মস্কোর ক্যাথেড্রল মসজিদে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত

53

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর গ্র্যান্ড মসজিদে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনায় চলতি মাসের ০৯ তারিখে কোরআন তেলাওয়াতের এমন অভিনব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মসজিদ-কর্তৃপক্ষ। খবর ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজেন্সির।

ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ক্বারিগণ পালাক্রমে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কোরআন তেলাওয়াত করবেন। এতে দৈনিক ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত চালু থাকবে। তবে কেবল নামাজের সময়ে তেলাওয়াত বন্ধ রাখা হবে। মসজিদ-কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ওয়েবসাইটে (mihrab.ru) কোরআন তেলাওয়াত সরাসরি সম্প্রচার করবে।

মস্কোর গ্র্যান্ড মসজিদটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। বিখ্যাত স্থাপত্যশিল্পী নিকোলাই ঝুকভের আঁকা নকশা মোতাবেক ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

পরবর্তীকালে কয়েকবার সংস্কার করা হলেও ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর পুরাতন মসজিদটি ভেঙ্গে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে এটি নির্মাণ করা হয়। ১৯ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন মসজিদটিতে প্রায় দশ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং স্থানীয় গণ্যমান্য মুসলিম ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হয়।

সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার ১০-১৫% মুসলিম। এছাড়াও বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ লাখ মুসলিম মস্কোয় বসবাস করেন।

উসমান (রা.) এর সমকালীন কোরআন তাসখন্দের যেখানে সংরক্ষিত…

উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দের এক মাদরাসা। সেখানে সপ্তম শতাব্দীর একটি কোরআনের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন কোরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি বলে মনে করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়, হজরত উসমান (রা.) শাহাদাতের সময় কোরআনের এই পান্ডুলিপি তেলাওয়াত করছিলেন। তখন বিদ্রোহীরা তার উপর আঘাত হানলে এটি তার র ক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়।

প্রাচীন কোরআন পাণ্ডুলিপিটি তাসখন্দের খাস্ত-ইমাম কমপ্লেক্সের অর্ন্তভুক্ত মাদরাসায় রয়েছে। মাদরাসার গ্রন্থাগারের একটি কাঁচের বাক্সে এটি সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ের তিন হাজারের মতো প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে এই গ্রন্থাগারে। পাশাপাশি কোরআনের তাফসির, ফিকাহ, হাদিস, ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর বিশ হাজারের কাছাকাছ বই-পুস্তক এই গ্রন্থাগারে সংগৃহীত রয়েছে।

এই কমপ্লেক্সের চৌহদ্দিতে দশম শতাব্দীর আলেম ও তাসখন্দের ইমাম আবু বকর আশ-শাশির মাজার রয়েছে। কমপ্লেক্সের আওতায় দুইটি মাদরাসা, তিনটি মসজিদ, আল-বুখারি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উজবেকিস্তানের মুসলিম বোর্ড অর্ন্তভুক্ত রয়েছে।

বিভিন্ন সময় এই কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ করা হয়। সর্বশেষ করা হয় ২০০৭ সালে। পাঁচশত বছরের প্রাচীন এই কমপ্লেক্সটি দেখার জন্য উজবেকিস্তানে বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শকরা প্রতিনিয়তই এখানে এসে ভিড় করেন।