বাদাম খেলে নির্মূল হবে ডায়াবেটিস, কখন কিভাবে খাবেন ?

16816

সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাদাম খান, তাদের আয়ু বেশি। বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নির্মূলে বিশেষভাবে কার্যকরী, বাদাম বেশ সহজলভ্য এবং উপকারী।

শখ করে কখনো কখনো হয়তো খাওয়া হয় তবে এর উপকারিতা সম্পর্কে জানলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই বাদাম রাখতে চাইবেন।

বাদামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কার্বো-হাইড্রেট ও প্রোটিন আছে। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খেলে আপনি আপনার শরীরকে অনেক রোগ-বালাই থেকে দূরে রাখতে পারবেন।

বাদাম খাবেন যে কারণে : শরীরের মাত্রাধিক কোলেস্টেরল হৃদরোগ, উচ্চ রক্ত চাপ, ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিস এর মতো কঠিন রোগ সৃষ্টি করে। বাদামের অসাধারণ কার্যকরী ফ্যাট শরীর থেকে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

তাছাড়া, এই বাদাম শরীরের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খেতে পারেন শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে। রাতে ১০-১৫ টি বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নির্মূলে বিশেষভাবে কার্যকরী।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একমুঠো বাদাম যুক্ত করে আপনি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। তাছাড়া এটি আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে। বাদামে প্রচুর পরিমাণ বি৩ আছে যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

তাই প্রতিদিন বাদাম বা এর মাখন খাবেন, যাতে করে আপনি স্বয়ংক্রিয় মস্তিস্ক পেতে পারেন। শরীরে সঠিক পরিমাণ পুষ্টি না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে কঠিন রোগকে বাসা বাধতে বাঁধা দান করে।

তাই প্রতিদিন বাদাম খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। বাদামের সকল স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে প্রতিদিন অবশ্যই একমুঠো বাদাম খেতে পারেন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পেতে আপনাকে সাহায্য করবে বাদাম।

* হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাদামে ওমেগা-৩ হার্ট ভালো রাখে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দূর করে।

* বাদামে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং আয়রন আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দৈহিক গঠন সুন্দর করে।

• বাদাম হাড় শক্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি মৃত্যু ঝুঁকিও কমিয়ে আনে এটি।

* বাদাম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি করে।

* গর্ভবতী নারীদের জন্য বাদাম অনেক উপকারী। এটি হবু মা এবং গর্ভের সন্তান উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

* বাদামে ভিটামিন আমাদের ত্বক মসৃণ রাখে এবং বয়সের ছাপ দূর করে। চোখের নীচের কালো দাগ দূর করতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

*বাদাম খেলে লিভার ও কিডনি ভালো থাকে। এটি শ্বাসকষ্ট ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

* বাদামের ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

* কোলন ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে যায় বাদাম খেলে।

* যারা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বাদাম অনেক কার্যকরী। নিয়মিত কাঠ বাদাম (আমন্ড) খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

তবে যাদের হজমে সমস্যা আছে তারা অবশ্যই হজম ক্ষমতা বুঝে বাদাম খাবেন। যে বাদাম খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা অ্যালার্জির সমস্যা হয় সে বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।