যে কাজে ৩টি নেয়ামত লাভ সুনিশ্চিত

71

যে কাজে ৩টি নেয়ামত লাভ- তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় মুমিন মুসলমানের জীবন চলার মূলভিত্তি। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে যথার্থভাবে ভয় করে জীবন পরিচালনা করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ৩টি নেয়ামত দানের কথা ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চল, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে ভাল-মন্দের পার্থক্য করার মানদণ্ড (কষ্টি পাথর) দান করবেন। তোমাদের পাপ মিটিয়ে দেবেন। আর তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কারণ আল্লাহ বড় অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২৯)

এ আয়াতের ঘোষণা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলার একটি কথা মেনে চললে তিনি ৩টি নেয়ামত দান করবেন। যা অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলার দেয়া শর্ত এবং নেয়ামতগুলো হলো-

আল্লাহর শর্ত-

তাকওয়া বা পরহেজগারি অবলম্বন করা। অর্থাৎ প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে চলা। যে কাজই করছেন তা আল্লাহ তাআলা দেখছেন এ মানসিকতা অবলম্বন করে চলা।

নেয়ামত ৩টি হলো-

১- পরহেজগার ব্যক্তিকে ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণ করার মানদণ্ড (কষ্টি পাথরস্বরূপ জ্ঞান) দান করবেন। যে জ্ঞান দ্বারা মানুষ দুনিয়ার অন্যায়মূলক সব বিপদাপদ থেকে হেফাজত থাকবে।

২- পরহেজগার ব্যক্তির পাপ মিটিয়ে দেবেন। মানুষ যে গোনাহ করেছেন তা তার আমলনামা থেকে মুছে দেবেন। এবং

৩- পরহেজগার ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেবেন।

সুতরাং যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে, তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনার দরকার নেই; কারণ তাদেরকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সর্বোত্তম জ্ঞান দান, গোনাহ মাফ ও চূড়ান্ত ক্ষমা দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি কাজে তাঁর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখার তাওফিক দান করুন। তার ভালোবাসায় প্রতিটি কাজ যর্থার্থভাবে সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যাদের গীবত করলে গুনাহ নেই…

সাধারণভাবে গীবত মারাত্মক গুনাহের কাজ। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বহু জায়গায় গীবতের নিষিদ্ধতা সুপ্রমাণিত। তবে শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে গীবত গুনাহের কাজ নয়।

আসুন জেনে নিই সে ক্ষেত্রগুলো-

প্রথমত– যুলুম বা বে-ইনসাফির প্রতিবাদ। কোন মযলুম অথবা বেইনসাফির শিকার ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে কোন যালিম কর্তৃক সংঘটিত যুলুম বা বেইনসাফির উল্লেখ করতে পারবে এমন কোন ব্যক্তির উপস্থিতিতে যে ঐ যালিমকে ঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে।

দ্বিতীয়ত- কোন যুলুম বা বেইনসাফির পরিবর্তনে এবং যালিমকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে অন্যদের সাহায্য কামনা করতে তার যুলুম ও অনিষ্টতার কথা আলোচনা করা যাবে।

তৃতীয়ত- নির্দিষ্ট বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞাসা। যদিও মুফতির কাছে ফতোয়া চাইতে গেলে ঐ যালিম ব্যক্তির ব্যাপারে আকারে-ইঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করাই ভাল।

চতুর্থত- কোন অনিষ্টকর বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক-সাবধান করা। যেমন কেউ কোন মুত্তাকি ব্যক্তিকে ওই দুষ্ট চরিত্রের লোক সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে যার কাছে সে নিয়মিত যাতায়াত করে কিন্তু তার চরিত্রের অন্ধকার আর অনৈতিক দিক সম্পর্কে সে জানে না।

বিবাহ এবং টাকা জমা রাখার ব্যাপারে পরামর্শের ক্ষেত্রেও এরকম করা যায়। তবুও যার সাথে পরামর্শ করা হয়েছে কোন অনিষ্টকর বিষয়ে সতর্ক করার ক্ষেত্রে তার উচিত হবে বিদ্বেষমূলক কথা কিংবা নিন্দা-অপবাদের মাধ্যমে নয় বরং এটা করতে হবে আন্তরিক উপদেশের মাধ্যমে।

পঞ্চমত- যদি কোন লোক নির্দিষ্ট কিছু উপাধি যেমন খোঁড়া কিংবা ঝাপসা চোখ হিসেবে পরিচিত হয় তাহলে ঐ নামে ডাকলে গীবত হবে না কিন্তু অন্য কোন উপায়ে যদি তাকে চেনা যায় তাহলে ঐ উপায় অনুসরণই কর্তব্য।

ষষ্ঠত- যদি কেউ জনসম্মুক্ষে অনৈতিক কিংবা অশ্লীল কাজে লজ্জিত বোধ না করে তাহলে তার এরকম আচরণের ব্যাপারে অন্য কাউকে জানানো গীবত নয়।