‘যার নেতৃত্বে হ’ত্যা তাকেই আসামি করা হয়নি’: আবরারের বাবা

117

যার নেতৃত্বে হ”ত্যা তাকেই আসামি করা হয়নি- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ তার ছেলে হ”ত্যা”কা”ণ্ডে”র ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের নেওয়া ভূমিকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, সিসি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে মামলায় তাদের অনেকেই বাদ দেয়া হয়েছে। যার নেতৃত্বে টর্চার করা হয়েছে তাকেই মামলায় আসামি করা হয়নি। বাদ পড়াদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।

তবে সরকারের এখন পর্যন্ত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বরকত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানেন স্বজন হারানোর ব্যথা। তিনি যদি সিসি ফুটেজ দেখেন তাহলে আমার বিশ্বাস আবরার ফাহাদ হ”ত্যা”কা”ণ্ডে জড়িতরা দ্রুত সময়ে গ্রে’ফ’তা’র হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।

আজ ৯ অক্টোবর, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে আবরার ফাহাদ স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন। আবরার ফাহাদের সহপাঠী ও জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইফতেখারুল ইসলামসহ আবরারের সহপাঠী ও শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলালউদ্দিন বলেন, ‘২০১১ নম্বর কক্ষটি অমিত সাহার। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মা’র’ধ’র করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ আছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

অবশেষে আবরারের বাড়ির পথে বুয়েট ভিসি…

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পি’টি’য়ে হ”ত্যা”র পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠী থেকে শুরু করে সবাই। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যথিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ক্ষো’ভে ফুঁসে উঠেন। আবরার ফাহাদের দা’ফ’ন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সম্পন্ন হয়। সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকায় বুয়েট প্রাঙ্গণে আবরারের প্রথম জা’না’জা হয়েছিল।

তখনও বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে আসেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন উপাচার্য। এ সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। তবে হ”ত্যা”কা”ণ্ডে”র পর পর ক্যাম্পাসে না আসা এবং নিজ শিক্ষার্থীদের জানাজায় অংশ না নিলেও আজ বুধবার কুষ্টিয়ায় আবরারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

আজ বুধবার সকালে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভিসির একান্ত সহকারী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপাচার্য ও তার সফরসঙ্গীরা এখন রাস্তায় আছেন।

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের জেরে আবরার ফাহাদকে গত রোববার রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।