বাড়ি তৈরির জন্য ২০ বছর মেয়াদে যেভাবে কোটি টাকা লোন পাবেন

110

বাড়ি তৈরির জন্য কোটি টাকা লোন- নিজের নামে নিষ্কণ্টক জমি থাকলেই মিলবে বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ। তবে সবার জন্য বা সারা দেশের জন্য এ ঋণ নয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় যাঁদের জমি আছে, সরল সুদে ঋণ পাবেন শুধু তাঁরাই।

দুই নগরীর জমির মালিকদের জন্য টাকা নিয়ে বসে আছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। সংস্থাটি ঋণপণ্যটির নাম দিয়েছে ‘নগরবন্ধু’।

নিজের জমিতে বাড়ি তৈরির জন্য একা কেউ ঋণ নিতে চাইলে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পাবেন। কয়েকজন মিলে দল বা গ্রুপ করে বাড়ি করতে চাইলে প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৬০ লাখ টাকা করে।

যেমন ৫ কাঠা জমির মালিকানা যদি হয় পাঁচজনের নামে, বাড়ি তৈরির জন্য প্রত্যেককে ৬০ লাখ টাকা করে অর্থাৎ মোট ৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের সরল সুদের হার ৯ শতাংশ। চক্রবৃদ্ধি অর্থাৎ সুদের ওপর সুদ আরোপ করা হবে না।

বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী বলেন, নগরবন্ধু চালু হয়েছে বেশি দিন হয়নি।মাত্র দেড় বছর। এরই মধ্যে এ ঋণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিএইচবিএফসির যেসব ঋণপণ্য রয়েছে, তার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ যায় নগরবন্ধুর মাধ্যমে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, নগরবন্ধুর ঋণের মেয়াদ ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর। বিএইচবিএফসির সঙ্গে ঋণগ্রহীতা বা গ্রহীতাদের আলোচনা সাপেক্ষে মেয়াদের বিষয়টি ঠিক হবে।

তবে পুরো ঋণের টাকায় বাড়ি তৈরি করা যাবে না। বাড়ি তৈরির জন্য মোট যত টাকা বিনিয়োগ হবে, তার ২০ শতাংশ থাকতে হবে ঋণগ্রহীতার।ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু শর্ত বিবেচনা করবে বিএইচবিএফসি। যেমন ঋণের আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছর। একক ঋণের ক্ষেত্রে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা ঋণ পাবেন না।

তবে ছেলে, মেয়ে, আত্মীয়স্বজন রয়েছেন—এমন গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট পাতায় বেতন সনদ এবং ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স ও আয়ের হলফনামা দাখিল করতে হবে। আবেদনকারী বিদেশে থাকলে বিদেশে যে কোম্পানিতে তিনি চাকরি করেন, সে প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সনদ আনতে হবে।

সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।নিজস্ব আয় না থাকলেও ঋণের আবেদন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর উপার্জনশীল পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়েকে জামিনদার হতে হবে। ঋণ অনুমোদন হওয়ার পর প্রস্তাবিত বন্ধকি জমির পরিচয়সহ নামফলক লাগাতে হবে নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে।

দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে ঢাকার উপকণ্ঠের পূর্বাচল। রাজউক ইতিমধ্যে পূর্বাচলে বাড়ি তৈরির জন্য অনুমোদন দিতে শুরু করেছে। পূর্বাচলে যাঁদের বাড়ি করার উপযোগী জমি আছে, ‘নগরবন্ধু’ ঋণের জন্য তাঁরা এখনই আবেদন করতে পারবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বিএইচবিএফসিরও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) রয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নগরবন্ধু ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ কোটি টাকা।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা নগরবন্ধু ঋণ দেওয়া হয়েছে, বার্ষিক হিসাবে যে অর্জন ৯২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর ছয় মাসে ঋণ পেয়েছেন ১৬৮ জন।

আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০৮ জন গ্রহীতা নগরবন্ধু ঋণ পেয়েছেন ১১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেশির ভাগেরই ঋণের মেয়াদ ২০ বছর।

নগরবন্ধুর গ্রাহক ঢাকার মো. রোকন উদ্দিন। পেশায় ব্যাংকার। ঢাকার উত্তরার আজমপুরে নিজের জমিতে বাড়ি তৈরির জন্য বিএইচবিএফসি থেকে তিনি ঋণ নেন ৯৮ লাখ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে রোকন উদ্দিন বলেন, ২০ বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদে তিনি ঋণ নিয়েছেন। জমির মালিকানার সঠিকতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করায় সংস্থাটি খুব সহজেই ঋণ দিয়েছে।

বাড়ি নির্মাণে গ্রামের মানুষকে ঋণ দেবে সরকার

ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সুবিধাভোগীর আওতায় আসছেন গ্রামের নিম্নবিত্তরাও। এরই অংশ হিসেবে গ্রামের নিম্নবিত্তদেরও বহুতল ফ্ল্যাট বাড়িতে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নিজেদের প্লান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার করবেন তারা। হাতের কাছেই গড়ে উঠবে শহরের মতো নামিদামি স্কুল, বিনোদন পার্ক, কাঁচাবাজার, কমিউনিটি সেন্টার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। জীবনমান হবে শহরের মতোই। দেশের আবাদি জমি রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বহুতল ভবনকে ঘিরে দারিদ্র্য বিমোচনের সব উপকরণ সৃষ্টি করা হবে গ্রামেই। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচি ও প্রকল্পের নাম ‘পল্লী জনপদ’। এই প্রকল্পের উদ্ভাবক বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে  জানা গেছে, কৃষি জমি রক্ষায় এ প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণে গ্রামের মানুষকে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার পরিমাণ ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ‘সহায়তায় বাংলাদেশ পল্লী আবাসনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামের মানুষকে সরকার এ ঋণ দেবে।  চলতি অর্থবছর থেকেই এ ঋণ দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লী জনপদ প্রকল্প গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নসহ দারিদ্র্য বিমোচনের নানা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।  প্রাথমিক পর্যায়ে সাত বিভাগে একটি করে মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হবে। চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিটি পাঁচ তলা ভবনের ৭টি ভবনের একেকটি কমপ্লেক্সে গ্রামের ২৭২ পরিবারের স্থান সংকুলান হবে। আগামী বছরেই ফ্ল্যাট নির্মিত হয়ে ২৭২টি করে পরিবার বসবাস করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে তা দেশের সব এলাকায় স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, এসব বহুতল ভবনে ৪ ধরনের ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটেই বেডরুম, ড্রইংরুম, রান্নাঘর, ডাইনিং স্পেস ও অ্যাটাচড বাথরুম সুবিধা থাকবে। এই প্রকল্পের প্রথমে কাজ শুরু হয়েছে ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার জলির পাড়া গ্রামে। সেখানে ৩ দশমিক ৭৫ একর খাস ভূমির ওপর নির্মিত হচ্ছে এমন ফ্ল্যাট ভবন। এভাবে সিলেট বিভাগের দক্ষিণ সুরমা, খুলনা বিভাগের রূপসা বাটিয়াঘাটা, রংপুরের সদরের নিয়ামতপুর, বগুড়ায় শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুরে। প্রতিটি স্থানেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি কেনা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। বগুড়া আরডিএ ও সেন্টার ফর ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিআইডব্লিউএম) ২ হাজার ১৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলেও জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পের বিবরণে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪২৪ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। যার ৭০ শতাংশ দেবে সরকার ও বাকি ৩০ শতাংশ মিলবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে। প্রথম বছরের জন্য ৯০ কোটি টাকার বরাদ্দ মিলেছে। পল্লী জনপদের সুবিধাভোগীরা যেন   স্বল্পসুদে পরিশোধ করতে পারে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করে দেবে আরডিএ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটেনের গ্রামে এ ধরনের মডেল ভিলেজ দেখে তা দেশে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। দেশের মানুষের বাসস্থান, খাবার ও উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দিতে একই ধরনের কনসেপ্ট আরডিএ বাস্তবায়ন করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে বাসস্থান ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে দ্রুত।


ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ বছর আগে যেখানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ৯ মিলিয়ন (৯০ লাখ) হেক্টর বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮ মিলিয়ন হেক্টরেরও নিচে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্য মতে, প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এ ধারা চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছর পর আবাদযোগ্য জমি পাওয়া কঠিন হবে। সুদূর প্রসারী ভাবনায় আরডিএর গবেষকগণ পল্লী জনপদ নকশা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী বা শহরগুলোয় একটি ট্রাডিশনাল অট্টালিকা বানাতে যে খরচ হয়, তার তুলনায় অন্তত ৩৭ শতাংশ কম খরচ পড়বে এই বহুতল ভবন নির্মাণে। এ ধরনের প্রতিটি মডেল গ্রাম নির্মাণে দরকার হবে প্রায় ৩ একর জমি। এ ভূমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনে যারা বাস করবেন, স্বাভাবিক নিয়মে পৃথক পৃথক পথঘাটসহ ঘরবাড়ি বানিয়ে বাস করলে, সেখানে জমির দরকার হতো সাড়ে ১৬ একরেরও বেশি। এ ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে ১৩ একর পরিমাণ জমি রক্ষা পাবে। এভাবেই রক্ষা পাবে দেশের আবাদি জমি। এসব বহুতল ভবনের নিচে গৃহস্থালি ও গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি পালনের বর্জ্যে বায়োগ্যাস প্লান্টে তৈরি হয়ে জ্বালানির ব্যবস্থাও থাকবে। তা দিয়ে রান্না ছাড়াও চলবে জেনারেটর। এই জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাতি, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার চালানো যাবে। যদিও বিদ্যুতের জন্য স্যোলার প্যানেল থাকছে। তারপরও ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হবে জেনারেটর। পরিবেশ রক্ষায় গাছ-গাছালি ও খেলার মাঠ থাকবে সামনের অংশে। বসবাসকারীরা যেন আয়বর্ধক কাজ করতে পারেন, সে জন্য আরডিএ প্রশিক্ষণ দিয়ে যে যে ধরনের কাজ ও ব্যবসা করতে চান, সেজন্য ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ২২টি এলাকায় ৩৭৫টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে আটটি ইউনিট থাকবে। সে হিসাবে তিন হাজার হাউজিং ইউনিটে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ আবাসন সুবিধা পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাউস বিল্ডিংয়ের সাতটি জোনাল এবং ১৫টি আঞ্চলিক (মোট ২২টি) অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের মেয়াদ হবে ৫ বছর। পাঁচটি আর্থিক বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকেই সরকারের এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৩১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিবছর বরাদ্দ ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের আতওায় একজন ঋণগ্রহীতা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের বিপরীতে সুদের হার হবে ৬ শতাংশ। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ে ঋণের কিস্তি শোধ করতে হবে না।) ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রতি লাখে ঋণের সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি হতে পারে ৭১৭ টাকা। এ হিসাবে একজন ঋণগ্রহীতা ১০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ পরিশোধ করবেন ১৭ লাখ ২০ হাজার ৮০০টাকা।

খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের পলিসি নির্ধারণ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আট সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং হাউস বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পলিসি অনুযায়ী এ প্রকল্পের কাজ চলবে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রকল্প। প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা স্বল্পসুদে ঋণ পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ যথাসময়েই শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে আবাদি জমি রক্ষা হবে। অন্যদিকে গরিব নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হবে।