জেনে নিন, বেথো শাকে কী উপকারিতা আছে…

355

বেথো শাকে কী উপকারিতা- শহরের মানুষ এই শাকটির নাম খুব বেশি একটা না জানলেও গ্রাম অঞ্চলে অনেকেই জানেন এই শাকের গুণা গুণ সম্পর্কে। এর বিশেষ দিক হলো এটি কোনো জমিতে আলাদা ভাবে চাষ করা হয় না। মাঠে-ঘাটে, পুকুর পাড়ে পথের ধারের জমিতে অযত্নেই গজিয়ে ওঠে এই বথুয়া বা বেথো শাক। মূলত শীতকালেই পাওয়া যায় এই শাক।

তবে এখন খুঁজলে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় বেথো শাক। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংকের মতো গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান। জেনে নেয়া যাক বথুয়া বা বেথো শাকের অশ্চর্য কয়েকটি ওষধিগুণ।

গরম পানি পড়ে ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে গেলে বা ফোসকা পড়লে সেই অংশে বেথো শাক বেটে হালকা করে মাখিয়ে দিন। দেখবেন ত্বকের জ্বালা ভাব দ্রুত কমে যাবে।

অনেকেই আছেন যারা প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে কষ্টে আছেন। বিশেষ করে প্রস্রাবের সময় জ্বালা করাটা বহু মানুষের হয়ে থাকে। এমন হলে বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়ো, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খান। দিনে অন্তত দুই বার এই শরবত খেতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমবে।

ত্বকে শ্বেতি সমস্যা হলে অনেকে তো চিকিৎসকের কাছেও যেতে চান না। তাই ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা কমাতে বেথো শাক অত্যন্ত কার্যকরী।

মুখে ঘা হলে বেথো শাক চিবিয়ে খেতে পারলে বা হালকা করে রান্না করে খেলে ঘা খুব দ্রুত কমে যায়। কিডনিতে পাথর হলে প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাক রস খেতে পারলে উপকার পাওয়া যায়।

পিত্ত, লিভারের সমস্যা বা মলাশয়ের সমস্যা দূর করতে বেথো শাক খুবই উপকারী।

পেঁয়াজের আছে বিশেষ গুণ

পেঁয়াজের মত দরকারি রান্নার উপকরণটি কে না চেনে। পেঁয়াজ ছাড়া তো প্রতিদিনের রান্নাই হয়ে উঠে না। কিন্তু পেঁয়াজ কি শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়াতেই ব্যবহৃত হয়? এটি যে আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারি তা কতজন জানি।

একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা জাতীয় পদার্থ, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। পেঁয়াজে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। এটি ফলিক এসিডের খুব ভাল উৎস। এছাড়া এতে সালফার, ক্রোমিয়ামও আছে।

ঠাণ্ডা–কাশিতে-

ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে সেরা ঘরোয়া চিকিৎসা হচ্ছে পেঁয়াজের রস। কফ কমাতে পেঁয়াজে থাকা তেল দারুণ ভাবে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরল কমাতে-

কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তায় আছেন? খেতে পারেন পেঁয়াজ। কারণ, পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার, আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-সি। এসকল উপাদান সমূহ দেহের চর্বি, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়াম-এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

ঘুমের সমস্যায়-

ঘুমের সমস্যা দূর করতে কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। নিয়মিত খাবার অভ্যাস করলে ঘুমের সমস্যা অবশ্যই দূর হবে।

কানের ব্যথায়-

কানের ব্যথায় পেঁয়াজের রস অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজ এসেনশিয়াল অয়েল সমৃদ্ধ। এই অয়েল কানের ব্যথা দূর করতে দারুণ কাজ করে। পেঁয়াজ টুকরো চুলায় সেঁকে বা সেদ্ধ করে তা থেকে রস বের করে নিন। এই রস কুসুম গরম অবস্থায় কানে লাগালে ব্যথায় আরাম পাবেন।

চুল পড়াতে-

চারপাশের দূষিত পরিবেশের কারণে চুল পড়া সমস্যা বেড়েই চলেছে। চুল পড়া রোধ করার জন্য মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন। পেঁয়াজ চুল পাকার সমস্যাও রোধ করে। পেঁয়াজের রস নিয়মিত ব্যবহারে নতুন চুলও গজাবে।

ত্বকের কালো দাগ দূর-

ত্বকের কালো দাগ দূর করার জন্য পেঁয়াজ ভাল কাজ করে। পেঁয়াজ ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। কালো দাগ সব মিলিয়ে যাবে। কিন্তু যাদের স্কিনে অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের স্কিনে অতিরিক্ত পেঁয়াজ কম ব্যবহার করাই ভাল।

শরীরকে টক্সিন মুক্ত করে-

পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ আছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সালফারে রয়েছে এমিনো এসিড। এই এমিনো এসিডগুলোকে মিথিওনাইন ও সিস্টাইন বলা হয়। এই উপাদানগুলো শরীরকে বিভিন্ন টক্সিন থেকে মুক্ত করে। এছাড়া সীসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামও দূর করে।

হিট স্ট্রোক-

হিট স্ট্রোকে পেঁয়াজ ভাল কাজ করে। হিট স্ট্রোক হলে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব কাঁচা পেঁয়াজের রসের সাথে চিনি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পেঁয়াজ ঠাণ্ডা হওয়ায় এর রস পায়ের পাতায় ঘষলেও বেশ উপকার পাওয়া যায়।

জন্ডিস-

জন্ডিসের জন্য একটি পেঁয়াজের এক-চতুর্থাংশ সারা রাত লেবুর রসে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে এই পানি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।