইট ব্রেড খেয়ে কোনও সমস্যা না হয়, আপনি স্বাস্থ্যের চিন্তা না করেই তা খেতে পারেন। হোয়াইট ব্রেড বা হোয়াইট পাউরুটি তৈরির সময় ময়দার সঙ্গে পটাসিয়াম ব্রোমেট, বেনজল পেরক্সাইড এবং ক্লোরিন ডাই অক্সাইড গ্যাসের মতো যৌগগুলির ব্যবহার রা হয়।

আর এই ব্যবহৃত যৌগ গুলি অনেক আংশেই স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ব্রাউন ব্রেড তৈরি করার সময় আটার সঙ্গে এই ধরনের কোনও যৌগ ব্যবহার করা হয় না, ফলে আটার পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

হোয়াইট ব্রেডে অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি থাকে এবং এই কারণে এতো ব্রাউন ব্রেডের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরিও থাকে। আপনি যদি আপনার ডায়েটে হোয়াইট ব্রেড রাখেন তবে নিশ্চিত হয়ে আপনি দিনে দুটোর বেশি স্লাইস খাওয়া উচিৎ নয়। নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ডায়েট গুলো স্বাস্থ্যকর কারণ তারা কোনও ভাবেই র’ক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না।

ব্রাউন ব্রেডে হোয়াইট ব্রেডের তুলনায় কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে, যার অর্থ এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে না। এর ফলে ডায়াবেটিস, স্থূলত্ব এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে।

হোল গ্রেইন থেকে ব্রাউন ব্রেড তৈরি হয় বলে, পুষ্টিবিদরা হোয়াইট ব্রেডের চেয়ে ব্রাউন ব্রেডকে বেশি পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর হিসাবে মনে করে। কারণ ব্রাউন ব্রেডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এছাড়া ব্রাউন ব্রেডে ভিটামিন ই৬, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, জিঙ্ক, তামা এবং ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি রয়েছে।

অন্যদিকে, হোয়াইট ব্রেডতে ফাইবার কম থাকে তবে ব্রাউন ব্রেডের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে। হোয়াইট ব্রেডে পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে। আর সুস্থ থাকতে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীতে থাকা খুবই জরুরি। বেশি বয়সী ও শিশুদের হোয়াইট ব্রেড আর মধ্যবয়সীদের ব্রাউন ব্রেড খাওয়া উচিত, এমনটাই অভিমত নিউট্রিশিয়ানদের একটা বড় অংশের।