চিকিৎসার জন্য এসে গৃহবন্দী হলেন কাশ্মীর শ্রীনগরের মেয়র

68

চিকিৎসার জন্য এসে গৃহবন্দী হলেন কাশ্মীর- কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরের মেয়র জুনায়েদ আজিম মাত্তুকে মঙ্গলবার গৃহবন্দী করা হয়েছে।

অধিকৃত রাজ্যটির স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদ ও অচলাবস্থায় বহু লোক তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করায় এবার তাকে নিশানা করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কুইন্টের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন মাত্তু। কিন্তু ফিরে যাওয়ার পরই তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে মেয়রের গতিবিধি আগে থেকেই সীমিত করে দেয়া হয়েছিল। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাশ্মীরের রাস্তায় কোনো লা শ পড়ছে না বলে এমনটা কল্পনা করা খুবই অবাস্তবিক যে কাশ্মীরের স্বাভাবিকতা ফিরেছে।

অচলাবস্থা চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, বললেন এই মেয়র। তিনি বলেন, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের আটক রাখার নীতি পুরোপুরি কাজ করছে। কাশ্মীরে এখন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

এনডিটিভিকে জুনায়েদ আজিম বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলই বর্তমান সংকটের কারণ। কারণ এই স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই কাশ্মীরিদের পরিচয় নির্ধারিত হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সবসময়ই স্পষ্টভাবে সহিংসতার হু ম কি র মধ্যে থাকি।

এটা কোনো নতুন দৃশ্যপট না। কিন্তু সেটাকে ব্যবহার করে কাশ্মীরিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়াকে ন্যায্যতা দেয়া হচ্ছে, যেটা কাশ্মীরিদের এই বিচ্ছিন্নতাবোধের মূল কারণ। সুত্র-যুগান্তর।

রাহুলের ডিমোশনে প্রিয়াংকার প্রমোশন…

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে এসেছিলেন কংগ্রেসের সদ্যপদত্যাগী সভাপতি রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াংকা গান্ধী। তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

লোকসভায় লজ্জার হারের পর পদত্যাগ করেছেন রাহুল। উচ্চশিখর থেকে একেবারে শূন্যে; যেন চরম ডিমোশন। ভাইয়ের এ ডিমোশনে প্রমোশন হচ্ছে বোন প্রিয়াংকার। শিগগিরই তিনি পুরো উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে নিউজ ১৮।

২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হবে। ভোটকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রিয়াংকা। জেলাস্তরে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন তিনি। কংগ্রেস সূত্রের খবর, প্রিয়াংকা ইতিমধ্যে কয়েকজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। গত লোকসভা ভোটে দলের যে প্রার্থীরা হেরে গিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

জেলাস্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে দলকে চাঙ্গা করতে তিনি শিগগিরই বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। গত ফেব্রুয়ারিতে রাহুল বলেছিলেন, কংগ্রেস ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশে সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

তিনি বলেছিলেন, আমি প্রিয়াংকা ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিয়েছি। আমি চাই না আমাদের দল এ রাজ্যে দুর্বল হয়ে থাকুক। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার গঠিত হওয়া উচিত। উত্তরপ্রদেশে জয়ের আশাবাদ জানিয়ে রাখলেও লোকসভায় পরাজয়ে নিজ পদ থেকে স্বইচ্ছায় পদত্যাগ করেন রাহুল।

দলীয় ইচ্ছার বাইরে গিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দল কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী। দলের হাল ধরতে ধীরে ধীরে নিজেকে পোক্ত রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রিয়াংকা। সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জবাব দিতে শুরু করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের অর্থনৈতিক মন্দার সমালোচনা করেন প্রিয়াংকা। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শতবার মিথ্যা বলেও একে সত্যে পরিণত করা যাবে না। বিজেপি সরকারের এটা মেনে নেয়া উচিত যে, দেশে এখন ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক মন্দা চলছে।