বৃদ্ধ বয়সেও কুরআন তেলাওয়াতের বিন্দুমাত্র আগ্রহ কমেনি তাদের

111

বৃদ্ধ বয়সেও কুরআন তেলাওয়াতের- ফেসবুকের এক টি পোস্টে দেখা যায় প্রবীণ দুই ব্যক্তি বিছানায় শুয়ে ও বসে কুরআন তেলাওয়াত করছেন। ফেসবুকে এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়। ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা-

‘সুবহানআল্লাহ্… স্বামী মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করছেন আর স্ত্রী তা চেক করছেন ভুল হয় কিনা, এমন স্বামী স্ত্রী যদি প্রতিটি ঘরে ঘরে থাকতো তাহলে কতই না ভালো হতো! ভিডিও তে দেখা যায়, ‘উভয় প্রবীণ ব্যক্তি সুরা হুজরাতের ১৩ নং আয়াতের অর্ধাংশ থেকে শুরু করে সুরা ক্বাফের বেশ কিছু আয়াত তেলাওয়াত করছেন।’

লোকটি এতই প্রবীণ যে, তিনি শুয়ে শুয়ে তেলাওয়াত করছেন আর বৃদ্ধা নারী তার পাশে বসেই কুরআন শরিফ দেখে তেলাওয়াত ধরছেন এবং শুনছেন। কোথাও কোথাও আয়াতাংশ ছুটে গেলে বৃদ্ধকে তা বলে দিচ্ছেন। এ দুই প্রবীণ ব্যক্তির দেশ পরিচয় জানা না গেলেও তারা যে দুনিয়ার সেরা সুখী মানুষ তা নিঃসন্দেহে অনুমেয়। তাদের তেলাওয়াতের দৃশ্য ও অবস্থা কুরআনে আল্লাহর সে ঘোষণাকেই স্মরণ করিয়ে দেয় যে-

‘আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর হেফাজতকারী।’

উভয় প্রবীণের কুরআন তেলাওয়াত এটাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা পুরো কুরআনকেই মানুষের সিনায় হেফাজতের ব্যবস্থা করেছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা হেফাজত করেন। দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই হোক কুরআন ধারক ও বাহক, যা তাকে দুনিয়া ও পরকালীন জীবনে সফলতা দান করবেন।

মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনের এ দুই প্রবীণ ধারক বাহককে রহম করুন। আমিন।

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য মমতার নির্দেশনা

ভারতে উদার মানবতাবাদী নেতা-নেত্রীদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জি একজন। রাজ্যের কোথাও কোনো ধরনের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রতি নষ্ট হোক কিংবা মুসলিমদের প্রতি জু.. লু.. ম হোক এ ব্যাপারে মমতা ব্যানার্জিসহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেন।

সম্প্রতি মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার তাদের স্কুলগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তথা মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ডাইনিং রুম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বরাবরই মুসলিমদের অধিকারের প্রতি সজাগ। পশ্চিমঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে এমনটিই দেখে যাচ্ছে। গত রমজানেও বিভিন্ন প্র.. তি. বাদ ও নিন্দাকে উপেক্ষা করে তিনি মুসলিমদের অনেক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। ঈদের মাঠে গিয়ে মুসলমানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যনার্জি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের যেসব সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৭০ শতাংশেরও বেশি সেখানে মুসলিমদের জন্য আলাদা ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মমতা বন্যার্জির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের এ নির্দেশনায় বলা হয়, রাজ্য সরকারি অথবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোরে মধ্যে যে গুলোতে ৭০ শতংশের বেশি সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী রয়েছে, তারা যেন তাদের একটি তালিকা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠান।

তাতে ওই স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল পরিবেশন করার জন্য একটি আলাদা খাওয়ার ঘর তৈরির বিষয়েও প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ইতো মধ্যে মমতা ব্যনার্জির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এ নির্দেশনা নিয়ে তুমুল বি.. রো.. ধিতা করে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

তিনি বলেন, ‘ ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত’। তার প্রশ্ন ‘ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেন এ বিভেদ করা হচ্ছে? এই পৃথকীকরণের পেছনে কি কোন বিশ্বাস ঘা.. ত.. ক.. তামূলক উদ্দেশ্য রয়েছে? এটা কি আরেকটি ষ.. ড়.. যন্ত্র? অন্য দিকে মুসলিমদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ বিষয়টি নিয়ে সিপিআইএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী জানান, ‘এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।

শিক্ষার্থীদের ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি করা উচিত নয়। যদি ডাইনিং হল তৈরি করাই হয়, তবে তা সকলের জন্য করা উচিত। মিড-ডে মিল প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই হল সবার জন্য সমান। তবে রাজ্য সরকারের এ নির্দেশের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা জানান, ‘এটা রাজ্যের সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প। তার অভিমত নতুন ভাবে তৈরি করা খাবারের ঘরগুলো কেবলমাত্র মুসলিমই নয়, সব শিক্ষার্থীদেরই সুবিধা হবে।’

উল্লেখ্য যে, ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের পর আ.. শ.. ঙ্কা. জনক হারে মুসলিম সংখ্যালঘু নি.. র্যা.. তন বেড়ে চলেছে। কিছু কিছু রাজ্যের মুসলিমরা নির্বাচনের পরে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার বিভিন্ন রাজ্যে চরম অস্থিরতা ও অ.. ত্যা.. চার-নি.. র্যা.. তন অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু রাজ্যে মুসলিমদেরকে ভোটার তালিকা থেকেও বাদ দেয়ার মহাপরিকল্পনা চলছে। আর সে সব জায়গায় মুসলিম সংখ্যালঘুরা চরম আ.. ত.. ঙ্কে দিন যাপন করছে।