নৌকাডুবে ৭০ কিমি ভেসে অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেল ২ শিশু

97

নৌকাডুবে ৭০ কিমি ভেসে অলৌকিকভাবে- উত্তাল যমুনায় নৌকাডুবিতে ৭০ কিলোমিটার প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যে নদীর পানিতে ভেসে অলৌকিকভাবে বেঁচে স্বজনদের কাছে ফিরেছে ছয় বছরের শিশু প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মমতা বীথি ও আট বছরের নয়ন।

দেওয়ানগঞ্জ চুকাইবাড়ী ফুটানীবাজারঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভিজিএফের চাল এবং হাটবাজার করে গ্রামের বাড়ি যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল হলকা হাবড়াবাড়ী ফেরার সময় গত ৭ আগস্ট রাত ৭টার দিকে ওই নৌকাডুবি ঘটনা ঘটে।

নৌকায় নারী-শিশু সহ প্রায় ২৮ যাত্রী ছিল। এ ঘটনায় তিনজনের লা শ উদ্ধার করা হয়। এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছে। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সরেজমিন ঘুরে মঙ্গলবার ওই সাহসী দুই শিশু সহ তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন মানসিক ট্রমায় ভোগছে।

মমতা বীথি ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মানুষ দেখলে কান্না করে ওঠে। ঘর থেকে বের হতেও চায় না। নৌকাডুবিতে কীভাবে বেঁচে ফিরল জিজ্ঞাসা করলে মমতা বলে, আইতের বেলা আন্দার নদীত বাতাস নাউ ডুবে গেলে কই যাইতাছি বুঝতেছিলাম না, সাঁতার জানি না, নদীর পানিতে কোনটা ধইরা ভাইসা গেছি।

মমতা দেওয়ানগঞ্জের চরহলকা হাবড়াবাড়ীর প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর পর কথা হয় পাশের বাড়ির আট বছরের শিশু নয়নের সঙ্গে। সেও মমতার মতোই জানায়, অন্ধকার রাতে নৌকাডুবির পর সারারাত আতঙ্কে চিৎকার করছিল। এভাবে ভেসে ভেসে অনেক দূর চলে যায়।

পর দিন সকালে পাট কাটার লোক এসে তাকে নদীতে ভাসতে দেখে তাদের নৌকায় তুলে উদ্ধার করে। কথা বলার সময় বারবার ভয়ে কেঁপে ওঠে নয়ন। ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আতঙ্কে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। ঘুমের মধ্যে প্রায়ই আঁতকে ওঠে বলে জানান তাদের স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে যমুনার ভাটি এলাকা বগুড়ার সারিয়াকান্দির চন্দনবাইসার ঘুঘুমারী থেকে মমতা বীথি এবং পর দিন শুক্রবার নয়নকে সারিয়াকান্দি থেকে উদ্ধার করা হয়। একই এলাকা থেকে রেজিয়া খাতুনের (৪৫) লা শ উদ্ধার করা হয়। চরহলকা হাবড়াবাড়ীতে নিখোঁজ এবং মৃ তদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

চরহলকা হাবড়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং ইমতিয়াজ বলেন, একেই বলে রাখে আল্লা মারে কে? নৌকাডুবিতে তিনজন মা রা গেছে, এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছে এবং নিষ্পাপ দুটি শিশু জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটিকে অলৌকিক মনে করছেন তিনি।

সুত্র-যুগান্তর।

একটা চামড়া ২০০ আর জুতা ১২০০০ টাকা!

কোরবানির পর পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানিদাতারা। আর কম দামে চামড়া কিনেও বিপাকে পড়েছেন অনেক মৌসুমী ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। এমনকি এতিমখানা ও মসজিদে দানের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে না।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ যারছেন সবাই। চলছে সমালোচনা ও প্রতিবাদ। অনেকে লিখেছেন চামড়া না কিনে শেষ পর্যন্ত এতিমদের হকটাও মেরে খেলেন। আবার কেউ কেউ লিখেছেন আল্লাহ এদের বিচার করুক। স্যোশাল মিডিয়ার উত্তপ্ত হয়ে আছে চামড়া দড় পতন নিয়ে।

ফাহাদ আজম নীল নামে একজন পোস্ট দিয়ে লিখেছিলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীদের এই মহান অপকর্মকে কিভাবে ভোক্তা অধিকার আইনে আনা যায়? একটা চামড়া ২০০ আর জুতা ১২০০০ ! এটা কোনভাবেই মানা যায় না। তার এই পোস্টে অনেকে কমেন্ট করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আইডিয়াও শেয়ার করেছেন অনেকে।

রাসেল আহমেদ লিখেছেন, চামড়া মাটিতে পুতে দিন। সস্তায় বিক্রি না করলেই তো হয়। শরীফ আহমেদ লিখেছেন, ‘সাধারণ মানুষ যদি একটা কোরবানিতে চামড়া বিক্রি না করে মাটিতে পুতে রাখে তাহলে সিণ্ডিকেট ভেঙে যাবে। আট দশ বছর আগেও ছোট সাইজের চামড়ার দাম ১৪০০-১৮০০ মাঝারি সাইজের চামড়ার দাম ১৮০০-২২০০ এবং বড় সাইজের চামড়ার দাম ২২০০-২৮০০ টাকা ছিল।

এখন এভারেজ চামড়ার দাম দেয়া হয় ৪০০-৬০০ টাকা। এ টাকা গরীবের হক। কিন্তু মেরে খাওয়া শেষ। যারা ১০,০০০ টাকা উপরে কোরবানি করতে পারেন তারা চামড়া বিক্রি না করেও গরীবের জন্য ৫০-১০০ টাকা বের করতে পারবে। তাই উচিত চামড়া বিক্রি বন্ধ করে মাটিতে পুতে দেয়া। শুধু একটা বছর এমন করি না আমরা, পুরো সিন্ডিকেট নড়ে চড়ে উঠবে। ধন্যবাদ।’

জহির নামে একজন লিখেছেন, ‘আমাদের সবার উচিৎ জুতার দোকানে যেয়ে যত দামি জুতাই হোক না কেন ৫০০ টাকার বেশি না দেয়া।’ আহমেদ ফয়সাল লিখেছেন, ‘একটি সিগারেট এর চেয়ে ছাগলের চামড়ার দাম কম ভাবা যায় !! আর গরুর চামড়া ১৫০-২৫০/- উপর যায়নি ,প্রতিবাদ একটাই চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখে দেয়া ,আর গরিব,এতিম ,মিসকিন এর হক নিজেরাই দিয়ে দেয়া অনেকেই এবার এভাবে দিয়েছে ,৭০-৮০হাজার দিয়ে গরু কিনতে পারি ১০০০-১৫০০কি দিতে পারবোনা তাদের ??

মাটিতে কেটে পুঁতে ফেলাই হোক উত্তম প্রতিবাদ, দেশের চামড়ার নাকি মুল্য নাই ..Italian ,chinese লেদার লাগে, ঠিক আছে মামা চাইনিজ ইতালিয়ান যা খুশি নেও তোমাদের সিন্ডিকেট বুঝি না আমরা বুঝি !! ১৫০টাকার চামড়া মূল্য মাগার জুতার মূল্য ৩০০০-৫০০০। জনগণ কি জিনিস বুঝবে সামনের ঈদ থেকে।’

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা হবে। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে ব্যবসায়ীদের।