ভারতে পালাতে চেয়েছিল পূর্ণিমার হত্যাকারী প্রেমিক পার্থ

209

প্রেমিকাকে ধ’র্ষ’ণে’র পর হ’ত্যা করে ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন প্রেমিক পার্থ মণ্ডল। কিন্তু তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি।

মূলত, দশম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা দাসের হ’ত্যা’কা’রী যে প্রেমিক পার্থ সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় মোবাইলের এসএমএসেই।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. সজিব খানের নেতৃত্বে দেবহাটা থানার ওসি ফরিদ আহমেদসহ সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাথন্ডা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত পূর্ণিমা দাসের বাবা টিকেট গ্রামের শান্তি দাস বাদী হয়ে তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইলের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধ’র্ষ’ণ ও হ’ত্যা’র ঘটনায় পূর্ণিমার প্রেমিক একই এলাকার শিবপদ মণ্ডলের ছেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী পার্থ মণ্ডলকে একমাত্র আসামি করে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং-১১। এদিকে হ’ত্যা’কা’ণ্ডে’র পর থেকে পার্থ মণ্ডলকে গ্রেফতারে দেবহাটাসহ সাতক্ষীরা শহরের সম্ভাব্য একাধিক স্থানে চিরুনি অ’ভিযান চালায় দেবহাটা থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একাধিক দল।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার একমাত্র আসামি পার্থ মণ্ডলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) ফরিদ আহমেদ বলেন, স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা দাসকে ধ’র্ষ’ণ ও হ’ত্যা’র ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে একমাত্র আসামি পূর্ণিমার প্রেমিক পার্থ মণ্ডলকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে সম্ভাব্য একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

সর্বশেষ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পলাতক পার্থ মণ্ডলের অবস্থান শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে সদরের কাথন্ডা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

গ্রেফতার পরবর্তী পার্থ মণ্ডলকে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সংক্রান্ত আরোও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান ফরিদ আহমেদ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে রাতভর নিখোঁজ ছিল উপজেলার টিকেট গ্রামের শান্তি দাসের মেয়ে গাভা একেএম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা দাস।

পরদিন শুক্রবার সকালে একই এলাকার তারক মণ্ডলের পরিত্যক্ত বাড়ির সবজি বাগান থেকে পূর্ণিমার ম’র’দে’হ উদ্ধার করে পুলিশ। ম’র’দে’হে’র কিছুটা দূরে পড়ে থাকা ভিকটিমের বই-খাতা, জুতা ও গোপনে ব্যবহার করা পূর্ণিমার একটি মোবাইল ফোনও আলামত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

যার ক্ষুদে বার্তায় দেখা যায়, নিখোঁজের আগ মুহূর্তে পূর্ণিমাকে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এসএমএস করেছিল তার প্রেমিক পার্থ মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে পূর্ণিমা ওই মোবাইল ফোনটি গোপনে ব্যবহার এবং পার্থ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরে উদ্ধারকৃত মোবাইলের কললিস্ট অ্যানালাইসিসসহ তাতে পাওয়া প্রেমিক পার্থ মণ্ডলের নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তসহ পার্থ মণ্ডলকে গ্রেফতারের অ’ভিযান শুরু করে পুলিশ। মরদেহটি উদ্ধারকালে নি’হ’ত পূর্ণিমার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে যৌ’ন নি’র্যা’ত’ন এবং গলায় শ্বাসরোধের সুস্পষ্ট চিহ্নও দেখা যায়। যা থেকে পূর্ণিমাকে ধ”র্ষ”ণ ও পরে শ্বা’স’রো’ধ করে হ”ত্যা”র বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ।