বাদাম খেলে নির্মূল হবে ডায়াবেটিস, কখন কিভাবে খাবেন ?

10041

বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নির্মূলে বিশেষভাবে কার্যকরী, বাদাম বেশ সহজলভ্য এবং উপকারী। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা মেলে বাদাম বিক্রেতার।

শখ করে কখনো কখনো হয়তো খাওয়া হয় তবে এর উপকারিতা সম্পর্কে জানলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই বাদাম রাখতে চাইবেন।

বাদামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কার্বো-হাইড্রেট ও প্রোটিন আছে। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খেলে আপনি আপনার শরীরকে অনেক রোগ-বালাই থেকে দূরে রাখতে পারবেন।

বাদাম খাবেন যে কারণে : শরীরের মাত্রাধিক কোলেস্টেরল হৃদরোগ, উচ্চ রক্ত চাপ, ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিস এর মতো কঠিন রোগ সৃষ্টি করে। বাদামের অসাধারণ কার্যকরী ফ্যাট শরীর থেকে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

তাছাড়া, এই বাদাম শরীরের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খেতে পারেন শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে। রাতে ১০-১৫ টি বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নির্মূলে বিশেষভাবে কার্যকরী।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একমুঠো বাদাম যুক্ত করে আপনি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। তাছাড়া এটি আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে। বাদামে প্রচুর পরিমাণ বি৩ আছে যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

তাই প্রতিদিন বাদাম বা এর মাখন খাবেন, যাতে করে আপনি স্বয়ংক্রিয় মস্তিস্ক পেতে পারেন। শরীরে সঠিক পরিমাণ পুষ্টি না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে কঠিন রোগকে বাসা বাধতে বাঁধা দান করে।

তাই প্রতিদিন বাদাম খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। বাদামের সকল স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে প্রতিদিন অবশ্যই একমুঠো বাদাম খেতে পারেন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পেতে আপনাকে সাহায্য করবে বাদাম।

জেনে নিন কাঁচা পেঁপের কিছু উপকারিতা-

পেঁপেতে আছে এন্টি- অ্যামোবিক ও এন্টি-প্যারাসিটিক বৈশিষ্ট্য যা অন্ত্রের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি এটি বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিড রিফ্লাক্স, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অন্ত্রের সমস্যা, পেটের আলসার ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকেও রক্ষা করে।

পেঁপের পুষ্টিগুণ ব্রণ ও ত্বকের যেকোনো ধরনের সংক্রামক থেকে রক্ষা করে। এমনকি এটি ত্বকের ছিদ্র মুখগুলো খুলে দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাঁচা পেঁপে ত্বকের মরা কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে সাহায্য করে।

পেঁপের পুষ্টিগুণ মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারী। কারণ এটি মহিলাদের যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে কার্যকারী ভূমিকা রাখে। পেঁপের পাতা, তেঁতুল ও লবণ একসাথে মিশিয়ে পানি দিয়ে খেলে ব্যথা একেবারে ভালো হয়ে যায়।

এটি ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখার পাশাপাশি রক্তের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর সোডিয়ামের পরিমাণকেও কমিয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগের সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি।

পেঁপে ভিটামিন এ-তে ভরপুর। যা দৃষ্টিশক্তিকে ভালো রাখে। যারা ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিতে ভুগছে, তারা নিয়মিত পেঁপে খেলে উপকার পাবেন। পেঁপের মধ্যে থাকে ভিটামিন সি। যা স্কার্ভি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

এর মধ্যে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাড়ের জন্য খুবই উপকারি। পেঁপের রস ১ টেবিল চামচ, গাজরের রস ১ টেবিল চামচ, মধু ১ টেবিল চামচ ও আনারসের রস ১ টেবিল চামচ মিশিয়ে একটি জুস বানিয়ে খেতে পারেন।

ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকেও পেঁপে আপনাকে রক্ষা করবে। যারা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তারা নিয়মিত পেঁপে খেতে পারলে তাদের বুকের দুধের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে।

যাদের আঁচিল রয়েছে তারা আঁচিলের উপর পেঁপের কষ লাগাতে পারেন। এভাবে দীর্ঘদিন লাগালে আঁচিল সেরে যাবে। কাঁচা পেঁপে বা পাকা পেঁপে দুটিই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। আর পেঁপে খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যায়।

সব থেকে ভালো হয় যদি কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। পেঁপে সেদ্ধ করে, ডালের মধ্যে দিয়ে, তরকারী করেও খেতে পারেন। যকৃতের ক্ষেত্রে পেঁপে ভীষণ উপকারি।

আপনি যদি নিয়মিত পেঁপের রস তবে তা আপনার লিভারকেও ভালো রাখবে। শুধু পেঁপের রসই নয়, পেঁপের আঠাও খুব ভালো কাজ করে শরীর সুস্থ রাখার জন্য।

কাঁচা পেঁপে কিভাবে খাবেন? কাঁচা পেঁপে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এর মধ্যে গোল মরিচের গুঁড়ো ও লেবু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর এটি খেতে পারেন। এভাবে কাঁচা পেঁপে খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হবে।

এমন কি জ্বর হলেও কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। আর এটি জ্বর ভালো করতেও সাহায্য করবে। এছাড়াও পেঁপে খেলে দাদ, চুলকানি যেকোনো ধরণের চর্মরোগ, ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি কমে যাবে। নিয়মিত পেঁপে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।