যমুনায় ভিজিএফ এর চাল নিয়ে ফেরার পথে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১১, জীবিত উদ্ধার ১৬

112

যমুনায় ভিজিএফ এর চাল নিয়ে ফেরার পথে- জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভিজিএফ এর চাল নিয়ে ফেরার পথে যমুনা নদীতে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে ফুটানি বাজার ঘাট থেকে চর হালকা হাওড়াবাড়ী এলাকায় যাওয়ার পথে চিনার চর এলাকায় পৌছলে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মাঝ নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গতকাল বুধবার বিকেলে চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চর হালকা হাওরাবাড়ীর দুঃস্থ মানুষজন ভিজিএফ এর চাল উত্তোলন করে। তারা দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে বাজার সদাই করে সন্ধা সাড়ে ৭টায় ফুটানি বাজার ঘাট থেকে নৌকাযোগে চর হালকা হাওড়াবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

নৌকাটি চিনার চর এলাকায় পৌছলে বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে। প্রচণ্ড বাতাস ও তীব্র ঢেউয়ে ২৭ যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে ডুবে যায় যাত্রীবাহী নৌকাটি। পরে স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ১৬ জনকে উদ্ধার করে। ১১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুর উদ্দিন জানান, নৌকাডুবির খবর পেয়ে রাত ১১টায় আমরা উদ্ধার অভিযান শুরু করি। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাত ১টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

সুত্র-বি ডি জার্নাল।

২ যুবকের লি’ঙ্গ কেটে নিলো হিজড়ারা, অতঃপর…

সাগর হোসেন আর প্রান্ত সরকার, টগবগে দুই যুবক। একজনের বয়স ২২, অন্য জনের ১৮ বছর। সাগর পড়ালেখা করে, আর প্রান্ত সরকার রাজমিস্ত্রি। দু’জনেরই চলাফেরা সমাজে অন্যদের মতোই। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে চলতো তারা। কোনো কিছুতেই পিছিয়ে থাকেনি এই দুই যুবক। ঝিনাইদহ শহরে ছিল তাদের চলাফেরা।

এরই মধ্যে একদল হিজড়া তাদের দু’জনকে কৌশলে অপ’হ’রণ করে নিয়ে যায়। খুলনা অঞ্চলে একটি গুদাম ঘরে আটকে রেখে অচেতন করে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে দু’জনেরই লি’ঙ্গ পরিবর্তন করে দিয়েছে হিজড়ারা। এখন তারা গুরুত্বর অসুস্থ। যুবকদ্বয়ের দাবি কেন তাদের জীবনটা এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হলো।

নিজেদের দলে ভেড়াতে হিজড়ারা কেন তাদের জীবন ধংশ করে দিল। এখন তারা সমাজে কিভাবে বেঁচে থাকবেন। তারা এই অপরাধের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআই সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান ওই দই যুবক।

ঝিনাইদহ শহরের আরাবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের পুত্র সাগর হোসেন (২২)। ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পারিবারিক কারণে মাঝে কিছুদিন পড়ালেখা বন্ধ ছিল। পরে ঝিনাইদহ সরকারি বালক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছিল।

সাগর জানান, তার কণ্ঠ কিছুটা নারীদের মতো। এই কারণে হিজড়ারা তার পিছু নেয়। তাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরে ওই হিজড়াদের এড়িয়ে চলতেন। সাগর হোসেন জানান, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে তিনি ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আরাবপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন।

পথে নবগঙ্গা নদীর উপর ব্রীজ এলাকা থেকে একটি কালো রং এর মাইক্রোবাস তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর খুলনা ফুলতলা এলাকায় নিয়ে একটি গুদাম ঘরে আটকে রাখে। ওই রাতেই তাকে অচেতন করে ডাক্তারের মাধ্যমে অস্ত্রপচার করে। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরো দেখতে পান পাশে প্রান্ত সরকার নামের আরেকজন একই অবস্থা করে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর তাদের এলাকায় ফেরত নিয়ে আসা হয়। তার শরীর খারাপ হওয়ায় হিজড়ারা ২৫ জুলাই ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ফেলে রেখে হিজড়ারা পালিয়ে যায়। পরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রান্ত সরকার (১৮) ঝিনাইদহ শহরের মহিষাকুন্ডু এলাকার উজ্জল সরকারের পুত্র। প্রান্ত জানান, হিজড়ারা গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাকে শহরের তসলিম ক্লিনিকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ফুলতলা এলাকায় নিয়ে অচেতন করে তার শরীরে অস্ত্রপচার করে। তিনি জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার করছিলেন।

অন্য দশজনের মতোই ছিলেন তিনি। এখন তার সমাজে কোনো স্থানে ঠাই নেই। পরিবারও তাদের মেনে নিতে পারছেন না। এখন কোথায় যাবেন তা খুঁজে পাচ্ছেন না। সারাক্ষণ মুখ লুকিয়ে চলাফেরা করছেন। সাগর ও প্রান্ত জানান, তারা এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে ঝিনাইদহ আদালতে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন।

এই মামলায় তারা আ’সা’মি করেছেন শহরের কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা আকাশী ওরফে খোকন (৪৫), ভুটিয়ারগাতি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা ওরফে আবু সাঈদ (৪২), উদয়পুর এলাকার বাসিন্দা কারিশমা ওরফে লিয়াকত (৩০) ও ব্যাপারীপাড়া এলাকার মনোয়ারাকে (৫০)।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম জানান, তারা এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা একটি জঘন্যতম ঘটনা, এর উপযুক্ত বিচার হওয়া জরুরি।