জেনে নিন গোলমরিচের ৫ টি গুণাগুণ…

73

গোলমরিচের ৫ টি গুণাগুণ- রান্নাঘরে গোলমরিচ তো সবারই থাকে৷ কিন্তু জানেন কী এই গোলমরিচের গুণাগুণ৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই গোলমরিচ ওষধিরও কাজ করে৷ সকালে খালি পেটে ইষদুষ্ণ পানির সঙ্গে যদি গোলমরিচ খেতে পারেন তা আপনার বহু সমস্যার সমাধান করবে৷

১. আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলে, খালি পেটে গোলমরিচ সেবন করলে তা মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে৷ যা শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি দেয়৷ যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যও গোলমরিচ খুব উপকারী৷

২. ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থাকলে এই গোলমরিচ কিন্তু অব্যর্থ৷ হাল্কা উষ্ণ পানির সঙ্গে গোলমরিচ খান৷ এটি আপনার শরীরে পানির অভাব তৈরি হতে দেবে না৷ ত্বকের রুক্ষ্মতা হঠাতেও এর জুড়ি নেই৷

৩. গোলমরিচ কিন্তু অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতেও কার্যকরী৷ ইষদুষ্ণ গরম পানির সঙ্গে গোলমরিচ খেলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমে৷ ক্যালরি বার্ন করতেও উপকারী৷ যাদের সর্দি লাগার ধাত আছে তারাও গোলমরিচ খেলে উপকার পাবেন৷

৪. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পানির সঙ্গে গোলমরিচ খেলে উপকার পাবেন৷ এক কাপ পানিতে লেবুর রস ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন৷ সামান্য বিট লবনও দিতে পারেন৷ কিছুদিন খেলেই এর উপকারিতা বুঝতে পারবেন৷

৫. বলবর্ধক হিসাবেও ব্যবহার করা হয় গোলমরিচ৷ হাল্কা গরম পানিতে গোলমরিচ মিশিয়ে খান৷ টানা কয়েকদিন খেলেই বুঝবেন কাজে এনার্জি পাচ্ছেন৷ অ্যাসিডের সমস্যা দূর করতেও কার্যকরী গোলমরিচ৷ শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গোলমরিচ খুবই উপকারী৷

থাইরয়েড সুস্থ রাখবে যেসব খাবার

থাইরয়েড একটি পরিচিত রোগ। থাইরয়েডের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। তবে এই সমস্যা বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে অনেক বুঝতে পারেন না। আমাদের অনেকের থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। এটি একটি জটিল সমস্যা। বহুদিন বয়ে বেড়াতে হয়।

থাইরয়েড কি ?

থাইরয়েড হলো গলার দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি। এই গ্রন্থির কাজ হল আমাদের শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা। শরীরের জন্য এ থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে।

থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম। থাইরয়েড হলে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। আপনার শরীরে যদি এসব লক্ষণের কোনোটা দেখতে পান, তবে বুঝবেন থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন।

আপনি জানেন কি? খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এমন কিছু খাবার রয়েছে যা খেলে ভালো থাকবে থাইরয়েড। আসুন জেনে নেই থাইরয়েড সুস্থ রাখবে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

সবুজ শাকসবজি-

সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিনের খাবার রেসিপিতে সবুজ শাকসবজি রাখুন। সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন ও ক্লোরোফিলের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই দুটি উপাদান শরীরের কার্যকারিতা বাড়ায় ও শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে থাইরয়েডের কার্যক্রম ধরে রাখে। এছাড়া থাইরয়েডের দুর্বলভাব দূরে করে শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

সামুদ্রিক সবজি-

আয়োডিন সমৃদ্ধ সামুদ্রিক সবজিতে রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান। এসব সবজি থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়ানো, শরীরে থাইরক্সিন অত্যাবশ্যক এবং এটা গঠনে আয়োডিন সাহায্য করে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার-

দেহ সুস্থ রাখতে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের জুড়ি নেই। থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়াতে দই খাওয়া যেতে পারে। দইয়ে আছে আয়োডিন এবং প্রোবায়োটিক যা থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রাখে। এছাড়া ডিম, জিংক থাইরয়েডের কার্যকারিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

থায়রয়েড সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন না-

কিছু খাবার রয়েছে যা কখনোই খাবেন না। এসব খাবার এড়িয়ে চলছে ভালো থাকবে আপনার থায়রয়েড। গ্লুটেইন , শষ্য-জাতীয় খাবার যা আঁশ সমৃদ্ধ, চিনি ও কড়া ভাজা খাবার ও সয়া-ধর্মী খাবার একদমই খাবেন না।

কখন চিকিৎসা প্রয়োজন-

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি যা সাধারণত আয়োডিনের অভাব থেকে হয়। থাইরয়েড হরমোনে অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি পায়। থাইরয়েড গ্রন্থির টিউমার ও ক্যান্সার।