ত্ব-হা’র স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি : প্রকৃত মেহেদি হাসানের জিডি

106

ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার প্রথম স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ইন্টারনেটভিত্তিক একটি নম্বর থেকে এ মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে যার ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছিল সেই মেহেদি হাসান বলছেন তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এটা করা হয়েছে।

তিনি শুক্রবার নয়া দিগন্তকে জানান, তিনি পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। থাকেন ঢাকায়। তার ছবিসহ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি মর্মাহত, তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন।

তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে কাফরুল থানায় করা জিডিতে মেহেদি হাসান উল্লেখ করেন, অদ্য ১৮/০৬/২০২১ ইং তারিখে রাত্র ১:৪২ ঘটিকার সময় আমার বর্তমান ঠিকানায় কাফরুল থানাধীন উত্তর কাফরুলস্থ বাসা ৫৭৩/২, ৪র্থ তলা,

ফ্ল্যাট ৩/সি বসে ফেইসবুক চালানোর সময় হঠাৎ দেখিতে পাই আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ‘আবু ত্ব-হা আদনানের স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ চাওয়া মেহেদির অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ’ লিখে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত সংবাদটি ফেসবুক, অনলাইন ও ইউটিউবে প্রচার হয়।

তিনি লেখেন, ‘Mehdi Hasan’ এই ফেইক আইডি থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে যা আমার নিজস্ব আইডি নয়। উপরোক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে মেহেদি হাসান নয়া দিগন্তকে জানান, কে বা কারা কী উদ্দেশ্য নিয়ে আমার নাম, ছবি ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করলো বুঝতে পারছি না। আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে চাপে পড়েছি।

নি’রা’প’ত্তা’হী’ন’তা’য় ভোগার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হোক।

উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান পরিচয় দিয়ে ইমোতে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের কাছে মু’ক্তি’প’ণ চাওয়া হয়। তবে সেই পরিচয়টি তখন শনাক্ত করতে পারেনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এ বিষয়ে আদনানের বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম অনন্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর (০৯৬৯৬৯৭৭০৬৪৭) থেকে আমার ভাবি আবিদা নুরের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে।

নাম্বারটি আমার ভাইয়া ব্যবহার করতেন। কিন্তু বহুদিন থেকে সেটি বন্ধ ছিল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে মেহেদি হাসান বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। বলেন, আদনানসহ অন্যরা তাদের কাছে আছে।

টাকাপয়সা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। এসময় তিনি ইমো নাম্বার খুলতে বলেন। পরে ফোন কেটে দেন। আমরা বার বার চেষ্টা করলেও ওই ফোনে কল ঢুকেনি। ভাবির নাম্বারে আমি ইমো খুললে ওই ব্যক্তি ইমোতে মেসেজ করেন এবং সেখানেও তিনি একই ধরনের কথা বলেন ও টাকা চাওয়ার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন।

সবশেষ, নিখোঁজের ৮ দিন পর শুক্রবার দুপুরে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।