ভূয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃ ত্যু…

57

চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কথিত ভূয়া এক গাইনি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃ ত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নি হ ত প্রসূতি মা স্বপ্না আক্তার উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের কুতুব আলীর মেয়ে। তিনি সরাইল সরকারি কলেজের ছাত্রী ছিলেন। এক বছর আগে একই ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ গ্রামের মো. নান্নু মিয়ার প্রবাসী ছেলে সফিকুল ইসলামের সাথে স্বপ্নার বিয়ে হয়।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন উচালিয়াপাড়া এলাকায় ভূয়া কথিত গাইনি চিকিৎসক মোছা. সালেহা বেগমের ভাড়া বাসায় ভুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোছা. স্বপ্না আক্তার (২০) নামে ওই প্রসূতি মা ও তার সন্তানের মৃ ত্যু হয়েছে বলে নি হ তের স্বজনরা নিশ্চিত করেছন।

এদিকে হা তু ড়ে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মা ও সন্তানের মৃ ত্যুর ঘটনাটি ধা মা চা পা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় নি হ ত স্বপ্নার পিতার বাড়িতে গেলে স্বজনরা জানান, কিছুক্ষণ আগেই মা ও নবজাতক সন্তানের লা শ নিয়ে লোকজন ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

সেই গ্রামেই কবরস্থানে মা ও নবজাতকের লা শ দা ফ ন করা হবে। নি হ ত স্বপ্নার ফুফু মোছা: সুজেরা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে প্রসব বেদনা উঠলে সি জা র করাতে স্বপ্নাকে আমরা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। স্বপ্নার শাশুড়ির পীড়াপীড়িতে স্বপ্নাকে গাইনি চিকিৎসক সালেহা বেগমের বাসায় নেয়া হয়।

সেখানে প্রথমে শরীরে স্যালাইন পু শ করে স্বপ্নাকে ফেলে রাখা হয়। দুপুরের দিকে বাচ্চার মাথা খানিকটা দেখা দিলে স্বপ্নার চিৎকারে ঘরের দেয়াল ভে ঙে পড়ার উপক্রম হয়। আমরা ওই সময়ে স্বপ্নাকে সেই অবস্থায় প্রাইভেট হাসপাতালে এনে সি জা র করতে অনেক অনুরোধ জানাই।

তখন গাইনি চিকিৎসক সালেহা বেগম ও তার এক সহকারী আমাদের ওপর চড়াও হন। বিকেলে স্বপ্নার মৃ ত বাচ্চা প্রসব হয়। তিনি আরো বলেন, তখন চিকিৎসক সালেহা বেগম সেই স্থানে হাত ঢুকিয়ে কি যেন কাটতেই স্বপ্নার অতিরিক্ত র ক্ত ক্ষ র ণ শুরু হয়।

তখন স্বপ্না উচ্চস্বরে কাঁ’দতে কাঁ’দতে আমাকে বলে, ফুফু আমার বাবাকে দেখাও, আমার ছোট ভাই-বোনকে দেখাও আমি আর বাঁচবো না। এই কথা গুলো বলতে বলতে জিহ্বা বের করে দাঁত দিয়ে কা ম ড়ে ধরে স্বপ্না অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বপ্না ও তার নবজাতক সন্তানকে মৃ ত ঘোষণা করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই উচালিয়াপাড়া গ্রাম এলাকায় অভিযুক্ত সালেহা বেগমের ভাড়া বাসায় এসে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী লোকজন জানান, সন্ধ্যায় এই বাসায় এক প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশু মা রা যাবার পর অভিযুক্ত সালেহা বেগমসহ অন্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সালেহা বেগমের স্বামী আবদুল কাইয়ূম সরাইল সরকারি হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল বিভাগে চাকরি করতেন।

সেই সুবাদে সালেহা বেগম এ সরকারি হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে চুক্তিভিত্তিক ‘আয়া’ হিসেবে কাজ করতো। এক সময় নিজেকে পরিপক্ক গাইনি বিশেষজ্ঞ ও পরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে নিজেকে গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ভাড়া বাসায় প্রসূতি মায়েদের নানা চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন সালেহা বেগম।

তিনি দীর্ঘদিন যাবত এই অনৈতিক কাজ চালিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মোসাকে জানানো হলে তিনি বলেন, এই অন্যায় মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি আমি দেখছি।

সুত্র-বি ডি ২৪ লাইভ।