স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে মহাদুর্নীতির আঁতুড়ঘর বলে যে চ্যালেঞ্জ দিলেন রাব্বানী

249

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন অবিশ্বাস্য দু’র্নী’তি ও অনিয়ম এই মহামারি করোনাকালেও চরম পর্যায়ে পৌছেছে। তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুর্নীতিমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম রাব্বানী।

মঙ্গলবার (১৮ মে) রাত ১২টা ১০মিনিটের সময় নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল:

‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এদেশের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সকল অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও মহাদুর্নীতির আঁতুড়ঘর। টপ টু বটম সবাই দুর্নীতির সিস্টেমে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে চরম ব্যর্থ সেটা আমরা এই দুর্যোগময় সময়ে একাধিকবার প্রত্যক্ষ করেছি।

আগা থেকে গোড়া একদম ঢেলে সাজাতে হবে, দুর্নীতির শিকড়সমেত তুলে ফেলতে হবে, না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেন! আমাদের দায়িত্ব দেন, চ্যালেঞ্জ করে বলছি তিন মাসের মধ্যে অধিদপ্তর সহ পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় দুর্নীতিমুক্ত না করতে পারলে মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেবো !!’

এর আগে, পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় সচিবালয়ে আটকে রেখে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে।

রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তাঁকে সেখানে একটি কক্ষে আ’ট’কে রাখা হয় এবং তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। পরে বিকেলে সাংবাদিকেরা সচিবালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে রোজিনা ইসলামকে হে’ন’স্তা ও আটকে রাখার প্রতিবাদ করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অনন্য। আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর স্বীকৃতি আছে।

এমন একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা অন্যায়, অনভিপ্রেত। কী কারণে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে হাসপাতালে না নেওয়ার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। রোজিনাকে হে’ন’স্তা করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে।

রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হে’ন’স্তা করা হয়েছে, এ বিষয়ে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথির ছবি তোলার অ’ভি’যো’গ এনে থানায় অ’ভি’যো’গ করা হয়েছে।

রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ’ভি’যো’গে’র পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে।

শাহবাগ থানার সামনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অবস্থান করছেন। রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী। তিনি অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।