বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কক্ষে এবার গোপন কামরা

49

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কক্ষে- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে গোপন খাস কামরার সন্ধান পেয়ে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ (২৭ আগস্ট) মঙ্গলবার, দুপুরে ওই বিভাগের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌ ন হয় রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই কামরার খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বর্তমান সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বিভাগের নারী শিক্ষার্থীদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌ ন নির্যা তন চালায় ওই কক্ষে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও সামাজিক সম্মান ও শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি।

সম্প্রতি ওই কক্ষে খাট পেতে খাস কামরা তৈরির বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে ওই গোপন খাস কামরায় সু-সজ্জিত বিছানা সন্ধান মেলে। এ সময় তাদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কামরা থেকে তড়ি ঘড়ি করে খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়।

তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওই বিভাগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি নিয়মিত সান্ধ্য কোর্সের নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক তাদের ওই কক্ষে ডেকে নিতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কানা-ঘুষা হলেও কোনো তোয়াক্কা না করেও তাদের অপকর্ম চালিয়ে যান তারা।

পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী আসিফ বলেন, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন ওই দুই শিক্ষকের অপকর্মের কথা। বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও আজ অফিস কক্ষে এ ধরনের সু-সজ্জিত খাস কামরার কী প্রয়োজন তা আমার বোধগম্য নয়। নারী শিক্ষার্থীদের যৌ ন হেন স্থার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবি করছি।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. আমিরুল ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বলেন, নৈশ ও নিয়মিত কোর্সের ক্লাস নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের দীর্ঘসময় অবস্থান করার কারণে পূর্বের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্রাম কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যা শুধুমাত্র বিশ্রামের জন্যই ব্যবহার করা হয়না নামাজও পড়া হয়।

দীর্ঘ সময় ক্লাস নেওয়ার কারণে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটু বিশ্রাম নেওয়া হয়। তবে ছাত্রদের এ অভিযোগ সঠিক না। আমাদের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক, এর মধ্যে নোংরা কথা বলা ঠিক না। শিক্ষার্থীদের ভালো লাগেনি আমরা বিছানাপত্র সরিয়ে দিয়েছি। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ণসহ বিভিন্ন গোপন কাজের জন্য কক্ষটি তৈরি করা হয়েছিল।

কখনোই কোনো নারী শিক্ষার্থী যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেনি। অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতির কারণে ছাত্রদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালায় বিভাগীয় সভাপতির কক্ষে এ ধরনের খাট বিছানোর সুযোগ আছে কী-না আমার জানা নেই।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কথিত ওই খাস কামরা থেকে আমরা খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। খাস কামরার বিষয়ে পাবিপ্রবি ভিসি ড. রোস্তম আলীর সঙ্গে কথা বলার জন্যে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে দেন।

সুত্র-বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম।