মহান আল্লাহ্‌ কবুল করেন যে পাঁচ সময়ের দোয়া…

2088

পাঁচ সময়ের দোয়া মহান আল্লাহ্‌ অবশ্যই কবুল- দুনিয়ায় সকল মানুষই আল্লাহ নিকট মুখাপেক্ষী। বান্দার সুস্থ্য জীবন-যাপন আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো বান্দাই চলতে পারে না।

তাঁর দরবারে প্রত্যেক বান্দারই রয়েছে একান্ত চাওয়া-পাওয়া। এ চাওয়া-পাওয়া কবুলের জন্য রয়েছে একান্ত কিছু সময়। তা এখানে তুলে ধরা হলো-

১। জুমার দিনের দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়-

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের একদিন শুক্রবারে ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

আলোচনায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময় টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায় রত অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ মহান অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসূল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টা সংক্ষিপ্ত তার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি)

রাসুল (সা.) থেকে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর ক‍াছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)

২। জমজমের পানি পান করার সময়ের দোয়া করা হলে তা কবুল হয়-

রাসূল (সা.) বলেন, ‘জমজম পানি যে নিয়তে পান করা হবে, তা কবুল হবে।’ অর্থাৎ এই পানি পান করার সময় যে দোয়া করা হবে, ইনশাআল্লাহ তা অবশ্যই কবুল হবে। (ইবনে মাজাহ)

৩। আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়-

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (তিরমিজি)

৪। রাতের শেষ তৃতীয়াংশের যদি দোয়া করা হয়-

রাতের শেষ তৃতীয়াংশের দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছো?

আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছো? আমি তাকে তা দেব। কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কারী’ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম)

৫। সেজদারত অবস্থায় দোয়া করা হলে তা কবুল হয়-

রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম অবস্থায় থাকে তা হলো সেজদারত অবস্থা। সুতরাং তোমরা সে সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও বা প্রার্থনা করো।’ (মুসলিম)

অন্তরের অলসতা দূর করে এই আমল…

আল্লাহ তাআলা আর-রাহমান এবং আর-রাহিম দ্বারা অতিশয় দয়ালু ও মেহেরবান হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে সবার জন্য রহমান আর পরকালে তিনি শুধু মুমিন বান্দার জন্য হবে রাহিম। হাদিসে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলা ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি উহা পড়বে নিশ্চিত সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

এছাড়া আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নামের আমলে রয়েছে অনেক উপকারিতা। আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নাম ‘আর-রাহমান ও আর-রাহিম’-এর আমলের মাধ্যমে মানুষ অন্যায় ও অশান্তি থেকে দূরে থাকে এবং প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়।

অলসতার ভাব দূর হয়ে যায়। উচ্চারণ : ‘আর-রাহমানু : আর-রাহিমু’ অর্থ : অতি দয়ালু দাতা ও অনুগ্রহকারী।

যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর আল্লাহর গুণবাচক নাম (আর-রাহমানু,আর-রাহিমু) ১০০ বার পড়ে আল্লাহ তাআলা তার-

– অন্তরের অলসতা দূর করে দেন।
– অশান্তি ও গ্লানি দূর করে দেবেন।

– স্মৃতি ভ্রম দূর করেন।
– জীবনের কাঠিন্য দূর করে দেন।

– সব সৃষ্টিকে তার প্রতি দয়াশীল করে দেবেন।
– সবার অনুগ্রহ লাভ করবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণবাচক নাম (আর-রাহমানু,আর-রাহিমু) ৩০০ বার পড়বেন আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির-

– দোয়া কবুল করবেন।
– গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত করবেন।

আর যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহর গুণবাচক নাম (আর-রাহিমু) পড়বেন আল্লাহ তাআলা তার যাবতীয় বিপদ-আপদ দূর করে দেবেন। আর প্রত্যেক দিন এক হাজার বার ‘ইয়া রাহিমু’ জিকির করলে তার মন দয়ালু ও নরম হবে।