মশার ওষুধ কেনার হিসাব নিতে ডিএনসিসিতে দুদকের হানা

82

মশার ওষুধ কেনার হিসাব নিতে- ডেঙ্গু মোকাবেলায় নতুন মশার ওষুধ কেনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই মশক নিধনের ওষুধ কেনাকাটার চার বছরের হিসাব জানতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে হানা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ সব তথ্য বিশ্লেষণ করে সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ কেনায় কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা পরে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হবে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র মশক নিধনের ওষুধ আমদানিতে ’সিন্ডিকেট’ করে এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ‘অকার্যকর’ ওষুধ আমদানি করেছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গতকাল রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল উত্তর সিটি করপোরেশন অফিসে অভিযান চালায়।

সরেজমিন অভিযানে গিয়ে দুদকের দলটি জানতে পারে যে, এর আগের বছর গুলোতে শুধু কিউলেক্স মশা নিধনের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল রোগতত্ত্ব,রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট । তাদের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই এতদিন ওষুধ আমদানি করেছে ডিএনসিসি।

এ বছর মশা নিধনে আগের মতো ওষুধ ছিটানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তরের অনেক এলাকার বাসিন্দারা।

এই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করে প্রনব বলেন, “গত চার বছর যাবৎ দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান থেকেই এককভাবে ইনসেক্টিসাইড সরবরাহ করা হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে নিকোন লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানকে এসব ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। তিনবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মশার ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টসকে গত জুলাইয়ে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডিএনসিসি।

দুদকের অভিযানে মশার ওষুধ কেনায় ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের কার্যাদেশ দেওয়ার যাবতীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান প্রণব কুমার। এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না তা নিয়ে বিশ্লেষণপূর্বক পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

অভিযানের সময় দুদক দল ২০১৯-২০ অর্থবছরে মশা নিধনের ওষুধ কেনার আগে তাতে এডিস মশা মরে কি না, সে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে সিটি করপোরেশনকে। সুত্র-বি ডি নিউজ ২৪ ডট কম।

যুবককে ফাঁ সাতে গিয়ে পুলিশ সদস্য ধরা

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত মুরাদ হোসেন নামের এক কনস্টেবল চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার কাছে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। গত শনিবার রাতে আমিনপুর থানার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের পুরান মাসুমদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কনস্টেবল মুরাদ ওই গ্রামের সিরাজুল বিশ্বাস (৩৫)নামের এক যুবকের কাছে টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তাকে আটক করে মা দ ক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হু ম কি দিয়েছিলেন। সিরাজুল ওই গ্রামের আমজাদ বিশ্বাসের ছেলে ও পেশায় সবজি ব্যবসায়ী।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রোববার সকালে তাকে পাবনা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযুক্ত সিরাজুল জানান, ওই কনস্টেবল তার কাছে চাঁদা দাবি করে। না হলে তাকে ই য়া বা ব্যবসা মামলায় আটক করার হু ম কি দিয়েছিল।

ভুক্তভোগী যুবক সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গরমের কারণে বাড়ির পাশের ব্রিজে বসে ছিলেন সিরাজুল। এ সময় ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মুরাদ হোসেন নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে সেখানে যান।

এ সময় কনস্টেবল মুরাদ ওই যুবককে চ্যালেঞ্জ করেন, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে ই য়া বা ব্যবসায়ী বলে আটকের হু ম কি দেন। এরপর কয়েক হাজার টাকা দাবি করেন। না পেয়ে তাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যেতে উদ্যত হন। এ সময় সিরাজুলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড় হলে মুরাদ হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রেখে আমিনপুর থানায় খবর দেন। পরে আমিনপুর থানার পুলিশ গিয়ে মুরাদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে আমিনপুর থানার ওসি তদন্ত জানান, মুরাদ নামের এক কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মুরাদ নামের ওই পুলিশ কনস্টেবলকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাবনা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, মুরাদ নামের একজন কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।