মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নতুন শ্রমনীতি : প্রবাসী বাংলাদেশীও উপকৃত হবে

228

কাতারে নতুন শ্রমনীতি উপকৃত হবে বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকরাও- মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নুতন শ্রমনীতি সংস্কারের কথা ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকেই এ নতুন শ্রম আইন কার্যকর হবে। ফলে বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত আইএলও-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, গত ১৬ অক্টোবর কাতারের মন্ত্রি সভায় সর্বসম্মত ভাবে নতুন শ্রম নীতির আইনটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ আইন সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় সাত দশকের পুরনো কাফালা পদ্ধতির অবসান ঘটছে। এর ফলে প্রবাসী শ্রমিকরা নিজেদের পছন্দমতো চাকরি পরিবর্তনের স্বাধীনতা পাবেন। দেশে ফেরা বা বেড়াতে যেতে অনুমতির কড়াকড়ি কমবে। ন্যুনতম মজুরির বৈষম্যতাও বিপুল অংশে দূর হবে।

১৯৫০ সালের দিকে কাফালা বা স্পনসরশিপ ব্যবস্থাটি কাতারে শুরু হয়েছিল। দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশের ওই সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত শ্রমিক সরবরাহ এবং প্রয়োজন ফুরালে দ্রুত ফেরত পাঠানোর সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল এই ব্যবস্থায়। গালফ সহযোগিতা কাউন্সিল বা জিসিসি সদস্য ভুক্ত দেশ গুলোর পাশাপাশি জর্ডান ও লেবাননে এখনও এ ব্যাবস্থাটি কার্যকর রয়েছে।

কাফালা ব্যাবস্থায় প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তনের জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বাধ্যতামূলক ছিল। সামরিক বাহিনী বাদে অন্য কর্মস্থলের শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তন ও বহির্গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র বাধ্যতামূলক নয় মর্মে কাতারের মন্ত্রিসভায় একটি ডিক্রিও অনুমোদন করেছে।

এ ছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন নীতিমালাও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাতারেই প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করে আসা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গাই রাইডার কাতার সরকারের শ্রমনীতি সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, এসব পদক্ষেপ অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার যেমন নিশ্চিত করবে, তেমনি তাদের মাধ্য্মে কাতারের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বাড়বে, অর্থনীতিও সুসংহত হবে।

আইএলও বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টুওমো পোটিয়াইনেন বলেন, কাতারে যে ৪ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক আছেন, তাদের ৭৫ শতাংশই নির্মাণ শিল্পে জড়িত। নতুন সংস্কারের কারণে তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এর ফলে বৈষম্যআহীন মজুরি ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

সৌ’দি আরবে সড়ক দু’র্ঘট’নায় মা’রা গেলেন প্রবাসী বাংলাদেশী ২ ভাই…

মা’রা গেলেন প্রবাসী বাংলাদেশী ২- সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যময়ী জীবন গড়ার লক্ষ্যে বাবা-মার আদর সোহাগ ত্যাগ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বদেশ ছেড়ে প্রবাসে যেতে হয়। আর সেই প্রবাসেই মা-বাবা হা’রালেন তাদের আদরের সন্তান।

কাবা শরীফের পাশে একটি সড়ক দুর্ঘ’টনা’য় গত বুধবার ৩৫ জন ওমরাহ যাত্রী মা’রা যান। এদের মধ্যে আব্দুল হালিম (৩০) ও দ্বীন ইসলাম (২৫) নামে দুই বাংলাদেশি সহোদর ভাইয়ের মৃ’ত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার কলাকতলী এলাকায়। বাবার নাম হাবিব উল্লাহ মিয়া।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় ১১টার দিকে ছোট ছেলে ইসলাম উদ্দিন মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে এ খবর জানান। এদিকে মৃ’ত্যু’র খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন দের কা’ন্নায় ভেসে যায় তাদের উঠোন। আশে পাশের শত শত লোক জন তাদের বাড়িতে সমবে’দনা জানাতে আসেন।

মৃ’ত দের ভাই ইসলাম উদ্দিদের বরাত দিয়ে বাবা হাবিব উল্যাহ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তার ছেলে আব্দুল হালিম, দ্বীন ইসলাম ও ইসলাম উদ্দিন জীবিকার তাড়নায় বসবাস করে আসছে। গত বুধবার কাজ শেষে জিহরা এলাকা থেকে মদিনা ফেরার জন্য তারা ওমরা যাত্রী বোঝাই একটি গাড়িতে চড়ে। এ সময় তারা সহ মোট ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি গন্তব্য স্থলে আসছিলো।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে মদিনা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে হিজরা রোডে একটি লোডারের সাথে ধা’ক্কা লাগলে বাসটিতে আ’গু’ন ধরে যায়। এতে ঘটনা স্থলেই আব্দুল হালিম ও দ্বীন ইসলাম সহ ৩৫ যাত্রী মা’রা যান। আ’হ’ত হন ইসলাম উদ্দিন সহ আরও কয়েক জন। তাদের স্থানীয় আল হামনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।