মায়ের প’রকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় মেহজাবিন

306

রাজধানীর কদমতলীতে বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনের হাতে মা, বাবা ও বোনের খু#ন হওয়ার ঘটনায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

গতকাল শনিবার সকালে জুরাইনের মুরাদপুরে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুলের (২০) ম”র”দে”হ উদ্ধার করা হয়। 

অ’চে’ত’ন অবস্থায় মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলাম ও নাতনি তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের বড় বোন মেহজাবিন ইসলাম মুনকে গ্রে”ফ”তা”র করা হয়েছে। তাকে জি’জ্ঞা’সা’বা’দ করছে পুলিশ। 

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মৌসুমীর স্বামী মাসুদ রানা প্রায় ২৫ বছর মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন।

স্বামী প্রবাসে থাকার সময়ে মৌসুমী অ”নৈ”তি”ক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন যৌ#ন#কর্মীকে দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন অ”সা”মা”জি”ক কার্যকলাপ চালিয়েছেন। 

এমনকি নিজের দুই মেয়েকেও দিয়ে দে#হ ব্য”ব”সা করাতে তিনি। এক সময় তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে মেহজাবিনের বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের অ”ন্ত”র”ঙ্গ অবস্থার একটি ভিডিওচিত্র পরিবারের কেউ ধা’র’ণ করে রেখেছিলেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত সচিব আমিনের সঙ্গে মেহজাবিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। এতে আ’প’ত্তি ছিল পরিবারের। মৌসুমী এ ব্যাপারে জানার পর মেয়েকে একরকম জো”র করেই শফিকুলের সঙ্গে বিয়ে দেন।

মেহজাবিনের খালা ইয়াসমিন বলেন, পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবেই শফিকুল ও মেহজাবিনের বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পরই মেহজাবিনের আগের সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য ক”ল”হে”র সৃষ্টি হয়। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় আমিনকে হ”ত্যা করেন শফিকুল।

এর আগে তিনি শাশুড়ি মৌসুমী ও খালাশাশুড়ি শিউলিকে দিয়ে আমিনকে ডেকে নেন। এ কারণে হ”ত্যা মামলায় ওই দুজন ও মেহজাবিনকে আ’সা’মি করা হয়। 

তিনি বলেন, এ মামলায় গ্রে”ফ”তা”র হয়ে ছয় মাস কা’রা’গা’রে থাকার পর জামিন পান শফিকুল। পরে মেহজাবিনের ছোট বোন জান্নাতুলের ওপর নজর পড়ে তার। তিনি নানাভাবে উ#ত্ত্য#ক্ত করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন মৌসুমী। আবার তার বিরুদ্ধে পাল্টা মা”ম”লা করেন জামাতা।

ইয়াসমিন বলেন, শফিকের সঙ্গে আমার বোন পেরে উঠতে না পেরে তার ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলামকে (শফিকের শালিকে) কা’রা’গা’রে দিয়ে দেন। শফিক তদবির করে ৫ মাস পর তাকে কা’রা’গা’র থেকে বের করে নিয়ে এসে আবার তার সঙ্গে অ”নৈ”তি”ক কাজ করেন।

‘এ নিয়ে আমার ভাগ্নি ও বোনের সঙ্গে শফিকের কলহ লেগেই থাকত। ৪ বছর আগে সফিক আমার বোনকে (তার শাশুড়ি) হ#ত্যা#র উদ্দেশ্যে গায়ে আ#গু#ন জ্বা#লি#য়ে দেয়। চিকিৎসা করতেও বাধা দেয়।

দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার বোন ও ভাগ্নিকে প্রায়ই মা”র”ধ”র করত। এ বিষয়ে কদমতলী থানায় অ”ভি”যো”গ জানিয়ে কোনো ফল না পেয়ে কোর্টে মামলাও করা হয়েছে।’

ইয়াসমিনের অ”ভি”যো”গ, পরিকল্পিতভাবেই শফিকুল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি একজন ঠান্ডা মাথার খুনি। এ ঘটনায় তিনি স্ত্রীকে জিম্মি করে হ”ত্যা”য় সহায়তা করতে বাধ্য করেছেন। নইলে তাদের শিশুসন্তান তৃপ্তিকে মে”রে ফে”লা”র হু”ম”কি দিয়েছেন।

একা তিনজনকে হ”ত্যা করা সম্ভব নয় বলেই তিনি স্ত্রীকে কাজে লাগিয়েছেন। তাকে বোঝানো হয়েছে, চলমান অশান্তি নিরসনে এটাই কার্যকর পন্থা। আর ঘটনার পর তিনি মুনকে বুঝিয়েছেন, তুমি পুলিশে ফোন করে হ”ত্যা”র দায় স্বীকার করো। কয়েকদিন পর আমি তোমার জামিনের ব্যবস্থা করব।

ঘা”ত”কে”র চাচাতো বোন পরিচয় দেওয়া শিলা যুগান্তরকে বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর প”র”কী”য়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অ”ভি”যো”গ করে।

এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হ”ত্যা”কা”ণ্ড ঘটিয়েছে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিকুল দাবি করেন, তার স্ত্রী মেহজাবিন অনেকদিন ধরেই উ”চ্ছৃ”ঙ্খ”ল জীবনযাপন করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক”ল”হ হতো। মা-বাবার সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না তার স্ত্রীর।

শুক্রবার তাকে ও মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান মেহজাবিন। সেখানে রাতে তিনি সবাইকে নানারকম খাবার খেতে দেন। ওই খাবারে সম্ভবত কিছু মেশানো ছিল, কারণ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অ”চে”ত”ন হয়ে পড়েন। এরপর কী ঘটেছে কিছুই তার জানা নেই।

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘মেহজাবিনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাবা না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে (নিহত জান্নাতুল) দিয়ে দে”হ ব্যবসা করাত। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

‘তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়ে ব্য”ব”সা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।’

এছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন।

এসব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষো”ভ থেকে পরিবারের সবাইকে হ”ত্যা”র পরিকল্পনা করেন বলে মেহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন।

তবে মেহজাবিনের একার পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো কতটুকু সম্ভব, এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘মেহজাবিনের স্বামীকেও আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সম্পত্তির বিষয়ও এখানে রয়েছে। তদন্তে এসব আসবে।’