দেশে ফিরে ছোট বোনদের বিয়ে দেওয়া হইল না প্রবাসী ইমরানের

310

সাউথ আফ্রিকা ডা’কা’তের দেওয়া পেট্রোলের আ’গু’নে প্রবাসী ইমরানের মৃ’ত্যু, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন- সাউথ আফ্রিকায় ডা’কা’তের দেওয়া পেট্রোলের আ’গু’নে দগ্ধ হয়ে সন্তানের মৃ’ত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পু’ড়ে ছাই হয়ে গেল বৃদ্ধ বাবা-মার সব স্বপ্ন। দরিদ্র পরিবারের সম্বল জমি টুকু বিক্রি ও ধার-দেনা করে সাত লাখ টাকা যোগাড় করে একমাত্র ছেলেকে সাউথ আফ্রিকায় পাঠান বাবা। আশা পরিবারের দৈন্যদশা দূর হবে। আর্থিক কষ্ট দূর হবে।

আজ (২৩ অক্টোবর) বুধবার ভোরে সাউথ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান তিনি। তার মৃ’ত্যুর খবর বাড়িতে এসে পৌঁছালে বোবা কান্নায় ভে’ঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েন তিনি। এখন শেষ বারের মতো সন্তানের ম’র’দে’হ দেখার প্রতীক্ষায় স্বজনরা।

নি”হ”ত ইমরান মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়াখণ্ড ইউনিয়নের মুজাফফরপুর খলিফাকান্দি এলাকার দুদু মিয়া খলিফার ছেলে। দেড় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে একটি দোকান দেন শিবচরের ইমরান খলিফা (২৮)। গত সোমবার রাতে একদল ব”ন্দু”ক’ধারী হানা দেয় দোকানে। ডা”কাতি শেষে পেট্রোল দিয়ে আ’গু’ন ধরিয়ে দেয় দোকানে। ভেতরে আটকা পড়ে ইমরান।

নি”হ”ত ইমরানের বাবা দুদু মিয়া খলিফা বলেন, আমার একমাত্র ছেলেরে ডা’কা’তরা মা’ই’রা ফালাইছে। ওর মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। ওর লা’শ তাড়াতাড়ি যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয় সরকারের কাছে এটাই আমার দাবি।

ইমরানের খালাত ভাই আব্দুস সালাম জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ওরেঞ্জফার্ম এলাকায় দোকান পরিচালনা করতেন ইমরান। সোমবার রাতে একদল ডা’কা’ত হানা দেয় তাঁর দোকানে। ডা’কা’তি শেষে দোকান আটকে পেট্রল ঢেলে আ’গু’ন ধরিয়ে দেয় ডা’কা’তদল।

এতে মাদারীপুরের শিবচরের ইমরান ও আব্দুর রহিম দ’গ্ধ হন। গু’রু’ত’র অবস্থায় তাঁদেরকে উদ্ধার করে অন্য প্রবাসীরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মা’রা যান ইমরান। দু’গ্ধ রহিম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নি’হ’ত ইমরানের ভগ্নিপতি রুবেল মাতুব্বর জানান, ইমরান বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক টাকা দেনা হয়েছে। সে গত দেড় বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছে। এখনো প্রায় ৫-৭ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। তার স্বপ্ন ছিল দেশের দেনা পরিশোধ করে ছোট বোনদের বিয়ে দেবে। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন সরকার যদি ম’র’দে’হটি দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয় ও একটু সহযোগিতা করে, তাহলে হয়তো পরিবারটি বেঁচে থাকার ভরসা পাবে।

নি’হ’ত ইমরানের বোন রোজিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনের একমাত্র ভাই ছিল ইমরান। আমরা ধার দেনা করে আদরের ভাইটারে বিদেশ পাঠাইছিলাম। ডা’কা’তরা ওরে বাঁচতে দিল না। এখন আমাদের পরিবারের কী হবে। কীভাবে ধার শোধ করবো।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টা দুঃ’খজ’নক। নি’হ’তের পরিবার আমাদের কাছে আবেদন করলে লা’শটি যাতে দেশে আসে আমরা সেই ব্যবস্থা করবো এবং পরিবারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

বিদেশে কর্মস্থলে প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশির…

মালয়েশিয়ার নিলাই এলাকায় আল-মামুন (৪৩) নামে এক বাংলাদেশির মৃ”ত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন) । আজ (২৩ অক্টোবর) বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিলাই কন্সট্রাকশন সাইডে নিজ কর্মস্থলে তার মৃ”ত্যু হয় ।

জানা গেছে, চাদঁপুরের বাগরাবাজারের মো. মোস্তফা কামালের ছেলে আল-মামুন। বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে খাবারের বিরতির সময় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তিনি পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই মৃ”ত্যু হয় তার।

পরে মামুনের সহকর্মীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তার ম”র”দে”হ নিলাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মামুনের ম’র’দেহ দেশে পাঠানো হবে বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ভাগ্য ফেরাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মামুন। বিগত মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া অবৈধদের বৈধ হওয়া রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় সেলাঙ্গর চেরাসের কেপি গোল্ড লাইন এসডিএন বিএইচডির মাধ্যমে তিনি বৈধ ভিসায় কাজ করছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ভাগ্য ফেরাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মামুন। বিগত মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া অবৈধদের বৈধ হওয়া রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় সেলাঙ্গর চেরাসের কেপি গোল্ড লাইন এসডিএন বিএইচডির মাধ্যমে তিনি বৈধ ভিসায় কাজ করছিলেন।