যেতে চেয়েছিলেন মেয়ের বাড়ি, বৃদ্ধার ঠাঁই হলো হাসপাতালে

94

বৃদ্ধার ঠাঁই হলো হাসপাতালে- জোহরা বেগম (৯৫)। বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথ হারিয়ে দিগ্‌বিদিক ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় তাকে রাস্তায় ঘুরতে দেখে স্থানীয় এক কিশোর। পরে ওই বৃদ্ধাকে সে স্থানীয় এক সাংবাদিকের অফিসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে জোহরা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলী।

জানা গেছে, যশোরের বিরামপুর থেকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জগন্নাথপুর গ্রামে যাবেন বলে বাসে ওঠেন জোহরা বেগম। কিন্তু ভুল বাসে উঠে পড়লে তাকে কালীগঞ্জে নামিয়ে দেওয়া হয়। বয়সের ভারে অচেনা জায়গায় নেমে এদিক-ওদিক ঘুরছিলেন তিনি। এ সময় আশিক নামের এক কিশোর তাকে দেখে স্থানীয় সাংবাদিক জামির হোসেনের অফিসে নিয়ে যায়।

সেখানে জোহরার সঙ্গে কথা হলে তার বাড়ির নাম জানেন জামির হোসেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা খুজি করে তার মেয়ের স্বামীর নম্বর সংগ্রহ করা হয়। তাতে ফোন দিলে রিসিভ করে তার নাতি। তাকে তার নানির খবর দিয়ে বলা হয় কালীগঞ্জে এসে তাকে নিয়ে যেতে।

কিন্তু উত্তরে বুদ্ধার নাতি জানান, তার বাবা বাসায় নেই। এলে তাকে জানানো হবে। পরে তার কাছ থেকেই জোহরার বড় ছেলের নম্বর সংগ্রহ করেন জামির। সেই নম্বরে কল করলে রিসিভ করেন জোহরার পুত্রবধূ। তাকে শাশুড়ির কথা বলা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা যশোরে নেই। ঢাকায় থাকি। বাড়ি থেকে উনি বের হলো কেন? উনি (বৃদ্ধা) খুব খারাপ।’ এসব বলে ফোন কে টে দেন তিনি।

পরে সাংবাদিক জামির হোসেন কালীগঞ্জ থানায় ফোন করে বৃদ্ধার বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন থানার ওসি ইউনুচ আলী।

এ বিষয়ে ওসি জানান, জোহরা বেগমের সন্তানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ আসতে রাজি হননি। পরিবারের স্বজনরা না আসা পর্যন্ত উনি হাসপাতালেই থাকবেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে আবার জোহরার মেয়ের স্বামীর নম্বরে কল করা হয়। এ সময় বৃদ্ধার জামাতা আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা শুনেছি উনি কালীগঞ্জ আছেন। বৃষ্টির কারণে তাকে নিয়ে আসতে পারিনি।’

সুত্র-দৈনিক আমাদের সময়।

‘ভাইয়া নিচের তলায়, ওপর তলায় আপা’

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের দুই নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলায় পা রেখেই বোঝা গেল এটা ডেঙ্গুরোগীর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে প্রবেশের আগেই সামনের বারান্দায় দেখা গেল বেশ কিছু শয্যা। সেখানে শায়িত রোগীদের হাতে স্যালাইন লাগানো। সেখানেই কথা হয় অনিমা ঘোষের সঙ্গে। তার মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

তিন দিন যাবৎ এই বারান্দার মেঝেতে পাতা শয্যায় চলছে মেয়েটির চিকিৎসা, জানান তিনি। ওয়ার্ডের বাইরের এই মেঝেতে কেন? এমন প্রশ্নে বললেন, ভেতরে বেড তো খালি নেই-ই, মেঝেতেও পাতা হয়েছে বিছানা। এর পরও রোগী আসছে। উপায় না পেয়ে এখানে আছি। তবু ভাগ্য যে, হাসপাতালে ঠাঁই হয়েছে। অনেক রোগী তো আমাদের মতো বারান্দার মেঝেটুকুও না পেয়ে ফিরে গেছে।

বারান্দা পেরিয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতেই দেখা গেল বেডের পর বেড, মেঝে সহ প্রায় প্রতিটি বেডেই শাদা মশারি টানানো। রোগী আর স্বজনদের ভিড়ে সামনে এগোনোও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একতলা নিচে অর্থাৎ পঞ্চম তলায় পুরুষ ওয়ার্ডেও একই চিত্র।

এক যুবক এই পাঁচতলায় নামছেন তো একটু পরই ছয়তলায় উঠছেন, ফের নামছেন পাঁচতলায়। কথা হলো তার সঙ্গে। নাম মো. শাকিল। এসেছেন কেরানীগঞ্জ থেকে। বললেন, ভাইয়া নিচের তলায় (পঞ্চম) ভর্তি, ওপরতলায় (ষষ্ঠ) আছেন আপা। আমাদের এলাকার অনেকেই আছেন এখানে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি আরও বলেন, এবার যে কী হইলো! খালি ডেঙ্গুজ্বর আর ডেঙ্গুজ্বর।

কর্তব্যরত এক সিনিয়র নার্সের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ হাসপাতালে শিশু-নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এ বছর এখানে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে কেউ মা রা যাননি; চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েই ফিরেছেন, জানান তিনি।

কিন্তু নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে অন্য এক নার্স বললেন, ডেঙ্গু রোগে মা রা গেছে বলা যাবে না, তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬ জন মা রা গেছেন। ওনারা জেনারেল ওয়ার্ডের রোগী ছিলেন। জানা গেল, জ্বরে আক্রান্ত কেউ এলে প্রথমে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে সব মিলিয়ে বেডের সংখ্যা ৯০০। কিন্তু এখন রোগী ভর্তি আছে ১ হাজার ৪০০। বুঝতেই পারছেন অবস্থা!

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার শুক্রবার বিকেলে আমাদের সময়কে বলেন, সপ্তাহ খানেক ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সব জায়গায়ই বেড়ে চলেছে। সব রোগীকে তাই বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার ফেরানোও যাচ্ছে না।

তাই মেঝেতে বিছানা পেতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক ডেঙ্গু রোগীকে এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।