নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে চান ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা…

67

নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে চান- নাম পরিচয়হীন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা তার স্বজনদের খুঁজে পেতে চান। ফিরে যেতে চান স্বামীর ভিটে মাটিতে। কিন্তু কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হীনতার কারণে তার সেই ইচ্ছা পূরণ যেন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জোলার বাতা এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টায় সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম নাম পরিচয়হীন এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। তখন তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। আমরা তাকে অজ্ঞাত হিসেবেই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

পরে সারারাত চিকিৎসা দেয়ার পর সকালে ওই মহিলা কিছুটা কথা বলতে শুরু করেছে। তবে কথাগুলো অগোছালো ও অস্পষ্ট। বৃদ্ধার নাম সামেনা, স্বামী আফসার আলী, গ্রাম হাতীচড়া, রংপুর। বেশ লম্বা ও গায়ের রঙ কালো। এখন ওই নাম পরিচয়হীন মহিলাটি স্বজনদের খুঁজছেন।

ফিরে যেতে চাইছেন নিজ বাড়িতে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সঠিক ঠিকানার অভাবে তার স্বজন দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডা. আমিনুল ইসলাম আরো জানান, অজ্ঞাত ওই মহিলাটির মাথায় বেশ আঘাত রয়েছে। আর কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হীন মনে হচ্ছে।

এখন তার পুর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া দরকার। কিন্তু কোন স্বজনের খোঁজ না পাওয়ায় তাকে এখানেই রাখা হয়েছে। সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গভীর রাতে চৌগ্রাম এলাকায় টহলে যাওয়ার পথে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জোলার বাতা এলাকায় ওই বৃদ্ধাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করা হয়।

পরে রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সুত্র- ঢাকা টাইমস।

১০ মিনিট পর ক্লাসে ফেরায় শিক্ষার্থীকে ছাড় পত্র

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ময়না আক্তার নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গত বুধবার বিকালে ছাড় পত্র দিয়ে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার জের ধরে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মানব বন্ধন করেছেন।

অভিভাবক ও এলাকা বাসী জানায়, জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ময়না আক্তার বুধবার দুপুরে টিফিনের সময় বাইরে যায়। টিফিন শেষে ১০ মিনিট পর ক্লাসে ফেরে। এ সময় প্রধান শিক্ষক বিলম্বে আসার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে ছাড় পত্র দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার কথা জানায়।

পরে ওই শিক্ষার্থীর মা সুলতানা পারভীনকে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষক রানা মন্ডল ডেকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ছাড়পত্র প্রদানের কথা জানিয়ে তাদের স্কুল থেকে বের করে দেন। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে জামালগঞ্জ বাজারের জেডিসি মোড়ে স্কুলের শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকরা মানববন্ধন সহ সমাবেশ করেছেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আছিয়া খানম শম্পা, রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবু, জাহানারা বেগম, নেগার সুলতানা প্রমুখ। জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রানা কুমার মন্ডল জানান,ওই শিক্ষার্থী বুধবার দুপুর ১টার দিকে কাউকে না জানিয়ে স্কুল থেকে চলে যায়।

৩টা ২০ মিনিটে স্থানীয় রকি নামে একটা ছেলে তাকে স্কুলে দিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্কুলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কমিটির সম্মতিক্রমে তাকে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় স্কুলের অফিস সহকারী শাহআলমকে জামালগঞ্জ বাজারে শিক্ষার্থীর পক্ষের লোকজন মা র পিট করে।

স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেন। তবে রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান কবির এ স্কুল কর্তৃপক্ষের ওই অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মুকুল হোসেন সভাপতির বিরোধিতা করেন।

তারই প্রতিশোধ নিতেই ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। যদি ছাড়পত্র দেয়া হয়,তা হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন এলাকাবাসী।